সালোকসংশ্লেষের গুরুত্ব বা তাৎপর্য

সালোকসংশ্লেষের গুরুত্ব বা তাৎপর্য

সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার তাৎপর্য নীচে আলোচনা করা হল ।  

খাদ্য সংশ্লেষ ( Food synthesis ) 

সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় CO2 , H2O , আলো ও ক্লোরোফিল থেকে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে । এই কার্বোহাইড্রেট থেকে শ্বেতসার , প্রোটিন ও স্নেহজাতীয় খাদ্য সংশ্লেষিত হয় । এসব খাদ্যের সামান্য অংশ উদ্ভিদ জৈবনিক কাজে ব্যয় করে এবং বাকি অংশ দেহের বিভিন্ন অঙ্গে জমা রাখে । প্রত্যেকটি প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাদ্য গ্রহণ করে জীবন ধারণ করে । খাদ্য ছাড়া কোনো জীব বাঁচতে পারে না । 

শক্তির রূপান্তর ও সঞ্চয় ( Transformation and Storage of Energy ) 

সবুজ উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে শোষণ করার পর রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং কার্বোহাইড্রেট অণুতে আবদ্ধ করে । খাদ্যে সঞ্চিত সৌরশক্তি প্রকৃতপক্ষে স্থৈতিক শক্তি ( Potential energy ) । প্রাণীরা এই খাদ্য গ্রহণ করার পর কোশের মধ্যে জারণ প্রক্রিয়ায় স্থৈতিক শক্তি গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে তাপশক্তি হিসাবে প্রকাশিত হয় । এই উৎপন্ন শক্তি জীবের বৃদ্ধি , চলন , সংবহন ও নানা প্রকার শারীরবৃত্তীয় কাজ চালাতে পারে । 

বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের ভারসাম্য রক্ষা ( Maintenance of O2 and CO2 balance ) 

জীব বায়ুমণ্ডল থেকে শ্বাসনের সময় অক্সিজেন গ্রহণ করে । প্রতিটি জীবকোশে দিনরাত শ্বসন চলে । জীব সবসময় অক্সিজেন গ্রহণ করার জন্য বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করার ফলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায় । কিন্তু সালোকসংশ্লেষের সময় উদ্ভিদ অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে । এর ফলে বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং জীবকুলকে বাঁচিয়ে রাখে । 

অক্সিজেনের সরবরাহ ( Supply of oxygen ) 

শ্বসনের জন্যে অক্সিজেনের প্রয়োজন । সালোকসংশ্লেষের সময় অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয় । এই অক্সিজেন গ্রহণ করে প্রাণীরা দিনরাত শাসকার্য চালায় । 

বায়ুশোধন ( Purification of air ) 

শ্বসনের সময় জীবকুল অক্সিজেন গ্রহণ কবে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে । এই কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করতে পারত । কিন্তু সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার সময় উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে দূষিত বায়ুমণ্ডলের পরিশোধন করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ায় । এর ফলে জীবকুলের বেঁচে থাকার সহায়ক হয় । 

জ্বালানির উৎস ( Source of fuel ) 

শিল্পে কাঠ , কয়লা , পেট্রোল প্রভৃতি যা কিছু ব্যবহৃত হয় সেগুলির উৎস হল উদ্ভিদ । তাপ ও বিদ্যুৎশক্তি উৎপন্ন হয় অধিকাংশ উদ্ভিদ জ্বালানির মাধ্যমে । পেট্রোল এবং কয়লার সঞ্চিত সৌরশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করা সম্ভব । তাই একমাত্র সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়াই শক্তির রূপান্তর ও খাদ্যে শক্তি সঞ্চিত করতে পারে । 

মানব সভ্যতায় সালোকসংশ্লেষ ( Photosynthesis and human civilization ) 

সালোকসংশ্লেষের উপর মানব সভ্যতার অগ্রগতি অনেকটা নির্ভরশীল । তুলো , রেয়ন , সেলোফেন , কাগজ , প্লাস্টিক , রবার প্রভৃতি পরোক্ষভাবে সালোকসংশ্লেষজাত উপাদান । বিভিন্ন প্রকার উপক্ষার কুইনাইন , মরফিন , রেসারপিন ইত্যাদি ওষুধ আমরা উদ্ভিদ থেকে পাই । কাঠ , কয়লা পেট্রোল প্রভৃতির জ্বালানির মধ্যে যে শক্তি নিহিত থাকে , তা হল বহু বছর আগে উদ্ভিদদেহে সংরক্ষিত সৌরশক্তি । সুতরাং সালোকসংশ্লেষের উপর জীবকূল সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ।

আরো পড়ুন : সালোকসংশ্লেষ কাকে বলে

সালোকসংশ্লেষকে অঙ্গার আত্তীকরণ বলা হয় কেন

error: Content is protected !!