ফ্রান্সে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল

ফ্রান্সে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল

ফ্রান্সের জুলাই রাজতন্ত্র সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি । শেষ পর্যন্ত ১৮৪৮ খ্রীষ্টাব্দের গণ অভ্যুত্থান জুলাই রাজতন্ত্রের পতন ঘটায় । কিন্তু ফরাসী জনগণ অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না করে প্রজাতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট হন । 

ফ্রান্সে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পটভূমি

লুই ফিলিপের দুর্বলতা :

জুলাই রাজতন্ত্র প্রথম থেকেই ছিল দুর্বল । জনগণের শুভেচ্ছা নিয়ে লুই ফিলিপ সিংহাসনে বসেছিলেন ঠিকই , কিন্তু তাঁর আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও জনগণ তাঁর প্রশাসনের প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেনি । কোন রাজনৈতিক দলই ফিলিপের নীতিকে সমর্থন করেনি । 

‘ লেজিটিমিস্ট দল ’ লুই ফিলিপের সিংহাসনারোহণে সন্তুষ্ট ছিল না । তারা চেয়েছিল ফরাসী সিংহাসনে একমাত্র ‘ বুরবোঁ’দের ন্যায্য অধিকার রয়েছে । সেক্ষেত্রে আর্লিয়েন্স বংশীয় লুই ফিলিপের মনোনয়ন তাদের বিচারে ছিল অনধিকার প্রবেশ । বোনাপার্টিস্ট দল একমাত্র বোনাপার্ট বংশীয় ব্যতীত কাউকে ফরাসী সম্রাট রূপে গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিল না । 

আবার সমাজতান্ত্রিক দল চেয়েছিলেন নবগঠিত লুই ফিলিপের সরকার সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে ব্যাপক হারে প্রয়োগ করুন । তাই সমাজতান্ত্রিক দল বারবার শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন দাবি করতে থাকে । ভোটদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি , প্রতিনিধি সভার গঠন পরিবর্তন ইত্যাদি তাদের কাঙ্ক্ষিত ছিল ।

বুর্জোয়া শাসন ব্যবস্থার ত্রুটি :

লুই ফিলিপের শাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল মধ্যবিত্তশ্রেণী দ্বারা । সুতরাং মধ্যবিত্তদের স্বার্থরক্ষা ছিল তাঁর প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য । তাঁর প্রধানমন্ত্রী গিজো ছিলেন রক্ষণশীল । তিনি উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে আইনসভাকে একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন । তিনি নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে এমন ব্যক্তিদের আইনসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচনে জিতিয়ে এনেছিলেন , যাদের বিবেক বলে কিছুই ছিল না । তাঁরা নির্দ্বিধায় শিল্পপতি , পুঁজিপতি ও উচ্চ ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত বুর্জোয়াশ্রেণীর স্বার্থরক্ষা করে গেছেন । ফলে সাধারণ কৃষক , শ্রমিক , খেটে খাওয়া মানুষ লুই ফিলিপের প্রতি বিদ্বিষ্ট ছিল । 

পররাষ্ট্র নীতির ব্যর্থতা :

অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রের অসন্তোষ সমূহকে চমকপ্রদ পররাষ্ট্র  নীতি গ্রহণ করে প্রশমিত করা হয়ত সম্ভব ছিল । কিন্তু সে ক্ষেত্রেও লুই ফিলিপ চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হন । গৌরবলিপ্স ফরাসী জনগণের প্রত্যাশা ছিল লুই ফিলিপ শক্তিশালী বিদেশ নীতি অবলম্বন করবেন । অন্তত ইতালী , পোল্যাণ্ড , বেলজিয়াম প্রভৃতি দেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ফরাসী সরকার তাদের সমর্থন ও সাহায্য করবেন । 

কিন্তু অস্ট্রিয়ার ভয়ে তিনি ইতালী বা পোল্যাণ্ডকে সাহায্য করেননি । বেলজিয়ামকে সাহায্য করলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পামারস্টোনের হস্তক্ষেপের ফলে ফ্রান্স সেখানে নিষ্প্রভ হয়ে যায় । নিকট প্রাচ্যে সমস্যা সৃষ্টি হলে সেখানেও লুই যথাযথভাবে ফ্রান্সকে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন । 

দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা 

এইভাবে অভ্যন্তরীণ নীতির স্থাণুত্ব ও বৈদেশিক নীতির ব্যর্থতা লুই ফিলিপের শাসনের প্রতি ফরাসী সাধারণ মানুষকে বিদ্বিষ্ট করে তোলে । সমাজতান্ত্রিক ও প্রজাতান্ত্রিকরা মিলিতভাবে আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করে । দেশব্যাপী শুরু হয় বিক্ষোভ আন্দোলন । লুই ফিলিপ সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য হন ( ১৮৪৮ খ্রীঃ ) । বিপ্লবীগণ ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে । এইভাবে শুরু হয় ‘ দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের ’ । 

দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র পরিচালনার জন্য প্রথমে একটি সাময়িক সরকার গঠিত হয় । স্বতন্ত্রভাবে প্রজাতন্ত্রী দল লা মার্টিনের নেতৃত্বে সাতজন সদস্য ও সমাজতন্ত্রীদল লুই ব্লাঙ্কের নেতৃত্বে তিনজন সদস্য নিয়ে সরকার গঠন করে । সাময়িক সরকারের আয়ু ছিল প্রায় আড়াই মাস । এই সরকার প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার স্বীকার করে নেয় । মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সামরিক বাহিনীতে যোগদানের অধিকার যোগ্যতা সম্পন্ন সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় । এই সরকার ‘ সবার জন্য কাজের অধিকার ’ স্বীকার করে নেয় । শ্রমিক সমস্যা বিবেচনার জন্য একটি স্থায়ী ‘ শ্রম কমিশন ’ গঠিত হয় এবং বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ‘ জাতীয় কর্মশালা ‘ ( National Workshop ) গঠিত হয় । 

অভ্যন্তরীণ কলহ :

সাময়িক সরকারের নেতৃত্বে সংবিধানসভা গঠনের জন্য নির্বাচন ডাকা হয় । ১৮৪৮ এর এপ্রিলে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয় । মে মাসে সংবিধান সভার অধিবেশন শুরু হয় । প্রসঙ্গত স্মরণীয় যে , সংবিধান সভার নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিকরা খুব কম সংখ্যক আসনে জয়ী হয় । 

তাই সংবিধান সভা দেশের শাসন পরিচালনার জন্য যে পাঁচ সদস্যা বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করে , তাতে কোন সমাজতান্ত্রিক সদস্যকে নেওয়া হয়নি । এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সমাজতান্ত্রিক দল এক অভ্যুত্থানের দ্বারা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে । কিন্তু তা ব্যর্থ হয় । অধিকাংশ বামপন্থী নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় । বিভিন্ন বামপন্থী ক্লাব ও সংগঠনগুলি ভেঙে দেওয়া হয় । জাতীয় কর্মশালা বন্ধ করে দেওয়া হয় । এককথায় প্রজাতান্ত্রিক সদস্যরা সমাজতান্ত্রিকদের ইচ্ছানুযায়ী গৃহীত সমস্ত সিদ্ধান্তগুলি বাতিল করে দেয় । 

জুন অভ্যুত্থান :

এমতাবস্থায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকশ্রেণী সমাজতন্ত্রীদের নেতৃত্বে প্যারিসের রাস্তা অবরোধ ( ব্যারিকেড ) রচনা করে । তারা সরকারী বাহিনীর সাথে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হয় । সেনাপতি ক্যাভাকন্যাক নিষ্ঠুর বর্বরতার দ্বারা এই বিক্ষোভকে দমন করেন । চারদিন ধরে ( ২৩-২৬শে জুন ) চলে নির্বিচার গুলিবর্ষণ । সেনাবাহিনীর গুলিতে কয়েক হাজার শ্রমিক নিহত হয় এবং বেশ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে বন্দী করে নির্বাসনে পাঠানো হয় । 

প্রজাতন্ত্রের জনপ্রিয়তা হ্রাস :

ডেভিড টমসনের মতে , “ জুনের গৃহযুদ্ধের ফল ছিল শোচনীয় ও সুদূরপ্রসারী । ” ভিক্টর হুগো এর মতে , ‘ জুনের রক্তঝরা দিনে বর্বরতার দ্বারা সভ্যতাকে রক্ষা করা হয় ; এটি খুব দুঃখের বিষয় । জুন অভ্যুত্থানের পরেই দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের বিপর্যয় শুরু হয় । 

( ১ ) এই নিষ্ঠুরতার ফলে জনগণ প্রজাতন্ত্রের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে ; 

( ২ ) এর ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় । ব্যবসাবাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে ফ্রান্সে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হয় । কৃষকশ্রেণীর এই ধারণা জন্মায় যে , প্রজাতান্ত্রিক সরকার দেশে শান্তি শৃঙ্খলা স্থাপনে ব্যর্থ । তাই তারাও স্থিতিশীল সরকারের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে । 

( ৩ ) অবস্থার সামাল দিতে প্রজাতান্ত্রিক সরকারও জনমতকে অগ্রাহ্য করে কেবল দমন পীড়ন দ্বারা তাদের শাসন ক্ষমতা বজায় রাখতে চেষ্টা করে । এর অনিবার্য ফলস্বরূপ একনায়কতন্ত্রী স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হতে থাকে । 

দুটি ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত :

এই সময়ে নবগঠিত সরকারের দুটি সিদ্ধান্ত নিজের পতনকে অনিবার্য করে তোলে । প্রথমত , রাজকোষের সংকট মোচনের জন্য সরকার কৃষকদের প্রদেয় করের উপর ফ্রাঁ পিছু ৪৫ সেন্টিম কর বৃদ্ধি করে । এতে কৃষকশ্রেণী ভীষণ অসন্তুষ্ট হয় । দ্বিতীয়ত , নতুন সংবিধানে দেশের সর্বময় প্রশাসনিক কর্তৃত্ব দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতির হাতে । বলা হয় রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন । তাঁর কার্যকালের মেয়াদ হবে ৪ বছর । ৭৫০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচিত আইনসভা থাকলেও , রাষ্ট্রপতির উপর আইনসভার কোন কর্তৃত্ব স্বীকৃত ছিল না । এই ত্রুটিপূর্ণ সংবিধান প্রবর্তিত হওয়ার ফলে একনায়কতন্ত্র স্থাপনের পথ প্রশস্ত হয় । 

একনায়কতন্ত্রের পথে ফ্রান্স

নতুন সংবিধান অনুসারে নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে জয়লাভ করেন নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ভ্রাতুষ্পুত্র লুই নেপোলিয়ন বা তৃতীয় নেপোলিয়ন । তিনি প্রজাতন্ত্রীপ্রার্থী ক্যাভাক্ন্যাককে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন । নেপোলিয়নের এই বিজয় আশ্চর্যজনক হলেও অসম্ভব ছিল না । কারণ সেই মুহূর্তে ফরাসী জনগণ প্রজাতান্ত্রিক আদর্শ এবং প্রজাতান্ত্রিক সরকারের কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছিল না । ১৮৪৮ এর বিপ্লব ছিল একটি দুর্ঘটনা মাত্র । 

বলা যেতে পারে , প্রজাতন্ত্রের প্রতি অনুরাগ থেকে নয় , নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের প্রতি অনাস্থা থেকেই “ এই বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছিল । সেই সঙ্গে ‘ নেপোলিয়ন ‘ নামের মোহ জনমানসকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল । তৃতীয় নেপোলিয়নের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের মানুষ আবার বোনাপার্টীয় যুগের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে প্রত্যাবর্তন করতে চেয়েছিল । তা ছাড়া , প্রজাতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক গাঁটছড়া বাঁধার সম্ভাবনা দেশের ভূস্বামী ও কৃষকদের আশঙ্কিত করছিল । তারাও নিরাপত্তার স্বার্থে স্বৈরাচারী শাসনে ফিরে যেতে উদগ্রীব ছিল ।

রাষ্ট্রপতি পদ লাভ করে সংবিধান অনুসারে তিনি আইনসভার নির্বাচন করেন । এক্ষেত্রেও প্রজাতান্ত্রিক প্রার্থীদের বিপর্যয় ঘটে । নতুন আইনসভার রাজতান্ত্রিক ও বোনাপার্টিস্টরা সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করে । ফ্রান্সে প্রজাতন্ত্রের ভিত যে যথেষ্ট দুর্বল একথা প্রমাণিত হয়ে যায় । 

এই ঘটনায় উৎসাহ বোধ করেন তৃতীয় নেপোলিয়ন । কারণ মানসিকভাবে তিনি ছিলেন স্বৈরাচারী ও একক ক্ষমতার অভিলাষী । রাজতন্ত্রী প্রভাবিত আইনসভা ১৮৫০ খ্রীষ্টাব্দে যথাক্রমে ‘ ফ্যালক্স আইন ’ এবং ‘ ভোটাধিকার আইন ’ জারি করে নেপোলিয়নের উৎসাহকে বাড়িয়ে দেয় । 

প্রথম আইন দ্বারা শিক্ষাক্ষেত্রে যাজকদের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় । দ্বিতীয় আইনটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ । এতে বলা হয় , কোন ব্যক্তি অন্তত তিন বছর কোন স্থানে একাদিক্রমে বসবাস না করলে ভোটাধিকার পাবে না । এর ফলে প্রায় ত্রিশ লক্ষ ফরাসী , যারা অধিকাংশই শ্রমিক , তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় । 

দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের অবসান 

এইভাবে চারবছর অতিক্রান্ত হয় । সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি  পদের মেয়াদ ছিল চার বছরের । তাই নেপোলিয়ন নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন । আইনসভার সাথে তাঁর মতভেদ চূড়ান্ত আকার নেয় । এমতাবস্থায় তিনি ‘ ভোটাধিকার আইন ‘ পাল্টানোর প্রস্তাব দিলে আইনসভা তা নাকচ করে দেয় । জনমনে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটে । 

তারা মনে করে যে , তৃতীয় নেপোলিয়ন সর্বজনীন ভোটাধিকারের পক্ষে । জনমনের ধারা বুঝতে পেরে তিনি আইনসভা ভেঙে দেন । এক গণভোটের দ্বারা রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ দশ বছর করেন । নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনিই বিপুল গণসমর্থন নিয়ে পুনরায় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন ( ১৮৫২ খ্রীঃ ) । নতুন সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির যে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ছিল , তা প্রয়োগ করতে নেপোলিয়ন দ্বিধা করেননি । এই বিপুল জনপ্রিয়তা তাঁকে আরও একধাপ অগ্রসর হতে প্ররোচিত করে । তিনি প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘোষণা করে নিজেকে ‘ ফ্রান্সের সম্রাট ’ বলে ঘোষণা করেন ( ১৮৫২ খ্রীঃ ) । 

গৌরবলিপ্স ফরাসী জনসাধারণ প্রজাতন্ত্রের প্রতি ছিল বিদ্বিষ্ট । তারা লুই নেপোলিয়নের মধ্যে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের প্রতিচ্ছবি অবলোকন করলেন । তাই বিনা বাধায় তাঁরা স্বাগত জানালেন সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নকে । এইভাবে ১৮৪৮ এ অধিষ্ঠিত হয়ে ১৮৫২ তে দেশের ইতিহাসে প্রায় কোন আঁচড় না কেটেই অবসিত হয় দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রের ।

আরো পড়ুন : তৃতীয় নেপোলিয়নের অবদান আলোচনা করো

তৃতীয় নেপোলিয়নের অভ্যন্তরীণ সংস্কার গুলি আলোচনা করো

error: Content is protected !!