নিয়মিত প্রতিফলন কাকে বলে

নিয়মিত প্রতিফলন কাকে বলে

প্রতিফলকের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রতিফলন দু-রকমের হয়— 1. নিয়মিত প্রতিফলন এবং 2. বিক্ষিপ্ত বা অনিয়মিত প্রতিফলন । 

সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ মসৃণ প্রতিফলকে আপতিত হলে ওই রশ্মিগুলি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রতিফলিত হয় এবং প্রতিফলিত রশ্মিগুলিও পরস্পরের সমান্তরাল হয় । আলোকরশ্মির এই ধরনের প্রতিফলনকে নিয়মিত প্রতিফলন বলা হয় । 

নিয়মিত প্রতিফলন এর উদাহরণ 

সমতল আয়না , স্থির জল , মসৃণ ধাতব পৃষ্ঠ প্রভৃতি থেকে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন হয় । 

আয়নায় আলো পড়লে আয়না চকচক করে কেন

আয়নার তল মসৃণ বলে আয়নায় আলোকরশ্মির নিয়মিত প্রতিফলন হয় । নিয়মিত প্রতিফলনে প্রতিফলিত রশ্মিগুচ্ছ একটি নির্দিষ্ট দিকে অগ্রসর হয় । সেই দিক থেকে তাকালে আয়নার যে অংশে প্রতিফলন হয় , সেই স্থানটিকে চকচকে দেখায় । 

কিন্তু , ঘরের দেয়াল অমসৃণ । দেয়ালে আলোকরশ্মির বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন হওয়ায় প্রতিফলিত রশ্মিগুচ্ছ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে । তাই যে কোনো দিক থেকে তাকালে দেয়ালকে সমান উজ্জ্বল দেখায় । তাই , আয়নায় আলো পড়লে আয়নাটি চকচক করে , কিন্তু দেয়ালে আলো পড়লে দেয়াল চকচক করে না । 

আয়নার পেছনের দিকে পারদের প্রলেপ দেওয়া হয় কেন

আয়না কাচ দিয়ে তৈরি । কাচ স্বচ্ছ পদার্থ । ফলে কাচের ওপর আলো পড়লে আপতিত আলোকরশ্মির বেশিরভাগ অংশই কাচের মধ্যে দিয়ে প্রতিসৃত হয়ে অপর পাশে চলে যায় । খুব কম পরিমাণ আলোকরশ্মি প্রতিফলিত হয় । তাই অস্বচ্ছ মারকিউরিক অক্সাইডের বা পারদের প্রলেপ লাগিয়ে আয়নার পেছনের দিকটি সামতলিক করা হয় , যাতে বেশিরভাগ আলোকরশ্মি ওই অস্বচ্ছ প্রলেপ কর্তৃক নিয়মিত প্রতিফলিত হয় এবং আয়নায় প্রতিবিম্ব গঠিত হয় । 

error: Content is protected !!