ক্রেবস চক্র কাকে বলে

ক্রেবস চক্র কাকে বলে

সবাত শ্বসনের যে পর্যায়ে গ্লাইকোলাইসিসে উৎপন্ন পাইরুভিক অ্যাসিড সম্পূর্ণ জারিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার জৈব অ্যাসিড তৈরির মাধ্যমে একটি চক্রাকার পথে CO2 জল এবং শক্তি উৎপন্ন করে , তাকে ক্রেবস চক্র বলে । 

ক্রেবস চক্রে উৎপাদিত বিভিন্ন জৈব অ্যাসিডগুলির মধ্যে প্রথম উৎপাদিত দ্রব্য সাইট্রিক অ্যাসিড হওয়ায় , এই চক্রকে সাইট্রিক অ্যাসিড চক্র বলে । সাইট্রিক অ্যাসিডে তিনটি কার্বক্সিল বর্গ ( –COOH ) থাকায় একে ট্রাই কার্বক্সিলিক অ্যাসিড চক্র বা TCA চক্র এবং প্রথম পর্যবেক্ষক ইংরেজ বিজ্ঞানী হ্যানস ক্রেবস ( Hans Krebs – 1937 ) এর নামানুসারে একে ক্রেবস চক্র বলে । 

ক্রেবস চক্র কোথায় ঘটে

ক্রেবস চক্রটি কোশীয় অঙ্গাণু মাইটোকনড্রিয়ার মধ্যে ঘটে । 

ক্রেবস চক্র প্রক্রিয়া

সবাত শ্বসনের দ্বিতীয় পর্যায়ে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পাইরুভিক অ্যাসিড কো-এনজাইম A নামক উৎসেচকের সাহায্যে অ্যাসিটাইল CO-A উৎপন্ন করে ক্রেবস চক্রে প্রবেশ করে এবং অক্সালো-অ্যাসেটিক অ্যাসিডের ( 4-C ) সঙ্গে বিক্রিয়া করে সাইট্রিক অ্যাসিড ( 6C ) উৎপন্ন করে । এই সাইট্রিক অ্যাসিড বিভিন্ন উৎসেচকের সহায়তায় এবং কয়েকটি অন্তবর্তী যৌগ তৈরির মাধ্যমে পুনরায় অক্সালো-অ্যাসেটিক অ্যাসিডে ( 4-C ) পরিণত হয় । ক্রেবস চক্রে পাইরুভিক অ্যাসিড 6 অণু অক্সিজেনের সহযোগে সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে 6 অণু CO2 , 6 অণু H2O এবং 686 Kcal শক্তি উৎপন্ন করে । সবাত শ্বসনের ফলে মোট 38 অণু ATP উৎপন্ন হয় ।

ক্রেবস চক্রের তাৎপর্য 

( i ) জীবের বিভিন্ন বিপাকীয় কার্যের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির প্রধান উৎসস্থল । 

( ii ) এর মাধ্যমে উদ্ভিদে বিভিন্ন ধরনের জৈব অ্যাসিড উৎপন্ন হয় । 

( iii ) উৎপন্ন জৈব অ্যাসিড নাইট্রোজেন বিপাক বিশেষ করে অ্যামাইনো অ্যাসিড সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত । 

( iv ) ক্রেবস চক্রে উৎপন্ন জৈব অ্যাসিডগুলি উদ্ভিদের জৈব অ্যাসিড বিপাকে অংশ নেয় ।

আরো পড়ুন : সবাত শ্বসন কাকে বলে

গ্লাইকোলাইসিস কাকে বলে

শ্বসন কাকে বলে

error: Content is protected !!