বর্ণালী কাকে বলে

বর্ণালী কাকে বলে

আলোর বিচ্ছুরণের ফলে বিভিন্ন বর্ণ যুক্ত যে আলোর পটি পাওয়া যায় , তাকে বর্ণালী বলে । 

বর্ণালী কয় প্রকার ও কি কি

বর্ণালী দু প্রকার — অশুদ্ধ বর্ণালী এবং শুদ্ধ বর্ণালী । 

অশুদ্ধ বর্ণালী কাকে বলে :

যে বর্ণালীতে একটি বর্ণের আলো অন্য বর্ণের ওপর পড়ার ফলে বর্ণগুলিকে স্পষ্টভাবে এবং পৃথকভাবে দেখা যায় না , তাকে অশুদ্ধ বর্ণালী বলে । 

শুদ্ধ বর্ণালী কাকে বলে : 

যে বর্ণালীতে একটি বর্ণের আলো অন্য বর্ণের আলোর ওপর পড়ে না এবং সাতটি বর্ণের আলো পৃথক পৃথক স্থান দখল করে , তাকে শুদ্ধ বর্ণালী বলে ।

বর্ণালী কিভাবে সৃষ্টি হয়

শূন্য মাধ্যম বা বায়ু মাধ্যম ছাড়া অন্য যে কোনো মাধ্যমে বিভিন্ন বর্ণের আলোর বেগ বিভিন্ন হয় । লাল আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি এবং বেগুনি বর্ণের আলোর বেগ সবচেয়ে কম । সেজন্য কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক লাল আলোর জন্য সবচেয়ে কম এবং বেগুনি বর্ণের আলোর জন্য সবচেয়ে বেশি । এই জন্য প্রিজমের মধ্য দিয়ে যাবার সময় লাল বর্ণের রশ্মির চ্যুতি সবচেয়ে কম হয় এবং বেগুনি বর্ণের রশ্মির চ্যুতি সবচেয়ে বেশি হয় । অন্যান্য বর্ণের আলোর চ্যুতি লাল ও বেগুনি বর্ণের আলোর চ্যুতির মধ্যে থাকে । সুতরাং , প্রিজমে প্রতিসরণের জন্য বিভিন্ন বর্ণের রশ্মির চ্যুতি আলাদা আলাদা হওয়ায় সাদা আলোর বিচ্ছুরণ হয় এবং বর্ণালীর সৃষ্টি হয় ।

সাদা আলোর বর্ণালী গঠন 

একটি সরু ছিদ্রের মধ্য দিয়ে সাদা আলোর একটি সরু আলোকরশ্মিকে একটি প্রিজমের ওপর ফেললে প্রতিসরণের পর প্রিজমের অন্য পাশে একটি পর্দার ওপর সাতটি আলোর একটি রঙিন পটি দেখতে পাওয়া যায় । এই রঙিন পটিকে বর্ণালী বলে । 

এই রঙিন পটিতে নীচের দিক থেকে ওপরের দিকের বর্ণগুলি হল বেগুনি ( Violet ) , নীল ( Indigo ) , আকাশি নীল ( Blue ) , সবুজ ( Green ) , হলুদ ( Yellow ) , কমলা ( Orange ) এবং লাল ( Red ) । বেগুনি বর্ণ থেকে শুরু করে বর্ণালীর প্রতিটি বর্ণের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষরগুলিকে পরপর সাজালে VIBGYOR শব্দটি পাওয়া যায় এবং বাংলা অক্ষর অনুযায়ী বলা হয় ‘ বেনীআসহকলা ’ ।  

বর্ণালীতে বিভিন্ন বর্ণের আলোর ক্রমিক সারি  

বর্ণালীতে বিভিন্ন বর্ণের আলোগুলি নীচের দিক থেকে ওপরের দিকে যেভাবে সাজানো থাকে , তা হল — বেগুনি , নীল , আকাশি নীল , সবুজ , হলুদ , কমলা , লাল । বর্ণগুলির প্রথম অক্ষর অনুযায়ী সাজালে বর্ণালীকে বলা হয় ‘ বেনীআসহকলা ’ ।

error: Content is protected !!