রাসায়নিক সমীকরণ কাকে বলে

রাসায়নিক সমীকরণ কাকে বলে  

বিক্রিয়াকারী ও বিক্রিয়াজাত পদার্থের পরমাণুগুলির মধ্যে সমতা বজায় রেখে চিহ্ণ ও সংকেতের সাহায্যে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত ও সাংকেতিক প্রকাশকে রাসায়নিক সমীকরণ ( Chemical equation ) বলে । 

রাসায়নিক সমীকরণ এর উদাহরণ :

( i ) অক্সিজেনের মধ্যে সালফারের দহনের ফলে সালফার ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয় । এই রাসায়নিক বিক্রিয়াটি এইভাবে ভাষায় বর্ণনা না করে এটিকে —

S + O2 = SO2 

এই সাংকেতিক সমীকরণ দিয়ে প্রকাশ করা যায় । একেই রাসায়নিক সমীকরণ বলে । 

( ii ) ধাতব জিঙ্ক লঘু সালফিউরিক অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে জিঙ্ক সালফেট এবং হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে । বিক্রিয়াটিকে চিহ্ন ও সংকেতের সাহায্যে প্রকাশ করলে হয় —

Zn + H2SO4 = ZnSO4 + H2 

এটাই এই বিক্রিয়ার রাসায়নিক সমীকরণ । এখানে ZnH2SO4 বিক্রিয়ক এবং ZnSO4H2 বিক্রিয়াজাত পদার্থ ।

রাসায়নিক সমীকরণের তাৎপর্য 

রাসায়নিক সমীকরণ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার গুণগত এবং পরিমাণগত অনেক তথ্য পাওয়া যায় । 

i. গুণগত তথ্য : রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কী কী বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে এবং কী কী বিক্রিয়াজাত পদার্থ উৎপন্ন করে । তাদের নাম জানা যায় । 

ii. পরিমাণগত তথ্য : ( a ) বিক্রিয়ক এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির অণু ও পরমাণুর সংখ্যা জানা যায় । 

( b ) কত ভাগ ওজনের বিক্রিয়ক পরস্পরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কত ভাগ ওজনের বিক্রিয়াজাত পদার্থ উৎপন্ন করে , তা জানা যায় । অর্থাৎ , বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির ওজনগত সম্পর্ক জানা যায় । 

( c ) বিক্রিয়ক এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলি গ্যাসীয় হলে একই চাপ ও উষ্ণতায় এদের আয়তনের অনুপাত জানা যায় । 

রাসায়নিক সমীকরণের সীমাবদ্ধতা 

রাসায়নিক সমীকরণ থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি জানা যায় না— 

i. বিক্রিয়ক এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির ভৌত অবস্থা অর্থাৎ পদার্থগুলি কঠিন , তরল না গ্যাসীয় তা জানা যায় না । 

ii. বিক্রিয়াটি কোন শর্তে ঘটে অর্থাৎ বিক্রিয়াটি ঘটার জন্য বাইরে থেকে চাপ , তাপ , অনুঘটকের প্রয়োজন আছে কি না তা জানা যায় না । 

iii. বিক্রিয়াটি তাপমোচী না তাপগ্রাহী তা সমীকরণ থেকে জানা যায় না । 

iv. বিক্রিয়াটি একমুখী না উভমুখী তা সমীকরণ থেকে জানা যায় না । 

v. বিক্রিয়াটির গতিবেগ কত বা বিক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে কত সময়ের প্রয়োজন তা সমীকরণ থেকে জানা যায় না ।

রাসায়নিক সমীকরণ লেখার নিয়ম

( i ) একটি ‘ = ‘ চিহ্নের বাঁদিকে বিক্রিয়াকারী ও ডানদিকে বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির সংকেত লেখা হয় । 

( ii ) বিক্রিয়াকারী বা বিক্রিয়াজাত পদার্থ একের বেশি হলে ‘ + ‘ চিহ্ন দিয়ে ওদের সংকেতগুলি যোগ করা হয় । 

( iii ) দু’পাশে একই জাতীয় পরমাণুর সংখ্যা সমান করার জন্য প্রয়োজনবোধে বিক্রিয়াকারী ও বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলির অণুর সংখ্যা বাড়াতে হয় । 

উদাহরণ : আমরা জানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিত হয়ে জল উৎপন্ন করে । এখানে বিক্রিয়াকারী পদার্থগুলির সংকেত H2 এবং O2 , বিক্রিয়াজাত পদার্থের সংকেত H2O । এক্ষেত্রে রাসায়নিক সমীকরণটি হলঃ 2H2 + O2 = 2H2O

error: Content is protected !!