দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদকে বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদ বলা হয় কেন

দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদকে বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদ বলা হয় কেন 

দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদ হিসাবেও পরিচিত । এই মতবাদ অনুসারে বস্তুই হল প্রকৃতি ও তার ঘটনাবলীর মূল ভিত্তি এবং এই সত্য দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব । দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের বিভিন্ন দিকগুলি আলাদাভাবে আলোচনা করা দরকার । 

বস্তু জগতের প্রকৃতি পরিবর্তনশীল

এই জগৎ বা পৃথিবী প্রকৃতিগতভাবে হল পদার্থ বা বস্তু । বস্তু অনড় , অচল নয়— গতিশীল । বস্তু সতত পরিবর্তনশীল । প্রত্যেক বস্তু পরস্পর সম্পর্কিত এবং পরস্পরের উপর নির্ভরশীল । বস্তুবাদী ব্যাখ্যা অনুসারে কোন ঘটনাই বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে না । সমাজ জীবনের প্রত্যেক ঘটনা একটি নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটে । প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে সমাজের বিভিন্ন শক্তি ও বস্তুর অবস্থানকে বিচার করা দরকার । 

দৃষ্টান্ত হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে যে , মালিকের শ্রমিক শোষণ পুঁজিবাদী সমাজের অঙ্গীভূত বিষয় । পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত মালিকানার বিলোপ ব্যতিরেকে এই শোষণের অবসান অসম্ভব । এই কারণে মার্কসীয় ধারণা অনুসারে কোন বিশেষ কারখানার মালিক পুঁজিবাদী শোষণমূলক কাঠামোর ঊর্ধ্বে হতে পারে না । 

মানুষের চেতনা অনুভূতি বস্তুরই প্রতিফলন

মার্কসীয় দর্শনে বস্তুকেই মৌলিক বা মুখ্য বলে মনে করা হয় , মনকে নয় । মানুষের চেতনা , ভাবনা , অনুভূতি প্রভৃতি সবই বস্তুরই প্রতিফলন মাত্র । এগুলি বস্তুকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠে । বস্তু থেকে এগুলিকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না । এইভাবে বস্তুগত অবস্থার ভিত্তিতেই সমাজ জীবনের ধ্যান ধারণা , রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান , মতবাদ প্রভৃতি গড়ে ওঠে । 

মানুষ বিশ্ব প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে

মার্কসবাদ অনুসারে বলা হয় যে , পার্থিব জগৎ ও তার বিকাশের নিয়ম কানুন সম্পর্কিত জ্ঞান আয়ত্ত করতে মানুষ সক্ষম । এই জগতের সকল বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান মানুষ এখনও অর্জন করতে পারেনি এ কথা ঠিক । কিন্তু মানুষের জ্ঞানের পরিধি বিজ্ঞান প্রযুক্তিবিদ্যার অভিজ্ঞতার দ্বারা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে ।  

মার্কসের দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ কোন বিমূর্ত দার্শনিক তত্ত্ব নয় । এর সাহায্যে বিজ্ঞানের প্রত্যেক ক্ষেত্রে যাবতীয় তথ্য সম্যকভাবে অবগত হওয়া যায় । মানবসমাজের ক্রমবিকাশের ধারা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির গভীর তাৎপর্য বিরোধ বিতর্কের ঊর্ধ্বে । এই দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমাজের অগ্রগতির প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয় , সমাজের অতীত ও বর্তমান রূপ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া যায় এবং ভবিষ্যৎ গতি প্রকৃতি সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত ধারণা লাভ করা যায় । 

error: Content is protected !!