পরবর্তী বৈদিক যুগের আর্যদের ধর্মীয় জীবন 

পরবর্তী বৈদিক যুগের আর্যদের ধর্মীয় জীবন 

পরবর্তী বৈদিক যুগে আর্যদের ধর্ম জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছিল । 

দেবতাদের গুরুত্বের ক্ষেত্রে পরিবর্তন 

পরবর্তী বৈদিক যুগে প্রজাপতি ব্রহ্মা সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হন । ঋক বৈদিক দেবতা রুদ্র এ যুগে শিবে রূপান্তরিত হন , একই সঙ্গে ঋক বৈদিক যুগের গুরুত্বহীন দেবতা বিষ্ণুর মর্যাদা বাড়ে । 

পুরোহিতদের সংখ্যা ও মর্যাদা বৃদ্ধি 

যাগ যজ্ঞের জটিলতা ও গুরুত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরোহিত শ্রেণির সংখ্যা ও মর্যাদা দুই-ই বৃদ্ধি পায় । যজ্ঞাচার বিধি পালনের দায়িত্বের নিরিখে পুরোহিতদের মধ্যে ব্রাহ্মণ ( সর্বোচ্চ পুরোহিত ) , হোত্রী ( আহ্বায়ক ) , উদগাত্রী ( গায়ক ) ও অধ্বর্য্য ( মন্ত্র পাঠক ) —এই চারটি শ্রেণির উদ্ভব হয় । 

মুক্তির পথ সম্পর্কে দার্শনিক তত্ত্বের উদ্ভব 

পরবর্তী বৈদিক যুগে কর্মফল ও জন্মান্তরবাদকে নিয়ে নতুন এক দর্শনের জন্ম হয় — এই দর্শন তত্ত্ব অনুসারে মানুষ এ জন্মের কর্মফল পরজন্মে ভোগ করে । আরণ্যকে ধ্যানের মাধ্যমে মুক্তি , অথর্ব বেদে সন্ন্যাস গ্রহণে মুক্তি আর পতঞ্জলির ভাষ্যে যোগ সাধনায় মুক্তির কথা বলা হয়েছে ।

শাণ্ডিল্য ও যাজ্ঞবল্কের এই অধ্যাত্মবাদী দর্শনের পাশাপাশি ঋষি উদ্দালকের বস্তুবাদী দর্শন তত্ত্বও সে যুগের বহু মানুষকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল । এই বস্তুবাদী দর্শনে বলা হয় — ঈশ্বর , পরজন্ম ও আত্মা বলে কিছু নেই ; মৃত্যুতেই মানুষের সব কিছুর অবসান ঘটে ।

আরো পড়ুন : ঋক বৈদিক যুগে আর্যদের ধর্মীয় জীবন

ঋক বৈদিক সমাজে নারীর স্থান

বৈদিক যুগে জাতিভেদ প্রথা

error: Content is protected !!