তড়িৎযোজী যৌগ কাকে বলে

তড়িৎযোজী যৌগ কাকে বলে

রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় একাধিক মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ ও বর্জনের মাধ্যমে বিপরীত তড়িৎধর্মী আয়ন গঠন করে এবং ওই বিপরীত তড়িৎধর্মী আয়ন তড়িৎ আকর্ষণের ফলে পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে যৌগ গঠন করে তাকে তড়িৎযোজী যৌগ বলে । 

তড়িৎযোজী যৌগের উদাহরণ : 

ধাতব হ্যালাইডNaCl , KCl , CaCl2 , MgCl2 , AlCl3 , ZnCl2 , NaF , KF , NaBr , KI ইত্যাদি
ধাতব অক্সাইডNa2O , K2O , MgO , CaO , ZnO , Al2O3 , CuO ইত্যাদি
ধাতব সালফাইডNa2S , K2 S , MgS , ZnS , CaS ইত্যাদি
অন্যান্যNaNO3 , Na2SO4 , Na2CO3 , MgCO3 , NaH , CaH2 ইত্যাদি

তড়িৎযোজী যৌগের বৈশিষ্ট্য 

( 1 ) ভৌত অবস্থা : তড়িৎযোজী যৌগগুলি সাধারণত কঠিন কেলাসাকার এবং অপেক্ষাকৃত দৃঢ় হয় কারণ এই যৌগগুলির মধ্যে বিপরীত আধান যুক্ত আয়নের মধ্যে শক্তিশালী স্থির তড়িৎ আকর্ষণ ক্রিয়া করে । 

( 2 ) দ্রাব্যতা : তড়িৎযোজী যৌগগুলি সাধারণত জলে দ্রবীভূত হয় কিন্তু অ্যালকোহল , ইথার , বেনজিনের মতো জৈব দ্রাবকে দ্রবীভূত হয় না । 

( 3 ) গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক : তড়িৎযোজী যৌগগুলির গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সাধারণত বেশি হয় । কারণ তড়িৎযোজী যৌগ সাধারণত কেলাসাকার হয় এবং এই কেলাসের কাঠামো ভাঙতে যথেষ্ট পরিমাণ তাপ শক্তি সরবরাহ করতে হয় । 

( 4 ) তড়িৎ পরিবাহিতা : তড়িৎযোজী যৌগগুলি কঠিন অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে না কিন্তু গলিত বা জলে দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নের চলাচলের সাহায্যে তড়িৎ পরিবহন করে । 

( 5 ) রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রকৃতি : তড়িৎযোজী যৌগের বিক্রিয়া আয়নের মাধ্যমে হয় । তাই বিক্রিয়াগুলি দ্রুতগতি সম্পন্ন ও একমুখী হয় । 

( 6 ) পোলারিটি ( Polarity ) : তড়িৎযোজী যৌগের কেলাস বিপরীত তড়িৎধর্মী আয়ন দ্বারা গঠিত — নিস্তড়িৎ পরমাণু বা অণু দ্বারা নয় । 

( 7 ) বন্ধনের অভিমুখ : একটি আধান বিপরীত আধানকে যে কোনো দিক থেকে আকর্ষণ করতে পারে । তাই তড়িৎযোজী যৌগে বন্ধনের কোনো নির্দিষ্ট অভিমুখ নেই । 

( ৪ ) সমাবয়বতা ( Isomerism ) : একই আণবিক সংকেত যুক্ত বিভিন্ন যৌগকে সমাবয়ব বা আইসোমার ( isomer ) বলে এবং এই ঘটনাকে সমাবয়বতা বা আইসোমেরিজম ( isomerism ) বলে । তড়িৎযোজী যৌগের ক্ষেত্রে সমাবয়বতা দেখা যায় না ।

তড়িৎ যোজ্যতার পরিমাপ 

তড়িৎযোজী যৌগ গঠনের সময় কোনো মৌলের একটি পরমাণু যতগুলি ইলেকট্রন গ্রহণ বা বর্জন করে , সেই সংখ্যা দ্বারা ওই মৌলের তড়িৎ যোজ্যতা পরিমাপ করা হয় । 

একটি পরমাণু থেকে অপর পরমাণুতে ইলেকট্রন স্থানান্তরের মাধ্যমে যে যোজ্যতার প্রকাশ ঘটে , তাকে তড়িৎ যোজ্যতা বলে ।

error: Content is protected !!