ঋক বৈদিক যুগে আর্যদের ধর্মীয় জীবন

ঋক বৈদিক যুগে আর্যদের ধর্মীয় জীবন

ঋক বেদ মূলত একটি ধর্মগ্রন্থ , ঋকবেদ থেকে তাই আর্যদের ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্মীয় রীতিনীতি সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা গড়ে ওঠে । ঋকবৈদিক আর্যদের ধর্ম ও ধর্ম জীবনের বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ — 

সর্বপ্রাণবাদে বিশ্বাস

ঋক বৈদিক আর্যরা আদিম সর্বপ্রাণবাদে , সর্বত্র প্রাণের অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিলেন । 

সর্বত্র ঈশ্বরের অস্তিত্ব অনুভব 

ঋক বৈদিক যুগে আর্যরা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ , পূর্ণিমা , অমাবস্যা , সূর্যোদয় , সূর্যাস্ত ও জোয়ার ভাটা ইত্যাদি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের চেতন-অচেতন সমস্ত বস্তু এবং প্রাকৃতিক শক্তি ও দৃশ্যগুলির ওপর দেবত্ব আরোপ করে সেগুলির বন্দনা করত । 

পুরুষ দেবতার প্রাধান্য 

ঋক বৈদিক ধর্মে পুরুষ দেবতাদেরই প্রাধান্য ছিল , নারী দেবতারা সংখ্যায় ও গুরুত্বে ছিলেন নিতান্তই হীন । ঋক বৈদিক আর্যদের স্বর্গীয় দেবতাদের মধ্যে প্রাচীনতম দেবতা হলেন দৌঃ এবং দেবী হলেন পৃথ্বী । 

ঋক বেদে সব দেবতার উদ্দেশে সমান সংখ্যক স্তোত্র উৎসর্গ করা হয়নি ; উৎসর্গীকৃত স্তোত্র সংখ্যার বিচারে দেবতাদের ক্রমপর্যায়গুলি হল – ( i ) ইন্দ্র , ( ii ) অগ্নি , ( iii ) বরুণ , ( iv ) সোম । 

এ ছাড়া ঋক বৈদিক অন্যান্য দেবতাদের মধ্যে মিত্র , মরুৎ , পর্জন্য , সূর্য , যম , বায়ু এবং রুদ্র প্রভৃতির নাম করা যায় । 

অপৌত্তলিকতা ও একেশ্বরবাদ 

বহু দেবদেবীর আরাধনা করলেও আর্যরা পৌত্তলিক ছিল না বরং তারা ছিল একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী । 

যাগযজ্ঞ ও বলিদান 

ঋক বৈদিক আর্যদের ধর্মের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল যজ্ঞানুষ্ঠান ও বলিদান প্রথা । যজ্ঞ উপলক্ষ্যে ষাঁড় বলি দেওয়া হত , যজ্ঞানুষ্ঠান পরিচালনার একচেটিয়া অধিকার ব্রাক্ষ্মণ পুরোহিতদের হাতে থাকায় পুরোহিতের গুরুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে ।

আরো পড়ুন : বেদ কয় প্রকার ও কি কি

বৈদিক যুগের ধর্মীয় জীবন

সভা ও সমিতি কাকে বলে

ভারতে আর্যদের আগমন

হরপ্পা সভ্যতা ও ঋক বৈদিক সভ্যতার সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য

error: Content is protected !!