সৈয়দ বংশ

সৈয়দ বংশ 

সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন খিজির খাঁতৈমুর লঙ এর ভারত আক্রমণের প্রাক্কালে খিজির খাঁ দিল্লীর সুলতানির অধীন মুলতানের শাসনকর্তা ছিলেন । কিন্তু ভারত আক্রমণের সময় তিনি তৈমুরকে সাহায্য করেন । এর পুরস্কার স্বরূপ স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের আগে তৈমুর খিজির খাঁ’কে মুলতান , দীপালপুরের শাসক নিযুক্ত করে যান । অতঃপর দিল্লী সুলতানির দুর্বলতার সুযোগে খিজির দিল্লী অধিকার করে নিজ শাসন প্রবর্তন করেন । তিনি নিজেকে ‘ সৈয়দ’ ( অর্থাৎ হজরত মহম্মদের বংশধর ) বলে দাবি করতেন । তাই তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশ ‘ সৈয়দ বংশ ’ নামে অভিহিত হয় । 

খিজির খাঁ  

দিল্লী অধিকার করলেও ( ১৪১৪ খ্রীঃ ) খিজির খাঁ সুলতান উপাধি নেননি । তিনি তৈমুরের বংশধর শাহরুখের নিকট নিয়মিত কর পাঠাতেন । তিনি দোয়াবের হিন্দু বিদ্রোহ দমন করতে সক্ষম হন । তবে তাঁর আধিপত্য দিল্লী , দোয়াব ও পাঞ্জাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল । তিনি অভিজাতদের ক্ষমতা খর্ব কবার জন্য ইকতাগুলিকে শিক বা জেলায় বিভক্ত করেন । ফেরিস্তার মতে , খিজির ন্যায়পরায়ণ ও উদার মনোভাবাপন্ন শাসক ছিলেন । 

মোবারক শাহ 

খিজির খাঁ’র মৃত্যুর পর পুত্র মোবারক খান ‘ শাহ ’ উপাধি নিয়ে দিল্লীর সিংহাসনে বসেন ( ১৪২১ খ্রীঃ ) । তিনি নিজ নামে মুদ্রা চালু করেন । তাকেও অধিকাংশ সময় অভিজাতদের বিদ্রোহ ও পার্শ্ববর্তী শক্তিগুলির আক্রমণ প্রতিরোধে ব্যস্ত থাকতে হত ।পাঞ্জাবের খোক্কর নেতা দশরথ , জৌনপুরের ইব্রাহিম শাহ , মালবের হুসাং শাহ প্রমুখের আক্রমণ মোকাবিলা করতে মোবারক শাহকে নিযুক্ত থাকতে হয়েছে । তিনি সংস্কৃতিবান শাসক ছিলেন । কিন্তু শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রকারী কর্মচারীদের হাতে তিনি নিহত হন ( ১৪৩৪ খ্রীঃ )।

মহম্মদ শাহ

এবারে সিংহাসনে বসেন মোবারকের ভ্রাতুষ্পুত্র মহম্মদ শাহ । ইনি ছিলেন অযোগ্য শাসক । এঁর নৈতিক চরিত্র ছিল অতি নিম্নমানের । এঁর রাজত্বকালে সুলতানি রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা চরমে ওঠে । এই সুযোগে মালবের শাসক মহম্মদ দিল্লী আক্রমণ করেন । সুলতান মহম্মদ শাহ মুলতানের শাসনকর্তা বাহলুল লোদীর সাহায্যে এই আক্রমণ প্রতিরোধ করেন । এই সাহায্যের প্রতিদান স্বরূপ সুলতান মহম্মদ শাহ বাহলুল লোদীকে ‘ খান ই খানান’ উপাধীতে ভূষিত করেন । কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই উচ্চাভিলাষী বাহলুল দিল্লী অধিকার করতে অগ্রসর হন ; কিন্তু পরাজিত হয়ে মুলতানে ফিরে যান । 

আলাউদ্দিন শাহ

মহম্মদ শাহর মৃত্যুর পর ( ১৪৪৫ খ্রীঃ ) তাঁর পুত্র আলাউদ্দিন শাহ দিল্লীর সিংহাসনে বসেন । ইনি ছিলেন রাজ্য শাসনের সম্পূর্ণ অযোগ্য । তার অকর্মণ্যতার সুযোগে মন্ত্রী হামিদ খাঁ প্রশাসনের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেন । হামিদ খাঁ’কে দমন করতে না পেরে তিনি বীতশ্রদ্ধ হয়ে দিল্লী ছেড়ে বদাউনে বসবাস করতে শুরু করেন । এই অবস্থার মাঝে দিল্লীবাসীর আমন্ত্রণে বাহলুল লোদী হামিদ খাঁ’কে হত্যা করে দিল্লীর ক্ষমতা দখল করেন । 

অত্যাশ্চর্য ব্যাপার হল এই যে , সুলতান আলাউদ্দিন শাহ বিচলিত হলেন না , পরন্তু বাহলুলকে জানালেন যে , তিনি বদাউনে শান্তিতেই আছেন । এইভাবে সৈয়দ বংশের অবসান ঘটে । 

error: Content is protected !!