পরবর্তী বৈদিক যুগে আর্যদের অর্থনৈতিক জীবন 

পরবর্তী বৈদিক যুগে আর্যদের অর্থনৈতিক জীবন 

পরবর্তী বৈদিক যুগে কৃষি , শিল্প ও বাণিজ্য — সর্বক্ষেত্রেই অগ্রগতি ঘটেছিল । এই যুগে গ্রাম ও নগর ভিত্তিক মিশ্র অর্থনীতির সূচনা হয় । 

কৃষির বিস্তার 

কৃষিকাজে লোহার তৈরি লাঙলের ফালের ব্যবহার এবং ৬ , ৮ , ১২ ও ২৪ টি ষাঁড়ে টানা ভারী লাঙল দিয়ে চাষ করার ফলে কৃষির উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছিল । এই যুগে উৎপাদিত শস্য হল যব , ধান , গম ও তিল । পরবর্তী বৈদিক যুগে কৃষিক্ষেত্রে একটি নতুন মালিকানাভোগী অভিজাত শ্রেণির সৃষ্টি হয় । 

পশুপালন 

কোনো কোনো গোষ্ঠী পশুপালন করলেও এই শ্রেণি সংখ্যা ক্রমশ কমে আসে । হাতিকে পোষ মানিয়ে যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা হয় । 

শিল্পে অগ্রগতি 

বৃত্তি জন্মগত হয়ে ওঠায় একশ্রেণির কারিগরের উদ্ভব হয় । এদের মধ্যে কর্মার ( কর্মকার ) , কৌলাল ( কুম্ভকার ) , মণিকার ( জহুরি ) , ইম্বুকার ( তির নির্মাতা ) , ধনুষ্কার ( ধনুক নির্মাতা ) , হিরণ্যকার ( স্বর্ণকার ) ও রথকার ( রথ নির্মাতা ) ইত্যাদির নাম করা যায় । বস্ত্র শিল্পীদের মধ্যে ছিল পশম শিল্পী , রেশম শিল্পী , কার্পাস শিল্পী ও শণ শিল্পী । 

ব্যাবসা বাণিজ্যের প্রসার 

যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপুল উন্নতির কারণে পরবর্তী বৈদিক যুগে অন্তর্বাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্য উভয়েরই প্রসার ঘটেছিল । ব্রাহ্মণ ও সংহিতাগুলিতে এযুগের সামুদ্রিক বাণিজ্যের উল্লেখ পাওয়া যায় । এ যুগে ব্যবসায়ীরা গিল্ড ( guild ) বা সংঘ গড়ে তুলেছিল । ওজনের একক ছিল মানকৃষ্ণল ; ঋক বৈদিক যুগে ব্যবহৃত স্বর্ণ মুদ্রা নিষ্ক এ যুগেও প্রচলিত ছিল । ‘ ব্রাহ্মণ ’ ও ‘ সংহিতা’গুলিতে এ যুগের সামুদ্রিক বাণিজ্যের উল্লেখ পাওয়া যায় ।

আরো পড়ুন : ঋক বৈদিক যুগে আর্যদের অর্থনৈতিক জীবন

বৈদিক যুগে জাতিভেদ প্রথা

হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসের বা পতনের কারণ

error: Content is protected !!