ঋক বৈদিক যুগে আর্যদের সামাজিক জীবন

ঋক বৈদিক যুগে আর্যদের সামাজিক জীবন

ঋকবেদ থেকে আর্যদের সামাজিক জীবন সম্পর্কে জানা যায় । 

পরিবার প্রথা 

পিতৃতান্ত্রিক ও একান্নবর্তী পরিবার ছিল ঋক বৈদিক সমাজের ভিত্তি ; পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ হতেন পরিবারের কর্তা , যাঁকে গৃহপতি বলা হত । 

সমাজে নারীর স্থান 

ঋক বৈদিক যুগে নারীরা যথেষ্ট সম্মানের অধিকারিণী ছিলেন । তাঁরা ধর্মীয় ক্রিয়াকর্মে , সামাজিক উৎসব  অনুষ্ঠানে , বিদ্যাচর্চায় , এমনকি যুদ্ধেও অংশ নিতেন । জুহু , পৌলমী ও কামায়নীর মতো নারীরা ধর্মীয় সাধনায় এবং ঘোষা , অপালা ও বিশ্ববারা প্রমুখ মহিলা শাস্ত্রচর্চায় বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন । জীবনসঙ্গী নির্বাচনে মেয়েরা স্বাধীনতা ভোগ করত , বাল্যবিবাহ ও বিধবা বিবাহের চল সমাজে ছিল না । 

বর্ণভেদ প্রথা 

আর্যদের মধ্যে গুণ ও কর্মের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , বৈশ্য ও শূদ্র — এই চার বর্ণের উদ্ভব হয় , পরাজিত অনার্যদের শূদ্র বর্ণভুক্ত করা হয়েছিল । সেসময় বর্ণপ্রথায় কোনোরকম কঠোরতা ছিল না — এক বর্ণের মানুষ নিজ বৃত্তি বা পেশা পরিবর্তন করে অন্য বর্ণের বৃত্তি গ্রহণ করতে পারত । 

চতুরাশ্রম 

ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , বৈশ্য — এই তিন বর্ণভুক্ত আর্যরা তাদের জীবনকে চতুরাশ্রম নামে চারটি আশ্রম বা পর্যায়ে বিভক্ত করেছিল । এই চারটি পর্যায় হল – 

( i ) ব্রহ্মচর্য অর্থাৎ কৌমার্য রক্ষা করে গুরুগৃহে বিদ্যাচর্চার কাল , 

( ii ) গার্হস্থ্য অর্থাৎ যৌবনে বিয়ে করে সংসার ধর্ম পালনের পর্যায় , 

( iii ) বানপ্রস্থ অর্থাৎ প্রৌঢ় অবস্থায় সাংসারিক ব্যাপার থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ঈশ্বর চিন্তার কাল এবং 

( iv ) সন্ন্যাস অর্থাৎ সংসার ত্যাগ করে পরিব্রাজকের জীবন গ্রহণ ও ঈশ্বর চিন্তার পর্যায় ।

খাদ্য 

দুধ , ঘি , ফলমূল , সবজি ও যব ছিল ঋক বৈদিক আর্যদের প্রধান খাদ্য । উৎসবের দিনে গোরুসহ বিভিন্ন পশুর মাংস তারা খেত । পানীয় হিসেবে সুরা ও সোমরস নামে এক বিশেষ ধরনের পানীয় তারা পান করত । 

পোশাক 

সেই যুগে নারী পুরুষের পোশাকে বিশেষ কোনো পার্থক্য ছিল না — তারা নিম্নাঙ্গে বাস ও ঊর্ধ্বাঙ্গে অধিবাস পরিধান করত । এই পোশাক মূলত সুতো , পশম ও হরিণের চামড়া দিয়ে তৈরি হত । 

বিনোদন 

নাচ গান , শিকার , পাশা খেলা ও মুষ্টি যুদ্ধ প্রভৃতি ছিল তাদের বিনোদনের অঙ্গ ।

আরো পড়ুন : সভা ও সমিতি কাকে বলে

ভারতে আর্যদের আগমন

error: Content is protected !!