আলোর প্রতিসরণের সূত্র

আলোর প্রতিসরণের সূত্র 

আলো প্রতিসরণের সময় দুটি সূত্র মেনে চলে । সূত্র দুটি হল— 

1. আপতিত রশ্মি , প্রতিসৃত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদতলের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে । 

2. দুটি নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং একটি নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর ক্ষেত্রে আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুবক হয় । এই সূত্রটি স্নেলের সূত্র নামে পরিচিত । 

জলপূর্ণ পাত্রের গভীরতা কম দেখানোর কারণ 

কোনো পাত্রকে জলপূর্ণ করে ওপর থেকে তাকালে পাত্রটিকে কম গভীর বলে মনে হয় । এর কারণ হল জল ঘন মাধ্যম এবং বায়ু লঘু মাধ্যম । তাই পাত্রের তলদেশ থেকে আগত অপসারী রশ্মিগুলি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রতিসৃত হয়ে আরও অপসারী হয় । ওই অপসারী রশ্মিগুলোকে পিছনের দিকে বাড়ালে পাত্রের তলদেশের কিছু ওপরে ওই তলদেশের একটি অসদ প্রতিবিম্ব গঠিত হয় । এই কারণে জলপূর্ণ পাত্রকে কম গভীর বলে মনে হয় ।

জলে আংশিক নিমজ্জিত কাত করা দণ্ডকে ওপর থেকে দেখলে বাঁকা বলে মনে হয় কেন

আলোর প্রতিসরণের জন্য এরূপ হয় । দণ্ডের যে অংশটি জলের ওপরে থাকে সেখান থেকে আলোকরশ্মি সরাসরি আমাদের চোখে আসে এবং দণ্ডের ওই অংশকে আমরা প্রকৃত স্থানে দেখি । জলে দণ্ডের নিমজ্জিত অংশের প্রতিটি বিন্দু থেকে আগত রশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রতিসৃত হওয়ায় প্রতিটি বিন্দুর অসদবিম্ব ওই বিন্দুর প্রকৃত অবস্থানের কিছুটা ওপরে গঠিত হয় । ফলে দণ্ডটির বাইরের অংশ এবং জলের ভিতরের নিমজ্জিত অংশের প্রতিবিম্ব একই সরলরেখায় থাকে না বলে দণ্ডটিকে বাঁকা দেখায় ।  

একটি কাচের বলকে গ্লিসারিনে রাখলে দেখা যায় না কেন

একটি কাচের বলকে গ্লিসারিনে রাখলে দেখা যায় না । এর কারণ হল , কাচ এবং গ্লিসারিনের প্রতিসরাঙ্ক সমান । উভয়ে একটি সমসত্ত্ব মাধ্যমের মতো আচরণ করে । ওদের বিভেদতলে আলোকরশ্মির কোনো প্রতিফলন বা প্রতিসরণ হয় না । তাই গ্লিসারিনের মধ্যে কাচকে আলাদাভাবে দেখা যায় না । 

error: Content is protected !!