রাসায়নিক পরিবর্তন কাকে বলে

রাসায়নিক পরিবর্তন কাকে বলে

যে পরিবর্তনে পদার্থের মূল গঠনের পরিবর্তন হয় এবং পদার্থটি এক বা একাধিক ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট নতুন পদার্থে পরিণত হয় সেই পরিবর্তনকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে ।

রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ

চুনে জল দেওয়া : 

পোড়া চুন ( quick lime ) বা ক্যালসিয়াম অক্সাইডে জল ঢাললে হিস হিস করে শব্দ হয় এবং প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয় । ফলে জল ফুটতে থাকে এবং বিক্রিয়ার ফলে কলিচুন ( slaked lime ) বা ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড উৎপন্ন হয় ।

CaO + H2O = Ca(OH)2

এই কলিচুনের ধর্ম পোড়া চুনের ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা । সুতরাং এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন । 

লোহায় মরচে ধরা : 

একখণ্ড লোহাকে কিছুদিন বাইরে জলীয় আবহাওয়ায় রেখে দিলে লোহার উপর একটি বাদামি রঙের আস্তরণ পড়ে । একেই মরচে বলে । লোহার সঙ্গে বায়ুর অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের বিক্রিয়ায় মরচে তৈরি হয় । মরচে আসলে হল জল যুক্ত ফেরিক অক্সাইড ( 2Fe2O3 , 3H2O ) । এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন পদার্থ , লোহার ধর্মের সাথে এর কোনো মিল নেই । যেমন— লোহা চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় কিন্তু মরচে চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না । সুতরাং লোহায় মরচে ধরা একটি রাসায়নিক পরিবর্তন । 

কয়লা , খড় প্রভৃতি পোড়ানো : 

কয়লা বা খড় বায়ুতে পোড়ালে কয়লা বা খড়ের মধ্যস্থিত কার্বন বায়ুর অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে এবং সামান্য কিছু পরিমাণ ছাই অবশিষ্ট থাকে । 

C + O2 = CO2 

এই ছাই ও কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে কয়লা বা খড় ফিরে পাওয়া যায় না । কার্বন ডাই অক্সাইড ও ছাই এর ধর্ম কয়লা বা খড়ের ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা । অতএব বলা যায় যে কয়লা বা খড় পোড়ানো হল রাসায়নিক পরিবর্তন । 

ম্যাগনেসিয়াম তারের দহন : 

ম্যাগনেসিয়াম তারকে বায়ুর মধ্যে পোড়ালে তারটি তীব্র আলো বিকিরণ করে এবং অবশেষে সাদা পাউডারে পরিণত হয় । আসলে ম্যাগনেসিয়াম ও বায়ুর অক্সিজেনের বিক্রিয়া ঘটে ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড উৎপন্ন হয় । 

2Mg + O2 = 2MgO 

এই ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইডের ধর্ম ম্যাগনেসিয়ামের ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা । সুতরাং এটি রাসায়নিক পরিবর্তন

error: Content is protected !!