১৮১৩ সালের সনদ আইন

১৮১৩ সালের সনদ আইন

১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের সনদ আইনের মেয়াদ ছিল কুড়ি বছর । তাই এই মেয়াদকাল পূর্ণ হবার মুহূর্তে আবার ইংল্যান্ডে কোম্পানির বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি হয় এবং নানাপ্রকার দাবি উত্থাপিত হতে থাকে । বিরোধীরা দাবি করে যে , কোম্পানির বাণিজ্যের একচেটিয়া অধিকার লোপ করা হোক । বিশেষ করে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট তাঁর ‘ মহাদেশীয় অবরোধ ’ ঘোষণার দ্বারা ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে কোনো কোনো সদস্য দাবি করেন যে , ভারতবর্ষের শাসন দায়িত্ব কোম্পানির হাত থেকে সরাসরি সরকারের হাতে আনা হোক এবং ইংল্যান্ডে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দ্বারা নিযুক্ত উপযুক্ত ব্যক্তিদের হাতে ভারতের শাসন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হোক ।  

ইতিমধ্যে সরকার কর্নওয়ালিশের শাসন পদ্ধতির ফলাফল অনুশাসনের জন্য ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে যে কমিটি নিযুক্ত করেছিলেন , ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে তার প্রতিবেদন পাওয়া যায় । ব্রিটিশ জনমতের দাবি এবং এই সরকারি প্রতিবেদন এর ভিত্তিতে ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে আর একটি ‘ চার্টার অ্যাক্ট ‘ বা  ‘ সনদ আইন ‘ পাশ করা হয় ।

১৮১৩ সালের সনদ আইনের শর্ত বা ধারা

১৮১৩ -এর সনদ আইনে একটা আপসমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় ।

( ১ ) কয়েকটি শর্তাধীনে অন্যান্য কোম্পানিকেও ভারতে বাণিজ্য করার অধিকার দেওয়া হয় ।

( ২ ) কেবল চীন দেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আরও কুড়ি বছর একচেটিয়া বাণিজ্য অধিকার বহাল থাকে ।

( ৩ ) এই আইনে সর্বপ্রথম ভারতে শিক্ষা , সংস্কৃতি বিষয়ে কোম্পানির কিছু কর্তব্য নির্দিষ্ট করা হয় । স্থির হয় এদেশের শিক্ষা সংস্কৃতির বিকাশের জন্য কোম্পানি বছরে এক লক্ষা টাকা ব্যয় করবে । কোম্পানির সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের শিক্ষারও কিছু ব্যবস্থা করা হয় ।

( ৪ ) কলিকাতায় একজন বিশপ এবং তিনজন অধস্তন যাজক নিয়োগ করে খ্রিস্টান ধর্ম ব্যাখ্যা করা ও তা প্রচারের সিদ্ধান্ত হয় ।

( ৫ ) ইংরেজগণকে ভারতে জমি ক্রয় করার ও স্থায়ীভাবে বসবাস করার অনুমতি দেওয়া হয় ।

error: Content is protected !!