পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব

পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব

পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে দুটি ভিন্নধর্মী মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়— 1. গ্রীষ্মকালীন আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং 2. শীতকালীন শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু । পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু অনেকাংশে এই দুই মৌসুমি বায়ু দ্বারা প্রভাবিত হয় । যেমন— 

ঋতু পরিবর্তন 

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমন অনুসারেই পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুকে 4 টি ঋতুতে ভাগ করা হয় — 1. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রাক আগমনকালীন সময়কাল বা গ্রীষ্মকাল , 2. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনকাল বা বর্ষাকাল , 3. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনকাল বা শরৎকাল এবং 4. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর আগমনকাল বা শীতকাল । 

ঋতুকালীন বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ 

কেবল ঋতু বিভাজনই নয় , পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর ঋতুকালীন বৈশিষ্ট্যও মৌসুমি বায়ুর প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল । 

শীতকালীন উষ্ণতা হ্রাস 

ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হয় । এই বায়ু শীতল বলে পশ্চিমবঙ্গের তাপমাত্রা অনেক কমে যায় । এজন্য এই সময়টিকে বলে শীতকাল । এ ছাড়া উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু শুষ্ক বলে শীতকালে পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিপাত তেমন হয় না ।

গ্রীষ্মকালীন উষ্ণতা বৃদ্ধি 

ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিক থেকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় নেয় এবং জুন মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটে । এই দুই বায়ুর আসা যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়কালে অর্থাৎ , মার্চ মাস থেকে মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের উষ্ণতা যথেষ্ট বৃদ্ধি পায় । এজন্য এই সময়টিকে বলে গ্রীষ্মকাল ।

বৃষ্টিপাত সংঘটন 

জুন থেকে সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় । দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আৰ্দ্ৰ বলে এইসময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং বৃষ্টিপাত হয় । এজন্য বছরের এই চার মাসকে বলে বর্ষাকাল । 

সাময়িক উষ্ণতা বৃদ্ধি 

অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রত্যাবর্তন করে বলে আকাশ মেঘ মুক্ত থাকে এবং উষ্ণতা সাময়িকভাবে বেড়ে যায় । তবে এরপরই উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর আগমনের পটভূমি তৈরি হতে থাকে বলে উষ্ণতাও ক্রমশ কমতে থাকে । এই সময়টিকে বলে শরৎকাল ।

error: Content is protected !!