ঋক বৈদিক যুগে আর্যদের অর্থনৈতিক জীবন

ঋক বৈদিক যুগে আর্যদের অর্থনৈতিক জীবন

কৃষি , পশুপালন , কারিগরি শিল্প এবং কিছু পরিমাণে ব্যাবসা বাণিজ্যের ওপর দাঁড়িয়েছিল ঋক বৈদিক আর্যদের অর্থনীতি ।  

কৃষি ও পশুপালন 

আর্যরা যখন ভারতে আসে তখন তারা ছিল অর্ধ যাযাবর একটি উপজাতি বিশেষ । সেই সময়ে তাদের অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল ছিল । কিন্তু এদেশে বসতি স্থাপনের পর আর্যরা ক্রমশ কৃষিকাজে মন দেয় , কৃষিই হয়ে ওঠে তাদের মূল জীবিকা । 

ঋগ্বেদে জমিকৰ্ষণ , বীজবপন , জমিতে সার দেওয়া , জলসেচ , শস্য কাটা , শস্য মাড়াই ও ফসল গোলায় তোলার উল্লেখ আছে । সে যুগে উৎপাদিত ফসলের মধ্যে যব ছিল প্রধান , সম্ভবত স্থানীয় অনার্যদের কাছ থেকে আর্যরা ধান চাষের কৌশল রপ্ত করেছিল । 

তাদের পালিত পশুর মধ্যে ছিল গোরু , ঘোড়া ও ভেড়া । কৃষিকাজের মূল অবলম্বন ও খাদ্যের উৎস হিসেবেই শুধু নয় , মূল্যের একক ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবেও গোরুর মূল্য ছিল অসীম । যুদ্ধের প্রয়োজনে ও পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার প্রয়োজন হত । পশমের জোগান দিত বলে ঋক বৈদিক অর্থনীতিতে ভেড়ারও যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল । 

কারিগরি শিল্প 

পশম বয়ন , রথ নির্মাণ এবং ধাতু ও মৃৎশিল্প ছিল সে যুগের প্রধান কারিগরি শিল্প ।

ব্যাবসা বাণিজ্য 

ঋক বৈদিক যুগে স্থল ও জলপথে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য চলত । তবে আর্যরা নয় , অনার্য পণিরা বাণিজ্যে অংশ নিত — প্রাকবৈদিক যুগ থেকেই তারা বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল । তবে তখনকার ব্যাবসা বাণিজ্যের পরিধি বিস্তৃত না হওয়ায় ঋক বৈদিক অর্থনীতিকে তা খুব একটা প্রভাবিত করেনি ।

নিষ্কমনা নামে দু-প্রকার স্বর্ণ মুদ্রার চল থাকলেও সংখ্যায় সেগুলি এত কম ছিল যে বাণিজ্যিক লেনদেনের পক্ষে মোটেই সহায়ক হয়নি , বিনিময়ের মাধ্যমেই সে যুগে ব্যাবসা বাণিজ্য চলত । অধ্যাপক ব্যাসাম এর মতে , নিয়মিত ব্যবসায়ী বা মহাজন সম্প্রদায় বলতে যা বোঝায় ঋক বৈদিক যুগে তার উদ্ভব হয়নি ।

আরো পড়ুন : পরবর্তী বৈদিক যুগে নারীদের সামাজিক অবস্থান

হরপ্পা সভ্যতা ও ঋক বৈদিক সভ্যতার সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য

error: Content is protected !!