জাহাঙ্গীরের কৃতিত্ব

জাহাঙ্গীরের কৃতিত্ব 

মুঘল বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট আকবরের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তাঁর পুত্র জাহাঙ্গীর । তিনিও ছিলেন পিতার মতই সাম্রাজ্যবাদী শাসক । তাঁর রাজত্বকালে তাঁর মহিষী নূরজাহান রাজনীতিতে গভীর প্রভাব বিস্তার করেন ।

মেবার অধিকার 

রাজ্য জয়ের লক্ষ্যে জাহাঙ্গীর প্রথমে নজর দেন মেবারের দিকে । জাহাঙ্গীর মেবারের বিরুদ্ধে বারবার অভিযান পাঠান । শেষ পর্যন্ত রানা অমর সিংহ মোগলের বশ্যতা স্বীকার করে নেন । তাঁর পুত্র করণ সিংহকে জাহাঙ্গীর পাঁচ হাজার মনসবদার নিযুক্ত করে সম্মানিত করেন ।

বারো ভুঁইয়াদের বিরুদ্ধে জয়লাভ 

মেবার লাভের পর জাহাঙ্গীর বাংলার বারো ভূঁইয়াদের পরাজিত করে বাংলা দেশে মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন । 

দক্ষিণ ভারতে কর্তৃত্ব সম্প্রসারণ 

দক্ষিণ ভারতে আহম্মদ নগর রাজ্যের একাংশ আকবর দখল করেছিলেন । জাহাঙ্গীরের আমলে আহম্মদ নগরের মন্ত্রী মালিক অম্বর খুবই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন । জাহাঙ্গীর মালিক অম্বরকে দমন করার জন্য শাহজাদা খুররমকে নির্দেশ দেন । খুররমের চেষ্টায় বিজাপুর , গোলকুণ্ডা ও আহম্মদন গরের ওপর মোগল  কর্তৃত্ব সম্প্রসারিত হয় । এই সাফল্যের জন্য জাহাঙ্গীর পুত্র খুররমকে শাহজাহান ( জগতের অধিপতি ) উপাধি দেন ।

উত্তর-পূর্ব ভারতে সামরিক সাফল্য 

পূর্বে কোচ রাজ্য , উড়িষ্যা এবং উত্তর-পূর্বে কাংড়া দুর্গের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীর সামরিক সাফল্য লাভ করেন । কান্দাহার পুনরুদ্ধারের একটি পরিকল্পনাও জাহাঙ্গীরের ছিল । কিন্তু পুত্র শাহজাহানের বিরোধিতার জন্য এই পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হয় ।  

ড. বেণীপ্রসাদের  মতে , জাহাঙ্গীরের রাজত্বকাল ছিল সমগ্র সাম্রাজ্যের শান্তি ও সমৃদ্ধির সূচক । তাঁর উদ্যোগে শিল্প ও বাণিজ্য বৃদ্ধি পায় । স্থাপত্যের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে , চিত্রকলা সর্বোচ্চ সীমায় উপনীত হয় । তবে জাহাঙ্গীরের খ্যাতি দুটি দিক থেকে ম্লান হয়েছিল—  

প্রথমত , তিনি পত্নী নূরজাহানের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা ও আরাম প্রিয়তার বশবর্তী হয়ে রাজ্য শাসনের কাজে বেগমকে হস্তক্ষেপ করতে দেন । যার ফল ভালো হয়নি ।  

দ্বিতীয়ত , জাহাঙ্গীর সাধারণত পরধর্মসহিষ্ণুতা প্রদর্শন করলেও মাঝে মাঝে ধর্মসহিষ্ণুতা নীতি থেকে বিচ্যুত হন ।

error: Content is protected !!