দ্রাব্যতা কাকে বলে

দ্রাব্যতা কাকে বলে 

কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় 100 গ্রাম দ্রাবক সর্বাধিক যত গ্রাম দ্রাব দ্রবীভূত করতে পারে , সেই গ্রাম সংখ্যাকে ওই উষ্ণতায় ওই দ্রাবের দ্রাব্যতা বলে । অর্থাৎ , কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় 100 গ্রাম দ্রাবকে যত গ্রাম দ্রাব দ্রবীভূত হলে সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি হয় দ্রাবের সেই গ্রাম সংখ্যাকে ওই নির্দিষ্ট উষ্ণতায় উক্ত দ্রাবকে ওই দ্রাবের দ্রাব্যতা বা দ্রবণীয়তা বলে । 

নির্দিষ্ট উষ্ণতায় পদার্থের দ্রাব্যতা = সম্পৃক্ত দ্রবণে দ্রাবের ভর ➗ ওই দ্রবণে দ্রাবকের ভর ✖ 100  

দ্রাব্যতা দুটি ভরের অনুপাত বলে এটি একটি সংখ্যা মাত্র ।  এর কোনো একক নেই ।

20°C উষ্ণতায় জলে খাদ্য লবণের দ্রাব্যতা 35 এর অর্থ 

20°C উষ্ণতায় জলে খাদ্য লবণের দ্রাব্যতা 35 এর অর্থ এই যে , 20°C উষ্ণতায় 100 গ্রাম জলে 35 গ্রাম সাধারণ লবণ দ্রবীভূত করলে একটি সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি হবে । 

যদি t°C উষ্ণতায় M গ্রাম দ্রাবকে m গ্রাম দ্রাব দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে তাহলে t°C উষ্ণতায় 100 গ্রাম দ্রাবকে দ্রবীভূত দ্রাবের পরিমাণ হবে ( m ÷ M ) × 100 । সংজ্ঞানুসারে এটাই হল ওই দ্রাবের দ্রাব্যতা । 

আবার যদি t°C উষ্ণতায় x গ্রাম সম্পৃক্ত দ্রবণে y গ্রাম দ্রাব দ্রবীভূত থাকে তাহলে দ্রাবকের ভর ( x – y ) গ্রাম এবং দ্রাবের দ্রাব্যতা y ÷ ( x – y ) x 100 হয় । যেহেতু দ্রাব্যতা দুটি ভরের অনুপাত তাই এর কোনো একক নেই , এটি একটি সংখ্যা মাত্র । 

দ্রাব্যতা কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে 

পদার্থের দ্রাব্যতা তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে— ( i ) পদার্থ বা দ্রাবের প্রকৃতি , ( ii ) দ্রাবকের প্রকৃতি এবং ( iii ) দ্রবণের উষ্ণতা ।  

উষ্ণতার পরিবর্তনে পদার্থের দ্রাব্যতা পরিবর্তিত হয় । তাই কোনো পদার্থের দ্রাব্যতার সংজ্ঞায় উষ্ণতার উল্লেখ করা প্রয়োজন

দ্রাব্যতার উপর উষ্ণতার প্রভাব 

 ( i ) উষ্ণতা বাড়লে বেশির ভাগ কঠিন পদার্থের দ্রাব্যতা বাড়ে এবং উষ্ণতা কমলে দ্রাব্যতা কমে । উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে দ্রাব্যতা বৃদ্ধির হার বিভিন্ন পদার্থের বিভিন্ন হয় । যেমন— উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে পটাসিয়াম নাইট্রেটের ( KNO3 ) দ্রাব্যতা বৃদ্ধির হার খুব বেশি কিন্তু সাধারণ লবণের ( NaCl ) দ্রাব্যতা বৃদ্ধির হার খুব কম । 

যে সব পদার্থ জলে দ্রবীভূত হলে তাপ শোষণ করে , উষ্ণতা বাড়ালে তাদের দ্রাব্যতা বাড়ে । এইসব পদার্থের সম্পৃক্ত দ্রবণের উষ্ণতা কমালে কিছু পদার্থ কেলাসাকারে দ্রবণের নীচে থিতিয়ে পড়ে । 

( ii ) কিছু কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে উষ্ণতা বাড়লে দ্রাব্যতা কমে যায় । যেমন— ক্যালসিয়াম সালফেট ( CaSO4 ) , ক্যালসিয়াম নাইট্রেট , ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড বা কলিচুন প্রভৃতি যৌগের দ্রাব্যতা উষ্ণতা বাড়লে কমে যায় । যে সব পদার্থ জলে দ্রবীভূত হলে তাপের উদ্ভব হয় উষ্ণতা বাড়লে ওই সব পদার্থের দ্রাব্যতা কমে যায় । এইসব পদার্থের সম্পৃক্ত দ্রবণের উষ্ণতা কমালে দ্রবণটি অসম্পৃক্ত দ্রবণে পরিণত হয় । 

( iii ) গ্লবার লবণ বা সোদক সোডিয়াম সালফেটের ( Na2SO4 , 10H2O ) দ্রাব্যতা উষ্ণতা বাড়ালে প্রথমে বাড়ে কিন্তু 32.4°C উষ্ণতার উপরে দ্রাব্যতা ক্রমশ কমে । 

( iv ) উষ্ণতা বাড়লে তরলে গ্যাসীয় পদার্থের দ্রাব্যতা কমে এবং উষ্ণতা কমলে দ্রাব্যতা বাড়ে । জলে কিছু পরিমাণ বায়ু দ্রবীভূত থাকে । জল গরম হলে বায়ুর দ্রাব্যতা কমে ফলে । কিছু বায়ু ছোটো ছোটো বুদ বুদ আকারে জল থেকে বেরিয়ে আসে । 

দ্রাব্যতার উপর চাপের প্রভাব 

নির্দিষ্ট উষ্ণতায় চাপ বাড়ালে তরলের মধ্যে গ্যাসের দ্রাব্যতা বাড়ে এবং চাপ কমালে দ্রাব্যতা কমে । তাই চাপ কমালে তরল থেকে অতিরিক্ত গ্যাস বেরিয়ে আসে । যেমন— সোডা ওয়াটারে উচ্চচাপে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস দ্রবীভূত করা থাকে । তাই সোডা ওয়াটারের বোতলের ছিপি খুললে চাপ কমে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস বেরিয়ে আসে । 

চাপ বাড়ালে গ্যাসের দ্রাব্যতা কীভাবে বাড়ে তা হেনরির সূত্র থেকে জানা যায় । হেনরির সূত্রানুযায়ী , কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের তরলে যে পরিমাণ গ্যাস দ্রবীভূত হতে পারে তা ওই গ্যাসের চাপের সমানুপাতিক ।

error: Content is protected !!