অনুঘটক কাকে বলে

অনুঘটক কাকে বলে

যে সমস্ত পদার্থ কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে বিক্রিয়ার গতিবেগকে বাড়ায় অথবা কমায় , কিন্তু বিক্রিয়া শেষে নিজে সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় থাকে , সেই পদার্থকে অনুঘটক বলে । 

অনুঘটকের উদাহরণ

i. ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ( MnO2 ) । পটাশিয়াম ক্লোরেট থেকে অক্সিজেন প্রস্তুতকালে এটি ব্যবহৃত হয় । 

ii. ভ্যানাডিয়াম পেন্টা অক্সাইড ( V2O5 ) । সালফিউরিক অ্যাসিডের পণ্য উৎপাদনকালে এটি ব্যবহৃত হয় । 

অনুঘটকের বৈশিষ্ট্য 

i. অনুঘটক কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া আরম্ভ বা শেষ করতে পারে না । 

ii. অনুঘটক নিজে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না — বিক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে বিক্রিয়ার বেগ বাড়ায় অথবা কমায় । 

iii. বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন পদার্থগুলির পরিমাণ অনুঘটকের ওপর নির্ভর করে না ।

iv. অনুঘটকের ভর এবং রাসায়নিক ধর্ম বিক্রিয়ার আগে এবং পরে একই থাকে । 

v. একটি নির্দিষ্ট অনুঘটকের দ্বারা একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিক বিক্রিয়া প্রভাবিত হয় । ভিন্ন ভিন্ন বিক্রিয়ার জন্য ভিন্ন ভিন্ন অনুঘটকের প্রয়োজন হয় । 

vi. বিক্রিয়ক পদার্থগুলির তুলনায় প্রয়োজনীয় অনুঘটকের পরিমাণ খুব কম হয় । 

ধনাত্মক অনুঘটক কাকে বলে

যে অনুঘটক কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে বিক্রিয়ার বেগ বাড়ায় , তাকে ধনাত্মক অনুঘটক বা পরা অনুঘটক বলে । 

ধনাত্মক অনুঘটকের উদাহরণ

পটাশিয়াম ক্লোরেটকে 630°C উষ্ণতায় উত্তপ্ত করলে পটাশিয়াম ক্লোরেট বিয়োজিত হয়ে পটাশিয়াম ক্লোরাইড ( KCI ) এবং অক্সিজেন উৎপাদন করে । বিক্রিয়াটি ধীর গতিতে হয় । কিন্তু KCIO3 এর সঙ্গে সামান্য ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ( MnO2 ) মিশিয়ে উত্তপ্ত করলে অনেক কম উষ্ণতায় 240°C এ KCIO3 এর বিয়োজন ঘটে KCI এবং O2 উৎপন্ন হয় । 

2KClO3 + [ MnO2 ] = 2KCl + 3O2 + [ MnO2 ] 

এই বিক্রিয়ায় MnO2 এর কোনো রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে না । এক্ষেত্রে MnO2 পরা অনুঘটকের কাজ করে । এ ছাড়া নিকেল চূর্ণ , প্যালাডিয়াম চূর্ণ , প্ল্যাটিনাম চূর্ণ প্রভৃতি পরা অনুঘটকের উদাহরণ । 

ঋণাত্মক অনুঘটক কাকে বলে

যে অনুঘটক কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উপস্থিত থেকে বিক্রিয়ার বেগ কমায় , তাকে ঋণাত্মক অনুঘটক বা অপরা অনুঘটক বলে । 

ঋণাত্মক অনুঘটকের উদাহরণ 

হাইড্রোজেন পারক্সাইড ( H2O2 ) বিয়োজিত হয়ে জল ও অক্সিজেনে পরিণত হয় । কিন্তু H2O2 এর সঙ্গে সামান্য ফসফরিক অ্যাসিড মিশিয়ে দিলে বিয়োজনের গতি কমে যায় । এক্ষেত্রে ফসফরিক অ্যাসিড অপরা অনুঘটকের কাজ করে । 

স্বয়ং অনুঘটক কাকে বলে

কোনো কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিক্রিয়া জাত কোনো একটি পদার্থ অনুঘটকের কাজ করে বিক্রিয়াটিকে প্রভাবিত করে । এই জাতীয় পদার্থকে স্বয়ং অনুঘটক বলে । 

স্বয়ং অনুঘটকের উদাহরণ 

লঘু H2SO4 যুক্ত KMnO4 দ্রবণের সঙ্গে অক্সালিক অ্যাসিডের বিক্রিয়াটি প্রথমে খুবই ধীরে হয় । কিন্তু বিক্রিয়ায় সামান্য ম্যাঙ্গানাস আয়ন ( Mn2+ ) উৎপন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রিয়াটি দ্রুত ঘটতে থাকে । এখানে Mn2+ স্বয়ং অনুঘটক হিসেবে কাজ করে । 

2KMnO4 + 5H2C2O4 + 3H2SO4 = K2SO4 + 2MnSO4 + 10CO2 + 8H2O

অনুঘটক বিষ কাকে বলে

যে পদার্থের উপস্থিতিতে কোনো নির্দিষ্ট অনুঘটকের অনুঘটন ক্ষমতা কমে যায় বা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায় , তাকে অনুঘটক বিষ বলে । 

অনুঘটক বিষ এর উদাহরণ

SO2 কে SO3 -তে জারিত করার সময় ভ্যানাডিয়াম পেন্টা অক্সাইড অনুঘটক হিসেবে কাজ করে , কিন্তু SO2 তে ধূলিকণা মিশ্রিত থাকলে এই অনুঘটকের কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় । এখানে ধূলিকণা অনুঘটক বিষ হিসেবে কাজ করে ।

অনুঘটকের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা 

কোনো বিক্রিয়া ঘটানোর জন্য অনুঘটক ব্যবহারের ফলে বাইরে থেকে প্রযুক্ত শক্তির ( তাপ ) খরচ কম হয় । কিছু কিছু রাসায়নিক পদার্থের শিল্প প্রস্তুতিতে অনুঘটক ব্যবহার করে বিক্রিয়ার গতিবেগ বাড়িয়ে উৎপাদন হার বৃদ্ধি করা হয় । ফলে বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিক থেকে এটি লাভজনক হয় । 

যেমন — স্পর্শ পদ্ধতিতে H2SO4 প্রস্তুতিতে ভ্যানাডিয়াম পেন্টা অক্সাইড ( V2O5 ) অনুঘটক ব্যবহার করে SO3 গ্যাস উৎপাদনের হার বৃদ্ধি করা হয় ।

error: Content is protected !!