রাসায়নিক ধর্ম কাকে বলে

রাসায়নিক ধর্ম কাকে বলে

যে ধর্ম থেকে পদার্থের প্রকৃত রূপ এবং অণুর গঠনের পরিচয় পাওয়া যায় এবং যে ধর্মের প্রকাশে পদার্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য পদার্থে রূপান্তরিত হয় তাকে রাসায়নিক ধর্ম বলে ।

সাধারণত পদার্থের উপর তাপ প্রয়োগ করে , পদার্থের সাথে জল , অ্যাসিড , ক্ষার ও অন্যান্য পদার্থের বিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে পদার্থের রাসায়নিক ধর্মের স্বরূপ নির্ণয় করা হয় । 

রাসায়নিক ধর্মের সাহায্যে পদার্থের শনাক্তকরণ

প্রত্যেক পদার্থের কতকগুলি নিজস্ব রাসায়নিক ধর্ম থাকে যা থেকে পদার্থকে শনাক্ত করা যায় । 

তাপের ক্রিয়া : 

কতকগুলি পদার্থকে উত্তপ্ত করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং নতুন পদার্থ উৎপন্ন হয় । আবার কতকগুলি পদার্থকে উত্তপ্ত করলেও কোনো পরিবর্তন হয় না । যেমন— ম্যাগনেসিয়াম তারকে বায়ুর মধ্যে উত্তপ্ত করলে তারটি উজ্জ্বলভাবে জ্বলতে থাকে এবং বায়ুর অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের সাথে বিক্রিয়ার ফলে ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম নাইট্রাইড উৎপন্ন হয় । 

2Mg + O2 = 2MgO ;

3Mg + N2 = Mg3N2

কিন্তু প্লাটিনাম তারকে খুব উত্তপ্ত করলে এটি শ্বেততপ্ত হয়ে তীব্র আলো বিকিরণ করে এবং তারটি ঠান্ডা করলে প্লাটিনাম আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে । অর্থাৎ উত্তপ্ত করলে প্লাটিনামের কোনো পরিবর্তন হয় না । সুতরাং ম্যাগনেসিয়াম ও প্লাটিনাম তারের উপর তাপের ক্রিয়া দেখে ওদের শনাক্ত করা যায় । 

জলের ক্রিয়া : 

জলের সাথে বিভিন্ন পদার্থের ক্রিয়া দেখেও পদার্থকে শনাক্ত করা যায় । যেমন— পোড়াচুন ( quick lime ) বা ক্যালসিয়াম অক্সাইড ( CaO ) এবং চিনি উভয়েই দেখতে সাদা কিন্তু জলের সাথে এদের ক্রিয়া ভিন্ন রকম হয় । পোড়াচুনে জল ঢাললে হিসহিস্ শব্দ হয় এবং প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় । ফলে জল ফুটতে থাকে এবং বিক্রিয়ার ফলে কলিচুন [ Ca(OH)2 ] উৎপন্ন হয় । 

CaO + H2O = Ca(OH)2

কিন্তু চিনিতে জল ঢাললে চিনি জলে দ্রবীভূত হয় মাত্র । এতে চিনির মূল ধর্মের কোনো পরিবর্তন হয় না । দ্রবণের মধ্যে চিনির মিষ্টতা ধর্ম বজায় থাকে এবং দ্রবণকে ফুটিয়ে জল বাষ্পীভূত করে পুনরায় চিনি ফিরে পাওয়া যায় । 

অ্যাসিডের ক্রিয়া : 

অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া দেখে কোনো কোনো পদার্থকে শনাক্ত করা যায় । যেমন— লঘু সালফিউরিক বা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের মধ্যে জিঙ্কের টুকরো ফেললে বুদবুদ আকারে বর্ণহীন ও গন্ধহীন হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয় । 

Zn + H2SO4 = ZnSO4 + H2

কিন্তু লঘু সালফিউরিক অ্যাসিডের সাথে তামার কোনো বিক্রিয়া হয় না । 

আবার গাঢ় ও উত্তপ্ত সালফিউরিক অ্যাসিডে জিঙ্ক ও তামা উভয়েই বিক্রিয়া করে এবং পোড়া বারুদের মতো ঝাঁঝালো গন্ধ বিশিষ্ট সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয় । 

Cu + 2H2SO4 = CuSO4 + SO2 + 2H2

Zn + 2H2SO4 = ZnSO4 + SO2 + 2H2O

ক্ষারের ক্রিয়া : 

ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া দেখেও অনেক পদার্থকে শনাক্ত করা যায় । যেমন- অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ( NH4CI ) ও সোডিয়াম ক্লোরাইড ( NaCl ) উভয়েই সাদা দানাদার পদার্থ কিন্তু ক্ষারের সাথে এদের বিক্রিয়া একইরকম হয় না । অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের সাথে তীব্র ক্ষার কলিচুন বা ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড মিশিয়ে উত্তপ্ত করলে তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ যুক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন হয় । 

2NH4Cl + Ca(OH)2 = 2NH3↑ + CaCl2 + 2H2

কিন্তু সোডিয়াম ক্লোরাইডের সাথে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর এইরকম বিক্রিয়া হয় না ।

error: Content is protected !!