আলফা রশ্মি বিটা রশ্মি ও গামা রশ্মির পার্থক্য

আলফা রশ্মি বিটা রশ্মি ও গামা রশ্মির পার্থক্য

তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিনপ্রকার রশ্মি নির্গত হয় । এদের বলা হয় — আলফা ( a ) রশ্মি , বিটা ( β ) রশ্মি ও গামা ( γ ) রশ্মি । আলফা রশ্মি বিটা রশ্মি ও গামা রশ্মির পার্থক্যগুলি হলো—

প্রকৃতি 

আলফা রশ্মি : তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত দ্রুতগামী ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট কণার স্রোত । আলফা কণা প্রকৃতপক্ষে 2 একক ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট হিলিয়াম আয়ন ( He2+ ) ।

বিটা রশ্মি : তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত দ্রুতগামী ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট কণার স্রোত । প্রতিটি বিটা কণা প্রকৃতপক্ষে এক একটি ইলেকট্রন ।

গামা রশ্মি : তেজস্ক্রিয় মৌলের নিউক্লিয়াস থেকে নির্গত  ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ , যার মধ্যে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন ফোটন বর্তমান ।

ভর

আলফা রশ্মি : প্রতিটি আলফা কণার ভর একটি প্রোটনের ভরের প্রায় চারগুণ । প্রতিটি আলফা কণার ভরের মান 6.642 × 10-24 গ্রাম ।

বিটা রশ্মি : প্রতিটি β কণার ভর একটি ইলেকট্রনের ভরের সমান ( 9.1 × 10-28 গ্রাম ) ।

গামা রশ্মি : γ রশ্মি তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ হওয়ায় এই রশ্মি ভরহীন ।

আধান

আলফা রশ্মি : একটি আলফা কণার ধনাত্মক আধানের পরিমাণ 2 একক , অর্থাৎ একটি প্রোটনের আধানের দ্বিগুণ । প্রতিটি আলফা কণার আধানের মান + 9.6 x 10-10 esu

বিটা রশ্মি : প্রতিটি β কণার আধান একটি ইলেকট্রনের আধানের সমান ( 4.8 × 10-10 esu ) ।

গামা রশ্মি : γ রশ্মি আধানহীন ।

গতিবেগ

আলফা রশ্মি : আলফা কণার গতিবেগ আলোর গতিবেগের অংশ 1/10 অংশ হয় ।

বিটা রশ্মি : β কণার গতিবেগ আলোর গতিবেগের প্রায় 4/5 থেকে 9/10 অংশ হয় ।

গামা রশ্মি : γ রশ্মির গতিবেগ আলোর গতিবেগের ( 3 × 108 মি/সে ) সমান ।

ভেদন ক্ষমতা

আলফা রশ্মি : ভেদন ক্ষমতা কম । 0.02 মিমি Al পাত ভেদ করে যেতে পারে । কিন্তু 0.1 মিমি পুরু Al পাত ভেদ করতে পারে না ।

বিটা রশ্মি : ভেদন ক্ষমতা আলফা কণার চেয়ে বেশি । 2 মিমি পুরু Al পাত ভেদ করতে পারে কিন্তু 5 মিমি পুরু Al পাত ভেদ করতে পারে না ।

গামা রশ্মি : ভেদন ক্ষমতা আলফা ও β রশ্মির চেয়ে বহুগুণ বেশি । γ রশ্মি 100 সেমি পুরু A1পাত এবং প্রায় 8 সেমি পুরু Pb পাত ভেদ করতে পারে ।

আয়নন ক্ষমতা

আলফা রশ্মি : গ্যাস আয়নিত করতে পারে । আলফা রশ্মির গ্যাস আয়নন ক্ষমতা বিটা ও গামা রশ্মির তুলনায় অনেক বেশি ।

বিটা রশ্মি : গ্যাস আয়নিত করতে পারে । β রশ্মির গ্যাস আয়নন ক্ষমতা আলফা রশ্মির চেয়ে কম কিন্তু γ রশ্মির চেয়ে বেশি ।

গামা রশ্মি : গ্যাস আয়নিত করতে পারে । γ রশ্মির আয়নন ক্ষমতা সবচেয়ে কম ।

তড়িৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া

আলফা রশ্মি : আলফা রশ্মি তড়িৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় । বিক্ষেপের প্রকৃতি থেকে বোঝা যায় আলফাকণা ধনাত্মক তড়িৎগ্রস্ত ।

বিটা রশ্মি : β রশ্মি তড়িৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় । বিক্ষেপের প্রকৃতি থেকে বোঝা যায় β কণা ঋণাত্মক তড়িৎগ্রস্ত ।

গামা রশ্মি : γ রশ্মি তড়িৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না । অর্থাৎ γ রশ্মি নিস্তড়িৎ ।

ফটোগ্রাফিক প্লেটের ওপর ক্রিয়া

আলফা রশ্মি : আলফা রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটকে নষ্ট করে ।

বিটা রশ্মি : β রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটকে নষ্ট করে ।

গামা রশ্মি : γ রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটকে নষ্ট করে ।

প্রতিপ্ৰভা সৃষ্টি

আলফা রশ্মি : জিঙ্ক সালফাইড ও বেরিয়াম প্ল্যাটিনা সায়ানাইড লিপ্ত পর্দার ওপর প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে ।

বিটা রশ্মি : জিঙ্ক সালফাইড ও বেরিয়াম প্ল্যাটিনা সায়ানাইড লিপ্ত পর্দার ওপর প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে । সৃষ্ট প্রতিপ্রভা আলফা রশ্মির দ্বারা সৃষ্ট প্রতিপ্রভার তুলনায় মৃদু ।

গামা রশ্মি : জিঙ্ক সালফাইড ও বেরিয়াম প্ল্যাটিনা সায়ানাইড লিপ্ত পর্দার ওপর প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে । সৃষ্ট প্রতিপ্রভা আলফা ও β রশ্মির দ্বারা সৃষ্ট প্রতিপ্রভার তুলনায় অনেক মৃদু ।

জীবদেহের ওপর ক্রিয়া 

আলফা রশ্মি : আলফা রশ্মি জীবকোশ নষ্ট করে এবং জীবদেহে ক্ষতের সৃষ্টি করে ।

বিটা রশ্মি : জীবকোশ নষ্ট করে এবং জীবদেহে ক্ষতের সৃষ্টি করে ।

গামা রশ্মি : জীবকোশ নষ্ট করে এবং জীবদেহে ক্ষতের সৃষ্টি করে ।

error: Content is protected !!