মার্কসীয় শিক্ষা তত্ত্ব

মার্কসীয় শিক্ষা তত্ত্ব

মার্কস শিক্ষা সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে বা পৃথকভাবে কোথাও বিস্তারিত আলোচনা করেননি । তবে সাধারণ মার্কসীয় দর্শন বিশ্লেষণ করলে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে , আমরা মার্কসীয় শিক্ষাদর্শন সম্পর্কে কিছু অনুমান করতে পারি । মার্কস বলেছেন— “ জ্ঞানের উৎস কি বা জ্ঞানের প্রকৃতি কিরূপ ( Source and nature of knowledge ) আমাদের কাছে কোন সমস্যা নয় । আর তা অনুসন্ধান করতে যাওয়া বৃথা । ” কারণ , তাত্ত্বিক ধারণা আমাদের মূল সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে না । তিনি মনে করেন , কোন কিছু সম্পর্কে জানার অর্থ এই নয় যে , আমরা সেই বস্তু সম্পর্কে পরিপূর্ণ বিশুদ্ধ বস্তুধর্মী জ্ঞান আহরণ করেছি । 

বস্তু জগৎকে ব্যক্তি যে ভাবে আয়ত্তে আনছে , সেভাবেই তাকে সে জানছে । অর্থাৎ , ব্যক্তির জ্ঞান ( Knowledge ) তার সামাজিক অবস্থান দ্বারা নির্ধারিত হয় । কোন বস্তু সম্পর্কে জানতে হলে বা বস্তু জগৎ সম্পর্কে জানতে হলে ব্যক্তিকে তার নিজের সঙ্গে বস্তু জগতের যে সম্পর্ক আছে । ( Relation between himself and the objective world ) , সেটিকে উপলব্ধি করতে হবে । 

সুতরাং মার্কসীয় ধারণা অনুযায়ী জ্ঞানের কোন চরম একক মান থাকতে পারে না । মানুষের জ্ঞান সম্পূর্ণভাবে তার ব্যক্তিগত এবং আপেক্ষিক মূল্যায়নের ফল । সুতরাং , প্রাচীন দর্শনে জীবনের পরম সত্য উপলব্ধিকেই যে পরিপূর্ণ এবং প্রকৃত জ্ঞান হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল , মার্কস তা স্বীকার করেননি । সত্য ( Truth ) কে এককালীন সামগ্রিকভাবে উপলব্ধি করা যায় না । 

মার্কসের এই চিন্তাধারাকে লেনিন ( Lenin ) আরো বিস্তার করেছেন । তিনি বলেছেন- “ Absolute truth is compounded of a sum total of relative truths . Each step in the development of science adds new grains to the sum of absolute truth , but the limits of the truth of each scientific proposition are relative , now expanding . now shrinking with the growth of knowledge ( V. I. Lenin Collected works ) . অর্থাৎ , মার্কসীয় ধারণা অনুযায়ী , মানুষকেই সত্যকে প্রমাণ করতে হবে । 

এক কথায় বলা যায় মার্কস জ্ঞান ( knowledge ) বা সত্যকে ( Truth ) বস্তুগত দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখেছেন । তার চরম তাত্ত্বিক অস্তিত্বের অনুমানের কোন গুরুত্ব মার্কসীয় দর্শনে নেই । শিক্ষাগত দিক থেকে এই দৃষ্টিভঙ্গী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । এই দৃষ্টিভঙ্গীর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার অর্থ কোন কিছু মেনে নেওয়া বা গ্রহণ করা নয় । শিক্ষার অর্থ হল সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা । 

জ্ঞান আহরণের প্রক্রিয়া 

মার্কস জ্ঞান ( Knowledge ) ও সত্য ( Truth ) সম্পর্কে তার মতবাদ উল্লেখ করেই তার কাজ শেষ করেননি । তিনি জ্ঞান আহরণের প্রক্রিয়াও বিশ্লেষণ করেছেন । তার এই নীতিগুলি মার্কসীয় শিক্ষাদর্শ গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে । মার্কস এবং এঞ্জেলস এ সম্পর্কে চারটি নীতির কথা উল্লেখ করেছেন । 

প্রথম নীতিতে , বস্তু জগতের প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের চিন্তন প্রক্রিয়ার ( Thinking process ) সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে । এই নীতিতে বলা হয়েছে , বস্তু জগৎই বাস্তব এবং এই বস্তু জগৎই প্রকৃত জ্ঞানের সামগ্রী । কিন্তু এই বস্তু জগৎ সম্পর্কে চেতনা ও তাকে সঠিকভাবে জানা নির্ভর করছে সামাজিক শর্তের উপর । যেমন উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় , পৃথিবীর বৈশিষ্ট্য যুগে যুগে অপরিবর্তিত আছে ; কিন্তু তার গতি ( Motion ) , আকৃতি ( Shape ) ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞানের যে পরিবর্তন হয়েছে , তা মূলতঃ মানুষের সামাজিক পরিবর্তনের জন্য বা পর্যবেক্ষণ কৌশলের উন্নতির জন্য । সুতরাং , আমাদের জ্ঞানের পরিবর্তন , বস্তুজগতের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে না । এই পরিবর্তন আসলে আমাদের জ্ঞান অর্জনের ক্ষমতার প্রতিফলন মাত্র । 

দ্বিতীয় নীতিতে  বলা হয়েছে বস্তু জগৎকে জানা যায় বা তার সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ সম্ভব । দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের মূল কথা হল পৃথিবীর সব কিছুকে জানা যায় ( Everything is knowable ) । জানা যায় না , এরকম কিছুর অস্তিত্ব বস্তু জগতে নেই । এই নীতির মূল তাৎপর্য এই নয় যে আমরা বস্তু জগৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান আহরণ করতে সক্ষম হয়েছি । এখনও , আমাদের জ্ঞানের বা অভিজ্ঞতার বাইরে , এরকম বস্তুর অস্তিত্ব থাকতে পারে । এইগুলি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করাও আমাদের পক্ষে সম্ভব । এদের সম্পর্কে আমরা তখনই জানতে পারবো , যখন সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বা কারিগরী বিদ্যার আরো উন্নতি ঘটবে । 

তৃতীয় নীতিতে  বলা হয়েছে বস্তু জগৎ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হলে বা তাকে জানতে হলে , ব্যক্তির সক্রিয়তার প্রয়োজন । মার্কসীয় দর্শনে জ্ঞানকে স্থায়ী বা চরম সত্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়নি । জ্ঞানের বিষয় বস্তু যখন নৈর্ব্যক্তিক , তখন জ্ঞান ( Knowledge ) বা সত্য ( Truth ) প্রমাণযোগ্য । তাই বস্তু জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান একক চিন্তার ফল নয় । জ্ঞান আহরণের প্রক্রিয়া একটি জটিল চলমান প্রক্রিয়া । বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ আংশিক জ্ঞান ( Relative truth ) অর্জন করে বা তার আংশিক সত্যোপলব্ধি হয় । বিশিষ্ট মার্কসীয় রাষ্ট্রনায়ক লেনিন ( Lenin ) এই নীতির মূল তাৎপর্যটি ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন- ” Human thought goes endlessly deeper from appearance to essence of the first order , at it were , to essence of the second order , and so on without end . ” অর্থাৎ , এই নীতির প্রকৃত তাৎপর্য হল মানুষের জ্ঞান আহরণের প্রক্রিয়া জীবনব্যাপী চলতে থাকে । 

চতুর্থ নীতিতে  মানুষের জ্ঞান আহরণে তার নিজস্ব ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে । সক্রিয়তা বা প্রয়োগমূলক অনুশীলন জ্ঞান আহরণের মূল প্রক্রিয়া । এখানে সক্রিয়তা বলতে মার্কস , মানুষের বহুমুখী বস্তু জগৎকেন্দ্রিক বাস্তব প্রচেষ্টাকে বুঝিয়েছেন । কোন বিশেষ মুহূর্তে ব্যক্তির সক্রিয়তা তার বর্তমান সামাজিক বিকাশের উপর নির্ভরশীল । আবার এই সক্রিয়তার মূল উদ্দেশ্য হল — সমাজ প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটানো । সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণ করে , মার্কস তাই মন্তব্য করেছেন— “ We see that solution of theoretical opposites is possible only through practice , only through man’s practical energies , and that for this reason their solution is by no means the task of cognition alone , but an actual and vital task which philosophy could bot solve because its approach was purely , theoretical . ( Marx – Engels : Collected works . vol – III ) ” 

মার্কসীয় দর্শনে শিক্ষার গুরুত্ব 

জ্ঞান আহরণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে পূর্বোক্ত মার্কসীয় নীতিগুলির শিক্ষাগত তাৎপর্য অনেক ব্যাপক , মার্কসীয় ধারণা অনুযায়ী জ্ঞান যেহেতু জনগণের এবং সমাজ অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে আসে , সেহেতু শিক্ষাকেও শ্রেণী সংগ্রামের একটি অঙ্গ হিসাবে বিবেচনা করতে হবে । মার্কস ও এঞ্জেলস এর মতে ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষা ছিল শোষণের এক ধরনের কৌশল । কারণ সমস্ত রকমের জ্ঞান এবং শিক্ষা শোষক শ্রেণীর নিয়ন্ত্রণে ছিল । তাই শ্রেণীহীন সমাজ স্থাপনের সংগ্রামে শিক্ষাকেও হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে হবে । মার্কস এর মতে মনুষ্য সমাজের মধ্যে যে শ্রেণী সংগ্রাম চলছে , শিক্ষা তারই একটি অঙ্গ । আর এই কারণে মার্কস এবং এঞ্জেলস ( Marx & Engels ) তাঁদের কমিউনিস্ট মেনিফেস্টোতে ( Communist Manifesto ) প্রত্যেক শিশুর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন । 

ফ্রেডরিক এঞ্জেলস বলেছেন কমিউনিস্ট সমাজের প্রধান উদ্দেশ্য হল , ঐ সমাজের মূল ভিত্তিকে বজায় রেখে প্রত্যেক নাগরিক বা সদস্যকে তার নিজস্ব সম্ভাবনা বিকাশের বা ব্যবহারের স্বাধীনতা দেওয়া । তিনি আরো বলেছেন , কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের প্রধান উদ্দেশ্য হবে শ্রমিক শ্রেণীর স্বার্থ পরিপূর্ণভাবে রক্ষা করা । এই স্বার্থরক্ষা করা সম্ভব হবে , যদি তার জন্য উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায় । মার্কস এবং এঞ্জেলস যখন তাঁদের কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো রচনা করেন যখন বিশ্বে কোন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রেরই অস্তিত্ব ছিল না । তাই কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে , তাঁদের প্রথম কাজ কি হবে , এই প্রশ্নের উত্তরে এঞ্জেলস্ বলেছিলেন— “ All children will be educated an instructed in state institution from the moment they are old enough to dispense with the first material care . ” এই মন্তব্য থেকে মার্কসীয় দর্শনে , শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায় । 

মার্কসীয় ধারণায় শিক্ষার তাৎপর্য

মার্কস ও তাঁর সহযোগী এবং অনুগামীরা , সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তনে শিক্ষার গুরুত্বের কথাই শুধু স্বীকার করেননি , শিক্ষাকে তাঁরা তাঁদের সমাজদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বিচার করার চেষ্টা করেছেন । মার্কসীয় ধারণায় শিক্ষার প্রকৃত তাৎপর্যকে তাই তার মূল সমাজ দর্শনের পরিপ্রেক্ষিতেই গ্রহণ করতে হবে । বিভিন্ন সময়ে মার্কস ও এঞ্জেলস শিক্ষা সম্পর্কে যে সমস্ত মন্তব্য করেছেন , সেগুলিকে একত্রিত করলে আমরা মার্কসীয় শিক্ষার নিম্নলিখিত তাৎপর্যগুলি উপলব্ধি করি । 

প্রথমতঃ , শিক্ষা হল সমাজের এক ধরনের উৎপাদনশীল শক্তি ( Productive force ) । শিক্ষা শ্রেণীসংগ্রামের উপাদান এবং উপযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে যেমন একদিকে শোষণ মুক্ত সমাজ স্থাপন করা যায় , তেমনি অন্যদিকে শ্রেণীহীন সমাজের স্থায়িত্ব বজায় রাখা যায় । তাই শিক্ষাকে অনেক ক্ষেত্রে মার্কস শ্রেণী সংগ্রামের প্রক্রিয়া হিসাবেও উল্লেখ করেছেন । 

দ্বিতীয়তঃ , মার্কস বলেছেন জ্ঞান ( Knowledge ) বস্তু জগতের সঙ্গে ব্যক্তির পারস্পরিক ক্রিয়ায় ( Interaction ) সংগৃহীত হয় । এই পারস্পরিক ক্রিয়ার প্রধান হাতিয়ার হল ব্যক্তির ইন্দ্রিয়গুলি ( Sense organs ) । তাই শিক্ষার মাধ্যমে শিশুর ইন্দ্রিয়গুলিকে সজাগ করে তুলতে হবে । অর্থাৎ , ইন্দ্রিয় প্রশিক্ষণের কাজ ( Sense training ) শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত হবে । 

তৃতীয়তঃ , মার্কসীয় ধারণায় জ্ঞানের ( Knowledge ) কোন চরম অবস্থা নেই । অর্থাৎ কোন জ্ঞান বা অভিজ্ঞতাকে চরম জ্ঞান ( Absoulute knowledge ) হিসাবে গ্রহণ করা যায় না । এটি একটি প্রক্রিয়া ( Knowledge is a process ) । সুতরাং , শিক্ষা ব্যবস্থাকে সামগ্রিক ভাবে রচনা করতে হবে , যাতে এই প্রক্রিয়ার চলমান বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে । এই শিক্ষায় , প্রথাগত শিক্ষা ( Formal education ) বলতে আমরা যা বুঝি , তা হবে সামগ্রিক শিক্ষার একটি অংশমাত্র । শিক্ষা প্রাকবিদ্যালয় জীবন থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত চলবে এবং এই কাজে জনসংযোগের ( Mass – Communication ) সব রকম আধুনিক মাধ্যমগুলি সহায়তা করবে । 

চতুর্থতঃ , এই ধারণা অনুযায়ী জ্ঞানের বিকাশ ( Development of Knowledge ) সামাজিক বিকাশেরই ( Social development ) অঙ্গ । আবার , সামাজিক বিকাশ ও জ্ঞানের বিকাশ উভয়েই চলমান প্রক্রিয়া । সুতরাং , মার্কসীয় নীতি অনুযায়ী শিক্ষাকে এমনভাবে সংগঠিত করতে হবে , যাতে এই উভয় প্রক্রিয়াকে সহায়তা করা যায় । তাই কমিউনিস্ট মেনিফেস্টোতে বলা হয়েছে— “ Education will teach the young folk to familiarize themselves quickly with the whole system of production . They will be in a position to pass from one branch of industry to another according to the needs of the society and their inclinations . ” অর্থাৎ , এখানে আমরা চিরাচরিত ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও সমাজতান্ত্রিক মতবাদের মধ্যে সমন্বয় দেখতে পাই । তবে এই সমন্বয় বস্তুনিষ্ট ভাবে । 

পঞ্চমতঃ , যেহেতু মার্কসীয় ধারণায় চরম সত্যের কোন অস্তিত্ব নেই , সেহেতু শিক্ষার মধ্য দিয়ে সত্যের নতুন প্রকৃতিকে আবিষ্কার করতে হবে । শিক্ষার দায়িত্ব হবে , সত্যের নতুন রূপ আবিষ্কার করা । অর্থাৎ শিক্ষা ক্ষেত্রে , শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কাজে উৎসাহ দিয়ে , বিশ্বপ্রকৃতির নতুন রূপ প্রত্যক্ষ করতে সাহায্য করতে হবে । এই অর্থে মার্কসীয় ধারণা অনুযায়ী শিক্ষা সব সময় হবে সৃজনাত্মক । 

ষষ্ঠতঃ , মার্কসীয় চিন্তায় তত্ত্ব ( Theory ) ও কাজের ( Practice ) মধ্যে পার্থক্য করা হয় না । এই মূলনীতি অনুসরূণে বলা যায় , শিক্ষার তত্ত্বের সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রের কার্যাবলীয় কোন পার্থক্য নেই । ব্যক্তির সক্রিয়তা যেমন সামাজিক পরিবর্তনের সহায়তা করে , তেমনি সেই সক্রিয়তার মাধ্যমেই জ্ঞান আহরিত হয় । ব্যক্তি তার সক্রিয় প্রচেষ্টায় বিশ্বপ্রকৃতিকে যে ভাবে প্রত্যক্ষ করছে , সেটাই তার জ্ঞান । 

সুতরাং , যে জ্ঞান পরীক্ষিত এবং জীবনের ক্ষেত্রে প্রযুক্ত , তার জন্য তত্ত্বকে আঁকড়ে ধরে রাখার কোন প্রয়োজন নেই । মার্কস বলেছেন— “ Social life is essentially practical . All mysteries which misled theory into mysticism find their rational solution in human practice and in the comprehension of this practice . ” এই মতবাদের প্রধান তাৎপর্য হল — শিক্ষায় তত্ত্বের ( Theory ) উপর গুরুত্ব না দিয়ে ব্যবহারিক জ্ঞানের উপর গুরুত্ব দিতে হবে ।

আরো পড়ুন : কার্ল মার্কসের মতে শিক্ষার লক্ষ্য পাঠ্যক্রম ও শিক্ষালয়

মার্কসীয় শিক্ষা তত্ত্ব

কার্ল মার্কসের সমাজ দর্শন

মার্কসবাদের উৎস

মার্কসবাদ কি

error: Content is protected !!