সন্ধান কাকে বলে 

সন্ধান কাকে বলে 

যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় শ্বসনবস্তু ( গ্লুকোজ ) অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ব্যাকটিরিয়া , ইস্ট জাতীয় ছত্রাকের দেহকোশে আংশিকভাবে জারিত হয়ে বিভিন্ন জৈব যৌগ সৃষ্টি করে এবং শ্বসন বস্তুস্থিত শক্তির আংশিক নির্গমন ঘটে , তাকে সন্ধান বলে । 

সন্ধান একপ্রকার অবাত শ্বসন প্রক্রিয়া । ইস্ট নামক এককোশী ছত্রাকের মধ্যে বিজ্ঞানী পাস্তুর সন্ধান প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেন । অবাত শ্বসন এবং সন্ধান ( Pasteur – 1857 ) প্রথম কোহল উভয় পদ্ধতি মুক্ত অক্সিজেন ছাড়াই ঘটে । পদ্ধতি দুটির জারণ ক্রিয়া আবার হাইড্রোজেন পরমাণু অপসারণের মাধ্যমে হয় । অবাত শ্বসনে হাইড্রোজেন পরমাণু অক্সিজেনযুক্ত কোনো অজৈব যৌগের ( CO3 , SO4 , NO3 ইত্যাদি ) সঙ্গে মিলিত হয় । অপরদিকে সন্ধানে ঐ হাইড্রোজেন পরমাণু পুনরায় পাইরুভিক অ্যাসিড অথবা পাইরুভিক অ্যাসিড থেকে উৎপন্ন কোনো জৈব পদার্থের সঙ্গে মিলিত হয় । 

সন্ধানের স্থান

কতিপয় বায়ুজীবী ও অবায়ুজীবী আণুবীক্ষণিক জীবের দ্বারা সন্ধান প্রক্রিয়া ঘটে । সরল শর্করা দ্রবণে প্রধানত ইস্ট দ্বারা এবং দুধে ল্যাক্টোব্যাসিলাস ব্যাকটিরিয়া দ্বারা সন্ধান প্রক্রিয়া ঘটে । এছাড়া উদ্ভিদের অঙ্কুরিত বীজে , প্রাণীদেহের পেশিকোশে এবং আণুবীক্ষণিক জীবদেহেও সন্ধান চলে । 

সন্ধান এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব

অর্থনৈতিক দিক থেকে সন্ধান প্রক্রিয়ার ব্যবহারিক গুরুত্ব অপরিসীম । 

( i ) অ্যালকোহল বা সুরা প্রস্তুতি । 

( ii ) গবেষণাগারে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে বহুল ব্যবহৃত ইথাইল অ্যালকোহল । 

( iii ) দই , ভিনিগার ইত্যাদি প্রস্তুতিতে । 

( iv ) পাউরুটি ও বিস্কুট কারখানায় । 

( v ) নানাবিধ খাদ্য সামগ্রী ও রাসায়নিক শিল্পজাত দ্রব্য প্রস্তুতিতে

সন্ধান প্রক্রিয়ার প্রকারভেদ 

সাধারণত দুই ধরনের সন্ধান প্রক্রিয়া দেখা যায়— 

( i ) কোহল সন্ধান 

( ii ) ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধান  

( iii ) অ্যাসেটিক অ্যাসিড সন্ধান ।

কোহল সন্ধান :

যে সন্ধান প্রক্রিয়ায় শর্করা দ্রবণ ( মুখ্যত গ্লুকোজ ) ঈষ্ট নামক ছত্রাকের দেহ নিঃসৃত জাইমেজ নামক উৎসেচকের প্রভাবে আংশিকভাবে জারিত হয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড , ইথাইল অ্যালকোহল উৎপন্ন করে এবং আংশিক শক্তির নির্গমন ঘটায় তাকে কোহল সন্ধান বলে ।

বিক্রিয়ার রাসায়নিক সমীকরণ—

C6H12O6 ⟶(উৎসেচক) + 2CH3CO COOH( পাইরুভিক অ্যাসিড ) ⟶ 2C2H5OH + 2CO2( ইথাইল অ্যালকোহল ) + 36K.Cal শক্তি

ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধান :

যে সন্ধান প্রক্রিয়ায় জীবাণু এবং পেশিকোশে শ্বসন বস্তু ( মুখ্যত গ্লুকোজ ) উৎসেচকের প্রভাবে হাইড্রোজেন অপসারণের দ্বারা আংশিকভাবে জারিত হয়ে শুধুমাত্র ল্যাকটিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে এবং আংশিক শক্তির নির্গমন ঘটে তাকে ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধান বলে । 

বিক্রিয়ার রাসায়নিক সমীকরণ—

C6H12O6 ⟶(উৎসেচক) + 2CH3COOH( পাইরুভিক অ্যাসিড ) ⟶ 2CH3CHOHCOOH + 36K.Cal শক্তি

অ্যাসেটিক অ্যাসিড সন্ধান :

যে প্রক্রিয়ায় শর্করা কতিপয় ব্যাকটেরিয়ার দেহে উৎসেচকের প্রভাবে ভিনিগার প্রস্তুতকারক অ্যাসেটিক অ্যাসিডে পরিণত হয় , তাকে অ্যাসেটিক অ্যাসিড সন্ধান বলে ।

আরো পড়ুন : শ্বসনের গুরুত্ব বা তাৎপর্য

শ্বাস অঙ্গ কাকে বলে

সালোকসংশ্লেষের গুরুত্ব বা তাৎপর্য

error: Content is protected !!