মার্কসবাদের উৎস

মার্কসবাদের উৎস 

কোন মতবাদ বা দর্শন  নিজে থেকে উৎপন্ন হতে পারে না । সুনির্দিষ্ট একটি প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে যে কোন চিন্তা বা দর্শনের সৃষ্টি হয় । মার্কসীয় দর্শনেরও সুনির্দিষ্ট পটভূমি বা উৎস রয়েছে । পূর্ববর্তী বিভিন্ন চিন্তাবিদ ও দার্শনিকের সমাজতত্ত্ব , দর্শন ও অর্থশাস্ত্রের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ থেকে মার্কস উপাদান সংগ্রহ করেছেন । এই উপাদানগুলিকে সম্পূন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনুশীলন ও বিচার বিশ্লেষণ করে তিনি মার্কসীয় দর্শনের ইমারত গড়ে তুলেছেন । আমরা বর্তমানে যাকে মার্কসবাদ বলি তা হল সমাজ ও বিজ্ঞানের দীর্ঘ বিবর্তনের ফলশ্রুতি । মানুষের চেতনা , সংঘবদ্ধতা এবং মতাদর্শগত ধ্যান ধারণার বিকাশের ফলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তার থেকেই মার্কসবাদের সৃষ্টি হয়েছে ।

মার্কসবাদের উৎস সম্পর্কে বিভিন্ন লেখক নানা বক্তব্য তুলে ধরেছেন । তবে এক্ষেত্রে বিশিষ্ট মার্কসবাদী বিপ্লবী লেনিনের বক্তব্যই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য । লেনিন তাঁর The Three Sources and Three Components of Marxism গ্রন্থে বলেছেন : “ মার্কসের দৃষ্টিভঙ্গি ও শিক্ষামালার নাম মার্কসবাদ । জার্মান চিরায়ত দর্শন , ইংরেজী চিরায়ত অর্থশাস্ত্র এবং ফরাসী সমাজতন্ত্র তথা সাধারণভাবে ফরাসী বিপ্লবী মতবাদ — মানবজাতির সবচেয়ে অগ্রসর তিনটি দেশে আবির্ভূত ঊনিশ শতকের এই তিনটি প্রধান ভাবাদর্শগত প্রবাহের ধারাবাহক ও প্রতিভাধর পূর্ণতাসাধক হলেন মার্কস । ” লেনিন আরও বলেছেন : ‘ ঊনিশ শতকের জার্মান দর্শন , ইংরেজী অর্থশাস্ত্র এবং ফরাসী সমাজতন্ত্র রূপে মানবজাতির যা শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি তার ন্যায়সঙ্গত উত্তরাধিকার ই হল মার্কসবাদ । ”  

বস্তুত , মার্কসীয় তত্ত্বের প্রধান প্রধান উপাদানগুলি সংগৃহীত হয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দীর জার্মানী , ব্রিটেন ও ফ্রান্স থেকে । মার্কস তাঁর ‘ উদ্বৃত্ত মূল্য ’ সংক্রান্ত ধারণা ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদদের কাছ থেকে ; শ্রেণী সংগ্রাম , রাষ্ট্র ও বিপ্লব সংক্রান্ত ধারণা ফরাসী সমাজতন্ত্রবাদীদের কাছ থেকে এবং দ্বন্দ্ববাদ ও বস্তুবাদ সংক্রান্ত ধারণা লাভ করেছেন জার্মান ভাববাদী দার্শনিকদের কাছ থেকে । 

ইংরেজদের রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্র ( British Political Economy ) 

ইংরেজ অর্থনীতির প্রভাব : মার্কসবাদ অনুসারে , “ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই হল বনিয়াদ , তার উপরেই রাজনৈতিক উপরি কাঠামো দণ্ডায়মান । ” মার্কস তাই সবচেয়ে বেশী মনোযোগ দিয়েছেন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অধ্যয়নে । তাঁর প্রধান রচনা ‘ পুঁজি ’ তে আধুনিক অর্থাৎ পুঁজিবাদী সমাজের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পর্যালোচনা আছে । লেনিন বলেছেন : “ মার্কসের পূর্বেকার চিরায়ত অর্থশাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল পুঁজিবাদী দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিকশিত দেশে — ইংল্যান্ডে । অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করে অ্যাডাম স্মিথ ও ডেভিড রিকার্ডো মুল্যের শ্রম তত্ত্ব এর ( labour theory of value ) সূত্রপাত করেন । মার্কস তাঁদের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যান । তিনি এ তত্ত্বকে আমূলরূপে , সুসিদ্ধ ও সুসঙ্গতরূপে বিকশিত করেন । তিনি দেখান যে , পণ্যের উৎপাদনে সামাজিকভাবে আবশ্যক যে শ্রম সময় ব্যয় হয়েছে তা দিয়েই তার মূল্য নির্ধারিত হয় । ”  

লেনিনের কথায় , “ বুর্জোয়া অর্থনীতিবিদেরা যেখানে দেখেছিলেন দ্রব্যের সঙ্গে দ্রব্যের সম্পর্ক , মার্কস সেখানে উদঘাটিত করলেন মানুষে মানুষে সম্পর্ক । পণ্য বিনিময়ের মধ্যে প্রকাশ পাচ্ছে বাজারের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন উৎপাদকের মধ্যে যোগাযোগ । ..পুঁজির অর্থ এই যোগসূত্রের আরও বিকাশ : মানুষের শ্রমশক্তি পরিণত হচ্ছে পণ্যে । …. শ্রমদিনের এক অংশ শ্রমিক খাটে তার পরিবারের ভরণপোষণের খরচা তোলার জন্য ( মজুরী ) , বাকী অংশটা সে খাটে বিনা মজুরীতে , সৃষ্টি করে পুঁজিপতির জন্য বাড়তি মূল্য ….। ”  

আলেকজান্ডার গ্রের মতানুসারে মার্কসের এই ‘ উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্বে’র ( Theory of Surplus Value ) উপর রিকার্ডোর প্রভাব বর্তমান । তা ছাড়া ব্রিটিশ সমাজতন্ত্রী রবার্ট ওয়েনের চরিত্রের উপর পরিবেশের প্রভাবতত্ত্ব এবং টমসন ও হগকিন এর ‘ শ্রমিক – ই হল মূল্যের উৎস ’ – এর দ্বারাও মার্কস প্রভাবিত হয়েছেন । প্রকৃত প্রস্তাবে মার্কসের চিন্তাধারার উপর ব্রিটিশ সমাজতন্ত্রী ও অর্থনীতিবিদদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে । 

ফরাসী সমাজতন্ত্র ( French Socialism ) 

ফরাসি সমাজতন্ত্র বাদের প্রভাব : ফরাসী সমাজতন্ত্র মার্কসবাদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসাবে গণ্য হয় । মার্কসের শ্রেণী সংগ্রামের তত্ত্বে ( Theory of class struggle ) ফরাসী সমাজতন্ত্রবাদীদের প্রভাব অনস্বীকার্য । মার্কস নিজেই স্বীকার করেছেন : “ বর্তমান সমাজে শ্রেণীর অস্তিত্ব এবং তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আবিষ্কারের কৃতিত্ব আমার প্রাপ্য নয় । আমার অনেক আগেই বুর্জোয়া ঐতিহাসিকগণ শ্রেণী দ্বন্দ্বের ঐতিহাসিক বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং বুর্জোয়া অর্থনীতিবিদ্‌গণ শ্রেণীসমূহের অর্থনৈতিক গঠন ও প্রকৃতি ব্যাখ্যা করেছেন । ” তবে মার্কস বলেছেন যে , “ আমি যা নতুন করেছি তা প্রমাণ করা যে , ( ১ ) উৎপাদনের বিকাশের এক বিশেষ ঐতিহাসিক স্তরের সঙ্গেই কেবল শ্রেণীর অস্তিত্ব যুক্ত ; ( ২ ) শ্রেণী সংগ্রাম অপরিহার্য ভাবেই সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার দিকে এগোয় ; ( ৩ ) এই একনায়কত্ব শ্রেণী সমূহের বিলুপ্তি ঘটায় ও শ্রেণীহীন সমাজের সৃষ্টি করে । ”

ক্যাবের প্রভাব : এঙ্গেলসের মতানুসারে অষ্টাদশ শতাব্দীর ফরাসী দার্শনিকগণ যে সমাজতান্ত্রিক নীতি বিশ্লেষণ করেন তারই যুক্তিনিষ্ঠ সম্প্রসারণ হল আধুনিক সমাজতন্ত্রবাদ । সমাজতান্ত্রিক ফ্রান্সের পুরাতন ব্যবস্থার প্রতি ফরাসী সমাজতন্ত্রবাদীদের দৃষ্টি ছিল কঠোর সমালোচনামূলক । ফরাসী সাম্যবাদী চিন্তাবিদ্ ক্যাবে ( Etienne Cabet ) কর্তৃক প্রচারিত সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শ মার্কসকে প্রভাবিত করেছে । ক্যাবে সাম্যবাদী সমাজে সমস্ত অত্যাবশ্যক কার্য সম্পাদনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপর ন্যস্ত করেছেন । মার্কস কিন্তু রাষ্ট্রের অবলুপ্তির কথা বলেছেন ।  

সাঁ সিমোঁ  : সাঁ সিমোঁ ( St. Simon ) কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের এক উল্লেখযোগ্য প্রবক্তা । তিনি এমন এক সমাজতান্ত্রিক সমাজের কথা বলেছেন যার লক্ষ্য হবে সার্বজনীন কল্যাণসাধন এবং প্রাচুর্য্য | সৃষ্টির জন্য সচেতন ও যৌথ প্রচেষ্টার দ্বারা প্রকৃতিকে প্রভাবিত করা । প্রত্যেকে নিজের সামর্থ্য অনুসারে কাজ করবে এবং কাজ অনুসারে প্রাপ্য পাবে । সমাজের সকল কাজকর্ম পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে সরকারের উপর । কিন্তু তিনি শ্রেণী সংগ্রাম ও বিপ্লবের ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন না । 

ফুরিয়ে : ঊনবিংশ শতাব্দীর আর একজন কাল্পনিক সমাজতন্ত্রবিদ হলেন ফুরিয়ে । তিনি বুর্জোয়া সমাজের লুণ্ঠনকারী চরিত্রকে বিশ্লেষণ করেছেন । তিনি নিঃস্ব ও বিত্তবানদের স্বার্থের সমন্বয়ের কথা বলেছেন । বৈপ্লবিক রূপান্তরের পরিবর্তে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সামাজিক সমন্বয় সাধনের কথা বলেছেন । তাঁর কল্পিত সমাজে ব্যক্তিগত মালিকানা ও পুঁজিপতিদের স্থান ছিল ।  

টমাস ম্যুর : টমাস ম্যুর ( Thomas Moore ) তাঁর Utopia গ্রন্থে বলেছেন যে ব্যক্তিগত মালিকানা এবং সংখ্যাগুরু মানুষের দ্বারা উৎপাদিত শ্রম মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে যতদিন কেন্দ্রীভূত থাকবে ততদিন ন্যায়বিচার , সাম্য , সুখ এবং মানুষের দৈহিক ও মানসিক বিকাশ অসম্ভব । তাই তিনি ব্যক্তিগত মালিকানার বিলোপ সাধন , যৌথশ্রম , যৌথ মালিকানা এবং গণতান্ত্রিক নীতি অনুসারে শাসিত সমাজের কল্পনা করেছেন । রবার্ট ওয়েনও একজন কাল্পনিক সমাজতান্ত্রিক । পুঁজিবাদী ব্যবস্থার তিনি কঠোর সমালোচনা করেছেন । তবে ওয়েনও শ্রেণী – সংগ্রাম ও বিপ্লবের পরিবর্তে সংস্কারের উপর জোর দিয়েছেন । 

জার্মান দর্শন ( German Philosophy ) 

হেগেলের প্রভাব : জার্মান দর্শন হল মার্কসবাদের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ উৎস । চিরায়ত জার্মান দর্শনের দ্বারা মার্কস বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছেন । দ্বন্দ্ববাদ সম্পর্কে মার্কসের ধারণা হেগেল থেকে নেওয়া । হেগেলের মত মার্কসও বিশ্বাস করেন যে , বিশ্বের সকল পরিবর্তন দ্বন্দ্বমূলক পদ্ধতিতে ঘটে । লেনিন বলেছেন : “ বিকাশের সবচেয়ে সর্বাঙ্গীণ , সবচেয়ে বিষয়সমৃদ্ধ এবং সবচেয়ে সুগভীর মতবাদ হিসাবে হেগেলীয় দ্বান্দ্বিক তত্ত্বকে মার্কস ও এঙ্গেলস ধ্রুপদী জার্মান দর্শনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি বলে মনে করতেন । ” মার্কসের মতে বাহ্যিক জগতের এবং মানুষের বৈপ্লবিক দিকটি মার্কস ও এঙ্গেলস গ্রহণ করেছেন । তবে তাঁরা দ্বন্দ্ববাদকে হেগেলের ভাববাদী জগৎ থেকে মুক্ত করেছেন এবং প্রকৃতির বস্তুবাদী ব্যাখ্যায় প্রয়োগ করেছেন ।  

ফয়েরবাখের প্রভাব : মার্কসীয় দর্শন কেবল দ্বন্দ্বমূলক নয় বস্তুবাদীও বটে । লেনিন বলেছেন : “ অষ্টাদশ শতাব্দীর বস্তুবাদেই মার্কস থেমে যাননি , দর্শনকে তিনি অগ্রসর করে গেছেন । এ দর্শনকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন জার্মান চিরায়ত দর্শনের সম্পদ দিয়ে , বিশেষ করে হেগেলীয় তত্ত্ব দিয়ে , যা আবার পৌঁছেছে ফয়েরবাখের বস্তুবাদে । ” বস্তুবাদী আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কস ও এঙ্গেলস প্রায়ই দার্শনিক ফয়েরবাখের ( Ludvig Feuerbach ) উল্লেখ করেছেন । তবে মার্কসের ও ফয়েরবাখের বস্তুবাদ এক নয় । ফয়েরখবাখ ছিলেন নৃতাত্ত্বিক বস্তুবাদের সমর্থক । 

স্তালিন বলেছেন – “ বস্তুত মার্কস ও এঙ্গেলস ফয়েরবাখের বস্তুবাদের অন্তর্নিহিত সারাংশটুকু গ্রহণ করেছেন ও তা বস্তুবাদের বৈজ্ঞানিক দার্শনিক সিদ্ধান্তে বিকশিত করেছেন এবং তার আনুষঙ্গিক ভাববাদী এবং ধর্ম ও নীতি সম্পর্কিত জঞ্জালকে বর্জন করেছেন । মার্কস ও এঙ্গেলস দ্বন্দ্ববাদকে বস্তুজগতের বিশ্লেষণে প্রয়োগ করেছেন । তাই তাঁদের দর্শন দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ নামে পরিচিত । মার্কস বস্তুবাদী দর্শনের ধারণাকে আরও ব্যাপকভাবে এবং উন্নত পর্যায়ে মানবসমাজের বিশ্লেষণে প্রয়োগ করেছেন । মানব সমাজের বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বস্তুবাদী দর্শনের এই প্রয়োগকে সংক্ষেপে ঐতিহাসিক বস্তুবাদ বলা হয় । লেনিন বলেছেন – “ বৈজ্ঞানিক চিন্তার সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকীর্তি হল মার্কসের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ । ”  

মার্কসবাদের বিভিন্ন উৎস

মার্কসীয় দর্শনের উপাদান সমূহ বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত । অনেকে তাই মার্কসবাদের মৌলিকত্ব স্বীকার করার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত । তবে এই দ্বিধা নেহাতই অমূলক । এক্ষেত্রে আলেকজান্ডার গ্রের মন্তব্য বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য । তিনি তাঁর The Socialist Tradition গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন : মার্কস তাঁর পূর্বসূরীদের চিন্তা চেতনা থেকে উপাদান সংগ্রহ করেছেন । কিন্তু সংগৃহীত উপাদানগুলিকে তিনি পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার বিশ্লেষণ করেছেন এবং মার্কসীয় দর্শন গড়ে তুলেছেন । লেনিন ( V.I. Lenin ) বলেছেন – ” His teachings arose as a dircet and immediate continuation of the greater representatives of philosophy , political economy and socialism . ” 

মার্কসবাদের বিভিন্ন দিক ( Aspects of Marxism ) 

মার্কসবাদ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করলে কতকগুলি মূল সূত্রের সন্ধান পাওয়া যায় । তদনুসারে মার্কসবাদের প্রতিপাদ্য বিষয়কে মুখ্য কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে পর্যালোচনা করা দরকার । মার্কসবাদের এই মূল সূত্র বা ভাগগুলি হল : ( ক ) দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ , ( খ ) ঐতিহাসিক বস্তুবাদ বা ইতিহাসের বস্তুবাদী ব্যাখ্যা , ( গ ) শ্রেণী সংগ্রামের তত্ত্ব , ( ঘ ) উদ্বৃত্ত মূল্যের তত্ত্ব এবং ( ঙ ) বিপ্লবের তত্ত্ব । উল্লিখিত মার্কসবাদের প্রতিটি দিক সম্পর্কে বিস্তারিত বিচার বিশ্লেষণ প্রয়োজন ।

উপসংহার

মার্কসবাদ হল একটি সামগ্রিক চিন্তা ব্যবস্থা — নির্দিষ্ট কোন একটি জ্ঞান শৃঙ্খলা নয় । তাই লেনিন যথার্থই বলেছেন যে মার্কসীয় দর্শনের পটভূমি হিসাবে নানা ধরনের মানব শাস্ত্রের ( Humanities ) প্রভাব বর্তমান । লেনিন যে তিনটি মূল উৎসের উল্লেখ করেছেন , সেগুলি ছাড়াও ইতিহাস , শিল্পকলা , সাহিত্য , গণিত ও বিভিন্ন প্রকৃতি বিজ্ঞানের অবদান মার্কসীয় চিন্তার মধ্যে পরিলক্ষিত হয় । যাইহোক্ , বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কসবাদের উৎস বলতে মার্কসীয় দর্শনের একেবারে প্রাথমিক সোপানগুলিকেই বোঝান হয় । চূড়ান্তভাবে মার্কসবাদ যে উন্নততর সোপানে উপনীত হয়েছে তার সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে প্রাথমিক সোপানগুলি নগণ্য প্রতিপন্ন হয় ।  

error: Content is protected !!