বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব

বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব

ভারতের আর্থ-সামাজিক , ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে বৌদ্ধ ধর্ম এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব রেখে গেছে । এই প্রভাবগুলি নিম্নরূপ —

সহজ সরল ধর্মাচরণের পথ প্রদর্শন 

জটিল ও ব্যয়বহুল যাগযজ্ঞ কেন্দ্রিক বৈদিক ধর্মাচরণের পরিবর্তে ভারতবাসীকে সহজ সরল ধর্মাচরণের পথ দেখিয়েছিল বৌদ্ধ ধর্ম । 

সামাজিক সাম্যের পথ প্রদর্শন 

বর্ণভেদ প্রথার শ্রেণি বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতাকে বর্জন করে গৌতম বুদ্ধ সামাজিক সাম্যের পথ দেখিয়েছিলেন । এই ধর্মে নারীদের সমানাধিকার দেওয়া হয় । 

মঠ জীবনের সূচনা 

ভারতে সন্ন্যাসীদের সংঘবদ্ধ আশ্রম ভিত্তিক মঠ জীবনের সূচনা হয়েছিল বৌদ্ধ ধর্মের হাত ধরে । পরবর্তীকালে খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে শঙ্করাচার্য ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সন্ন্যাসীদের জন্য মঠ প্রতিষ্ঠা করেন । আধুনিককালে রামকৃষ্ণ মিশনেরও প্রতিষ্ঠা হয়েছে অনেকাংশে বৌদ্ধদের মঠ আদর্শের অনুকরণে । 

বাণিজ্যের প্রসার 

বৌদ্ধ ধর্মে ঋণ দান ও সুদ গ্রহণ এবং সমুদ্র যাত্রাকে অনুমোদন করা হয় । এ ছাড়া এই ধর্মে হিংসা ও যুদ্ধবিগ্রহ বিরোধী প্রচার করা হয় । এর ফলে বাণিজ্যের প্রসার ঘটে । 

পশু হত্যা হ্রাস 

বৌদ্ধধর্ম পশু হত্যার সম্পূর্ণরূপে বিরোধী ছিল । তাই এর প্রসারে সমাজে পশু হত্যার প্রবণতা হ্রাস পায় । 

শিক্ষা , সাহিত্য ও শিল্পের অগ্রগতি 

ভারতে শিক্ষা সংস্কৃতি বিস্তারের ইতিহাসে সোমপুরী , বিক্রমশীলা , ওদন্তপুরী নালন্দা প্রভৃতি বৌদ্ধ বিহারের অবদান অসীম । পালি ভাষার সমৃদ্ধি ও পূর্বভারতের বেশ কয়েকটি অপভ্রংশের উদ্ভবে পূর্ণ অবদান ছিল বৌদ্ধ পণ্ডিত ও বিহারবাসী সন্ন্যাসীদের । গান্ধার শিল্পরীতিতে নির্মিত বুদ্ধ মূর্তি এবং স্তূপ , চৈত্য , মঠ ও বৌদ্ধ গুম্ফা নির্মাণে বৌদ্ধ শিল্পী ও স্থপতিদের অবদান অনস্বীকার্য ।

আরো পড়ুন : গৌতম বুদ্ধের জীবনী ও বাণী

বৌদ্ধ ধর্মের উত্থানের কারণ

বৌদ্ধ ধর্মের পতনের কারণ

গান্ধার শিল্পরীতি ও তার বৈশিষ্ট্য

error: Content is protected !!