অসহযোগ আন্দোলন

অসহযোগ আন্দোলন 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানে ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে । স্বায়ত্ত শাসনের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের অনীহা ভারতবাসীর নিকট অসহ্য মনে হয় । চীন , রাশিয়া , মিশর , আয়ারল্যান্ড প্রভৃতি দেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের নতুন প্রেরণা দান করে ।  

কিন্তু ব্রিটিশ সরকার সমগ্র পরিস্থিতিকে দমনমূলক মানসিকতা দ্বারা বিচার করতে থাকে । সরকার ‘ রাওলাট আইন ’ নামক দমনমূলক আইন জারি করে ভারতবাসীর কণ্ঠরোধ করতে উদ্যত হয় । এই আইন দ্বারা ভারতবাসীর ন্যায় বিচার লাভের অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতাও কেড়ে নেওয়া হয় । এই আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন ভারতের জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ । 

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড 

এইরূপ জাতীয় পরিস্থিতিতে ভারতীয় রাজনীতিতে আবির্ভূত হন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ( ১৮৬৮-১৯৪৮ খ্রিঃ ) । ভারতবাসীর ক্ষোভকে গণ আন্দোলনে পরিণত করার প্রধান কৃতিত্ব তারই । ন্যায্য অধিকার লাভ করার অস্ত্র হিসেবে তিনি শান্তিপূর্ণ নৈতিক প্রতিরোধ বা সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতি ভারতবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন । ‘ রাওলাট আইন ‘ প্রত্যাহার করার জন্য তিনি সরকারকে আবেদন জানান । কিন্তু ব্রিটিশ সরকার আইন প্রত্যাহারের পরিবর্তে শুরু করে নিপীড়ন ।  

অমৃতসরের ‘ জালিয়ানওয়ালাবাগ ’ নামক স্থানে কয়েক হাজার নিরস্ত্র মানুষ রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশে উপস্থিত হলে কুখ্যাত ইংরেজ জেনারেল ও ডায়ার আকস্মিক গুলিবর্ষণ করে হত্যা করেন শিশু , বৃদ্ধ , নারীসহ কয়েক হাজার মানুষকে । এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধিক্কার ওঠে দেশে বিদেশে সর্বত্র । সারাদেশে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া । কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঘৃণায় প্রত্যাখ্যান করেন ‘ স্যার ’ উপাধি । সমস্ত ঘটনা ভারতবাসীকে ক্রমশ আন্দোলনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে । 

খিলাফত আন্দোলন   

ইতিমধ্যে তুরস্কের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতবর্ষের মুসলমানদের মধ্যে দারুণ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে । বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভ করার পরে ইংল্যান্ডসহ মিত্রপক্ষীয় দেশগুলির নির্দেশে তুরস্কের সুলতান সিংহাসনচ্যুত ও ক্ষমতাচ্যুত হলে বিশ্বের মুসলমান সমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন । কারণ তুর্কি সুলতানই ‘ খলিফা ’ হিসেবে ছিলেন সমগ্র মুসলিম সমাজের প্রধান ধর্মীয় নেতা । খলিফাকে স্বমর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং তুরস্কের প্রতি ব্রিটিশ সরকারের নীতি পরিবর্তনের দাবিতে যে ব্যাপক বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয় , তা ‘ খিলাফত আন্দোলন ‘ নামে পরিচিত । ভারতবর্ষেও মহম্মদ আলি ও সৌকত আলির নেতৃত্বে ‘ খিলাফত আন্দোলন ‘ ব্যাপক আকার লাভ করেছিল । 

অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা 

গান্ধীজি খিলাফত আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন । কলকাতায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের অধিবেশনে কংগ্রেস খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয় । গান্ধীজি কংগ্রেসের অসহযোগ আন্দোলনের সাথে খিলাফত আন্দোলনকে সংযুক্ত করে এক বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন । ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে গান্ধীজি ঐক্যবদ্ধ গণ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ‘ অহিংস অসহযোগ ‘ ( non violent non cooperation ) নীতি ঘোষণা করেন । নাগপুরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের বাৎসরিক অধিবেশনে বিপুল উৎসাহের সঙ্গে এবং সর্বসম্মতিক্রমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি রূপায়ণের প্রস্তাব গৃহীত হয় । 

লক্ষ্য ও কর্মসূচি 

অসহযোগ আন্দোলনের লক্ষ্য বর্ণনা করতে গিয়ে গান্ধীজি বলেন যে , পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি বিধান এবং খিলাফত প্রশ্নের সম্মানজনক সমাধান ছাড়াও এই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য হল ভারতবাসীর স্বায়ত্তশাসন অধিকার আদায় করা । তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন , “ ভারতবাসীর সম্মান ও ন্যায্য দাবির প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন হৃদয়হীন বিদেশি সরকারের সঙ্গে কোনোরকম সহযোগিতা করা পাপ “।  

অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল সরকারি খেতাব প্রত্যাখ্যান , স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন সংস্থাগুলি থেকে সরকার মনোনীত সদস্যদের পদত্যাগ , সর্বপ্রকার সরকারি অনুষ্ঠান বর্জন , সরকার পরিচালিত স্কুল কলেজ বয়কট , ব্যবহারজীবী ( উকিল , মোক্তার ইত্যাদি ) ও বিচারপ্রার্থীদের ব্রিটিশ আদালত বর্জন , আইনসভার নির্বাচন বর্জন , মেসোপটেমিয়ায় ব্রিটিশ সামরিক চাকুরি প্রত্যাখ্যান , স্বদেশি দ্রব্য উৎপাদন ও ক্রয় , অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ ইত্যাদি । 

শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলন 

প্রবল জলোচ্ছ্বাসের মতো অসহযোগ আন্দোলন সমগ্র ভারতবর্ষে ব্যাপ্ত হয়ে পড়ে । ছাত্র-যুবা , হিন্দু-মুসলমান , স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে । ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাস নাগাদ অসহযোগ আন্দোলন জনমানসে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করে । শুধুমাত্র ছাত্র যুবা বা সাধারণ বৃত্তিজীবী মানুষ নয় , শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণিও এই আন্দোলনে ব্যাপক হারে অংশগ্রহণ করে ।  

মাদ্রাজের কৃষক সম্প্রদায় ও অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার ভূমিহীন কৃষকশ্রেণি অসহযোগ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে প্রায় ৪০ টি শিল্প শ্রমিক ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয় । এই সময়ের দুটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল ‘ অসম-বেঙ্গল রেলপথে ধর্মঘট ‘ এবং মেদিনীপুরে ‘ খাজনা বন্ধ ’ আন্দোলন । আসামের চা বাগানের শ্রমিকদের ওপর ইংরেজ প্রভুদের অকথ্য শোষণ ও অত্যাচারের প্রতিবাদে ‘ রেল ধর্মঘট ’ পালিত হত । অন্যদিকে বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের নেতৃত্বে মেদিনীপুরের গ্রামাঞ্চলের জনগণ ইউনিয়ন বোর্ডের ধার্য কর দিতে অস্বীকার করে । 

সরকারি দমন পীড়ন 

অসহযোগ আন্দোলনের ব্যাপ্তি দেখে সরকারও বিচলিত হয়ে পড়ে এবং ক্রমশ দমন পীড়নের মাত্রা বৃদ্ধি করতে শুরু করে । কংগ্রেস সেবাদল সংগঠন ও খিলাফৎ কমিটি বেআইনি ঘোষিত হয় । অধিকাংশ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় । চিত্তরঞ্জন দাশ ক্ষোভের সঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন , “ সমস্ত ভারতবর্ষই পরিণত হয়েছে কারাগারে । সুতরাং কী এসে যায় যদি আজকে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় অথবা বাড়িতে থাকি । ” 

চৌরিচৌরা ঘটনা 

১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে আহমেদাবাদ অধিবেশনে কংগ্রেস ব্যক্তিগত ও গণ আইন অমান্য আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করে । আন্দোলনের সর্বাধিনায়ক গান্ধীজি গুজরাটের বরদলৈ জেলাকে গণ আইন অমান্যের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেন । গান্ধীজির সিদ্ধান্ত সারাদেশে বিপুল উৎসাহ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে ।  

কিন্তু এই আন্দোলন শুরু করার মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার অন্তর্গত চৌরিচৌরা গ্রামের এক কৃষক সমাবেশের ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে উত্তেজিত জনতা থানা আক্রমণ করে এবং অগ্নিসংযোগ করে । এই ঘটনায় ২২ জন পুলিশকর্মীর মৃত্যু ঘটে । এই ঘটনায় গান্ধীজি প্রচণ্ড মর্মাহত হন এবং তাঁর পরামর্শক্রমে কংগ্রেস অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় । 

অসহযোগ আন্দোলনের সমাপ্তি 

এত বড়ো আন্দোলনের আকস্মিক স্থগিতের সিদ্ধান্ত সারাদেশে সৃষ্টি করে গভীর হতাশার । সুভাষচন্দ্র এই সিদ্ধান্তকে ‘ nothing short of a national calamity ‘ বলে বর্ণনা করেন । নেহরু বলেন , “ কন্যাকুমারীর একটা অঞ্চলের ভুলের জন্য হিমালয়ের পাদদেশে আন্দোলন বন্ধ করা হবে কেন ? ” লালা লাজপত রায় , মতিলাল নেহরু প্রমুখও গান্ধীজিকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য পত্র লেখেন । কিন্তু গান্ধীজি এই ঘটনাকে ‘ bitterest humiliation ‘ বলে নিন্দা করেন এবং নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকেন । এইভাবে ভারতবাসীর একটি সুগঠিত গণ আন্দোলনের করুণ পরিসমাপ্তি ঘটে । 

ব্যর্থতার কারণ 

আপাতবিচারে অসহযোগ আন্দোলন লক্ষ্যপূরণে সমর্থ হয়নি । খিলাফত সমস্যা বা পাঞ্জাব অত্যাচারের সমাধান হয়নি কিংবা ভারতবাসী স্বরাজও অর্জন করেনি । এত ব্যাপক একটা আন্দোলনের ব্যর্থতার জন্য ইতিহাসবিদগণ অনেকগুলি কারণের উল্লেখ করেছেন ।  

প্রথমত , অসহযোগ আন্দোলন এককভাবে গান্ধীজির নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল । ব্যক্তিকেন্দ্রিক যে কোনো আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না । গান্ধীজির গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গে তাই এই আন্দোলন স্তব্ধ হয়ে যায় । 

দ্বিতীয়ত , খিলাফত আন্দোলনের সাথে অসহযোগ আন্দোলনকে যুক্ত করে কোনো লাভই হয়নি , পরন্তু এর ফলে আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল । তুরস্কের জনগণ ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল ছিল না । তাই তারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রবর্তন করে খিলাফত আন্দোলনের ভিত্তিভূমিকে নড়িয়ে দিতে দ্বিধা করেনি । সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় মুসলমানদের অনেকেই জাতীয় সংহতির পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক স্বার্থপূরণের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে ।  

তৃতীয়ত , জুডিথ ব্রাউন এর মতে অসহযোগ আন্দোলন কংগ্রেস রাজনীতির কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি । অবশ্য এ বক্তব্য অনেকে মানেন না । কারণ এই আন্দোলন দ্বারা কংগ্রেস একটি গণ সাংগঠনিক চরিত্র অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল ।

মূল্যায়ন 

প্রত্যক্ষ ফল লাভে ব্যর্থ হলেও অসহযোগ আন্দোলন পরোক্ষ ফলে সমৃদ্ধ ছিল । ঐতিহাসিক তারাচাঁদ অসহযোগ আন্দোলনকে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ‘ নিরস্ত্র বিদ্রোহ ’ বলে অভিহিত করেছেন । তাঁর মতে , এই আন্দোলনের অন্যতম সুফল হল ভারতবাসীর নৈতিক জয় । বিফল হলেও এই আন্দোলন সুদূর গ্রামাঞ্চলে গণ চেতনার সৃষ্টি করেছিল ।  

প্রথমত , স্বরাজ অর্জনের জন্য যে ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রয়োজন , তা পাওয়া গিয়েছিল এই আন্দোলন থেকে । অসহযোগ আন্দোলন ভারতবাসীর ভয় ও হতাশা দূর করতে সাহায্য করেছিল । ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার মনে করেন , এই আন্দোলনে ভারতবাসী এক অগ্নিপরীক্ষা দ্বারা নতুন মন্ত্রে দীক্ষা নিয়েছিল এবং আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়েছিল ।  

দ্বিতীয়ত , এই আন্দোলনের মাধ্যমে কংগ্রেসের মর্যাদা ও প্রতিপত্তি যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল । শুধু শিক্ষিত ও শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণি মুখপাত্র রূপে নয় , গ্রামীণ সাধারণ মানুষে বিশ্বস্ত গণ প্রতিষ্ঠান রূপেও কংগ্রেস প্রতিভাত হয়েছিল ।  

তৃতীয়ত , অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতবাসীর জাতীয়তাবাদী আন্দোলন প্রথম গণমুখী চরিত্র অর্জন করে । শহরের ক্ষুদ্র গণ্ডি থেকে আন্দোলনের তাপ ছড়িয়ে পড়ে সুদূর গ্রামে গঞ্জে ।  

চতুর্থত , এই আন্দোলন ইংরেজ শাসকদেরও বিচলিত করে তুলেছিল । মাদ্রাজের গভর্নর ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিবকে এক পত্রে লিখেছিলেন , “ এই আন্দোলন সাধারণ জনগণের মনে রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধি করেছে এবং আমাদের শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে । ” বড়োলাটও লন্ডনে প্রেরিত তারবার্তায় একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ।  

পঞ্চমত , দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশের বিশেষ সহায়ক হয়েছিল অসহযোগ আন্দোলন । দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও অস্পৃশ্যতা বর্জন প্রভৃতি অর্থনীতি ও সমাজকে পুষ্ট করেছিল । অবশ্য আন্দোলনের কয়েকটি সীমাবদ্ধতার দিকেও আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় ।  

যেমন অসহযোগ আন্দোলনের মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন অংশে কৃষক সমাজ আন্দোলনে লিপ্ত হলেও , জাতীয় কংগ্রেস সেই আন্দোলনকে যথার্থভাবে সাহায্য করেনি । কারণ কংগ্রেস মনে করত যে , কৃষক আন্দোলনকে মদত দিলে কংগ্রেসের শুভানুধ্যায়ী জমিদারশ্রেণি কষ্ট পাবে । তা ছাড়া কংগ্রেসের বহু সদস্য ছিলেন জোতদার । তারাও কৃষকদের অর্থনৈতিক শোষণ মুক্তির আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন ।

error: Content is protected !!