ইতিহাস

সুফিবাদের মূল আদর্শ

সুফিবাদের মূল আদর্শ 

সুফিবাদের আদর্শগুলি হল 一

( i ) সুফিবাদ বলতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ব্যক্তিগত অনুভূতির মাধ্যমে আল্লাহের জীবন সান্নিধ্যের উপলব্ধিকে বোঝায় । 

( ii ) সুফিরা আল্লাহের নির্দেশে চলেন , তাঁদের ব্যক্তিগত কোনো ইচ্ছা নেই । তাঁদের কাছে জগৎ ঈশ্বরময় । 

( iii ) সুফিবাদীদের মতে , ত্যাগ ও ভক্তির মাধ্যমে ঈশ্বর লাভ সম্ভব । 

( iv ) সুফিরা পৌত্তলিকতার বিরোধী এবং একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলেন । 

( v ) সরল অনাড়ম্বর জীবন যাপন সুফিবাদের অঙ্গ । 

( vi ) সুফিরা মনে করেন এক মুহূর্তের জন্যও ঈশ্বরের কথা বিস্মৃত হওয়া উচিত নয় । 

( vii ) ঈশ্বরের নাম , গান করে তাঁরা সংগীত ও নৃত্য করেন । এই প্রথাকে ‘ সম ’ বলা হয় । 

( viii ) সুফিরা আধ্যাত্মিক পবিত্র জীবনের ওপর অধিক গুরত্ব দেন । 

( ix ) সুফিরা ধর্ম সমন্বয়ের কথা বলেন এবং অমুসলিমদেরও পিরদের বা সুফি সাধকদের ধর্মোপদেশ শ্রবণে উৎসাহ দেন ।

একটি মত অনুসারে সুফি সাধনার দশটি স্তর ছিল , যথা- ( i ) তওবা ( অনুশোচনা ) , ( ii ) ওয়ার ( নিবৃত্তি ) , ( iii ) জুহদ ( ধার্মিকতা ) , ( iv ) ফকর ( দারিদ্র্য ) , ( v ) সবর ( সহ্য করা ) , ( vi ) শুকর ( কৃতজ্ঞতা ) , ( vii ) খুফ ( অন্যায়কে ভয় ) , ( viii ) রজা ( ঈশ্বরের করুণা লাভের ইচ্ছা ) , ( ix ) তওয়াস্কুল ( আনন্দে-বিষাদে অচঞ্চল থাকা ) এবং ( x ) রিজা ( ঈশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণ ) । এই স্তরগুলি অতিক্রম করলে ঈশ্বরের সান্নিধ্য পাওয়া যায় । 

সুফি ধর্মে গুরু শিষ্যর সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ । গুরুকে কেন্দ্র করেই সুফি সন্ন্যাস জীবন আবর্তিত হয় । গুরুকে বলা হয় ‘ পির ’ বা ‘ খাজা ’ । পিরদের কর্মকেন্দ্রকে বলা হয় ‘ দরগা ’ বা ‘ খানকা ’ । দ্বাদশ শতকের মধ্যে সুফিরা প্রায় বারোটি ‘ সম্প্রদায় ’ বা ‘ সিলসিলা ‘ – য় বিভক্ত হয়ে পড়েছিল । তার মধ্যে ‘ চিশতি ’ ও ‘ সুরাবর্দি ’ সম্প্রদায় সুলতানি যুগে বিশেষ প্রাধান্য লাভ করেছিল ।

error: Content is protected !!