সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহ

সন্ন্যাসী ফকির বিদ্রোহ 

কোম্পানি বাংলাদেশে ক্ষমতা লাভের অব্যবহিত পরেই সন্ন্যাসী বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল । ১৭৬০ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চল্লিশ বছর ছিল এই বিদ্রোহের ব্যাপ্তি । নামে সন্ন্যাসী বিদ্রোহ হলেও বহু মুসলমান ফকির এই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিল । বিদ্রোহীরা ক্ষুধার্ত কৃষক , অধিকারচ্যুত জমিদার এবং ছাঁটাই সিপাহিদের অকুণ্ঠ সমর্থন লাভ করেছিল ।  

ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ( ১৭৭০ খ্রিঃ ) ফলে এই বিদ্রোহ গণসমর্থন লাভে সক্ষম হয় । এই অভূতপূর্ব দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী ছিল কোম্পানির ‘ দ্বৈত শাসন ’ এবং কর্মচারীদের ‘ সীমাহীন শোষণ ’ । তাই দলে দলে সাধারণ চাষি,শ্রমিক এই বিদ্রোহে যোগ দিয়ে সন্ন্যাসীদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছিল ।  

১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে এই বিদ্রোহ সর্বোচ্চ ব্যাপকতা লাভ করে । বিদ্রোহীদের প্রবল আক্রমণের চাপে ঢাকা , রংপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ব্রিটিশ প্রশাসন প্রায় অচল হয়ে পড়ে । ক্যাপ্টেন টমাস সেনা বাহিনী নিয়ে যুদ্ধ করেও বিদ্রোহীদের হাতে পরাজিত ও নিহত হন ।  

এই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে প্রায় ৭ হাজার সন্ন্যাসী বগুড়া ও ময়মনসিংহের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে । এখানে ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ড বিদ্রোহীদের হাতে বিপর্যস্ত হন । বিদ্রোহ ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারেও ছড়িয়ে পড়ে । ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কোম্পানি সন্ন্যাসী বিদ্রোহীদের সাথে লড়াই চালিয়ে যায় ।  

কোনো কোনো ঐতিহাসিক বিদ্রোহী সন্ন্যাসী ও ফকিরদের নিছক ডাকাতদল বলে অভিহিত করেছেন । কিন্তু এ বক্তব্য সত্য নয় । সন্ন্যাসী নেতা ভবানী পাঠক , দেবী চৌধুরানী এবং ফকির নেতা মজুন শাহ , চেরাগ আলি , মুসা , পরাগল শাহ প্রমুখ শুধুমাত্র অর্থলোভে নয় , ইংরেজের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানিয়েছিলেন ।

error: Content is protected !!