জৈন ধর্মের মূল শিক্ষা

জৈন ধর্মের মূল শিক্ষা

মহাবীর তাঁর পূর্ববর্তী তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের ধর্মনীতিকেই মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন । জৈন ধর্মের মূল শিক্ষাগুলি হল— 

চতুর্যাম 

পার্শ্বনাথ প্রচারিত চারটি মূল নীতি ছিল— ( i ) অহিংসা , ( ii ) মিথ্যা না বলা ( সত্যবাদিতা ) , ( iii ) চুরি না করা ( অচৌর্য ) এবং ( iv ) পরদ্রব্য গ্রহণ না করা ( অপরিগ্রহ ) । এগুলি চতুর্যাম নামে খ্যাত । 

পঞ্চমহাব্রত 

মহাবীর চতুর্যামের চারটি নীতি গ্রহণ করেন এবং তার সঙ্গে আরও একটি নীতি যোগ করেন । এই পঞ্চম নীতিটি হল ব্রহ্মচর্য , অর্থাৎ সংযমপূর্ণ পবিত্র জীবন যাপন করা । পঞ্চমহাব্রত নামে খ্যাত এই পাঁচটি নীতিই জৈন ধর্মের সারকথা ।  

ত্রিরত্ন 

মুক্তি লাভের উপায় হিসেবে মহাবীর তিনটি পথ নির্দেশ করেছেন , যথা — সৎ বিশ্বাস , সৎ আচরণ ও সৎ জ্ঞান । এই তিনটি নীতি ত্রিরত্ব নামে খ্যাত । জৈনরা কঠোর কৃচ্ছসাধনে বিশ্বাসী ছিলেন । 

দর্শন 

জৈন ধর্মে ঈশ্বরের অস্তিত্বকে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়নি । জৈন মতে , বিশ্ব সৃষ্টি ও তা রক্ষার পেছনে কোনো দৈব অনুগ্রহ নেই । এই বিশ্ব অনন্ত । জৈনরা জীব বা প্রাণের ব্যাপক অস্তিত্বে বিশ্বাসী । তাঁদের মতে , প্রাণ শুধু প্রাণী জগতে নেই , লতা , গুল্ম , মাটি , পাথর , ধাতু সবেতেই প্রাণ আছে । জীব ও অজীবে কোনো তফাত নেই । কেবল বস্তুর অনুষঙ্গে তারা ভিন্ন হয় । এই বস্তুটি হল কর্ম । 

এই কর্মের বন্ধনই জীবকে অপবিত্র করে তোলে । কর্মফল ভোগ করতেই জীবের পুনর্জন্ম ঘটে । এই কর্ম বন্ধন ছিন্ন করতে পারলেই জীবের মোক্ষ বা মুক্তি লাভ ঘটবে । এ ছাড়া কৃচ্ছসাধনকেই জৈনরা শাশ্বত সত্যকে জানার একমাত্র উপায় বলে মনে করতেন । অনশনরত অবস্থায় মৃত্যুকে পরম পুণ্যের পরিচায়ক বলে মনে করা হত ।

আরো পড়ুন : জৈন ধর্মের প্রভাব

বৌদ্ধ ধর্ম ও জৈন ধর্মের মধ্যে পার্থক্য

গিল্ড বা বণিক সংঘ কী

error: Content is protected !!