নিউক্লিয় বিভাজন কাকে বলে

নিউক্লিয় বিভাজন কাকে বলে

যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় কোনো ভারী মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াস ভেঙে মোটামুটি সমান ভরের দুটি নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয়ে প্রচুর পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় , তাকে নিউক্লিয় বিভাজন বলে । 

নিউক্লিয় বিভাজনের উদাহরণ : 

92U235 ( ইউরেনিয়াম 235 ) নিউক্লিয়াসকে ধীর গতির নিউট্রনের দ্বারা আঘাত করলে ভারী নিউক্লিয়াসটি ভেঙে মোটামুটি সমান ভরের দুটি নিউক্লিয়াস বেরিয়াম ( 56Ba141 ) ও ক্রিপ্টন ( 36Kr92 ) – এ বিভক্ত হয় এবং প্রচুর পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় । বিক্রিয়াটির সমীকরণ হল— 

92U235 + 0n156Ba141 + 36Kr92 + 30n1 + 200 MeV

নিউক্লিয় বিভাজনে শক্তি উৎপাদন 

নিউক্লিয় বিভাজনের ফলে উৎপন্ন পদার্থগুলির মোট ভর মূল ইউরেনিয়াম পরমাণু ও বিক্রিয়ক নিউট্রনের মিলিত ভর অপেক্ষা কম হয় । যে পরিমাণ ভর হ্রাস পায় , তা আইনস্টাইনের E=mc2 সূত্রানুযায়ী শক্তিতে পরিণত হয় । প্রমাণ করা যায় যে মাত্র 1 গ্রাম 92U235 এর প্রতিটি পরমাণু বিভাজিত হলে মুক্ত শক্তির পরিমাণ হয় 7.6 × 1010 জুল , যা প্রায় 3000 টন কয়লা পোড়ালে যে শক্তি পাওয়া যায় তার সমান ।

নিউক্লিয় বিভাজনের ব্যবহার  

নিউক্লিয় বিভাজনে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় । পারমাণবিক চুল্লিতে ( nuclear reactor ) নিয়ন্ত্রিত বিভাজন ঘটিয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয় । এই তাপের সাহায্যে স্টিম টারবাইন চালিয়ে বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদন করা হয় । সুতরাং , পারমাণবিক শক্তিকে নিয়ন্ত্রিত করে মানব কল্যাণে ব্যবহার করা হচ্ছে ।

error: Content is protected !!