স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে

স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে 

স্নায়ুতন্ত্র কাকে বলে

সকল জীব বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে । এই সামঞ্জস্য রক্ষায় এন্ডোক্রাইন তন্ত্র ( Endocrine System ) এবং স্নায়ুতন্ত্র ( Nervous System ) বিশেষ ভূমিকা পালন করে । উদ্ভিদদেহে স্নায়ুতন্ত্র নেই , তাই কেবলমাত্র এন্ডোক্রাইন তন্ত্রের মাধ্যমে সামঞ্জস্য রক্ষা করে । 

পক্ষান্তরে , প্রাণীরা বিশেষ করে উন্নত শ্রেণির প্রাণীরা , ঐ উভয় তন্ত্রের মাধ্যমে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে । আণুবীক্ষণিক এককোশী জীবেরা কোশীয় প্রাটোপ্লাজম ও বহিরাবরণীর মাধ্যমে সামঞ্জস্য বজায় রাখে । বহুকোশী প্রাণীদের ( হাইড্রা ) দেহে স্নায়ুতন্ত্রের প্রথম অর্বিভাব ঘটে । চ্যাপ্টাকৃমি , অঙ্গুরীমাল , সন্ধিপদ প্রভৃতি অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের স্নায়ুতন্ত্রটি নিরেট ও দেহের অঙ্কীয়দেশে থাকে কিন্তু মেরুদণ্ডীদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রটি ফাঁপা ও দেহের পৃষ্ঠদেশে থাকে । ধাপে ধাপে সরল প্রাণীদেহ জটিল হতে থাকায় স্নায়ুতন্ত্রও ক্রমশ উন্নত হয়েছে এবং মানবদেহে স্নায়ুতন্ত্র ও জ্ঞানেন্দ্রিয়ের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটেছে । 

স্নায়ুতন্ত্রের সংজ্ঞা

যে তন্ত্রের সাহায্যে প্রাণীরা বাইরের পরিবেশ সম্পৰ্কীয় ব্যাপারে সচেতন থাকে এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যপ্রণালীগুলির সমন্বয় সাধন করে , তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে । উল্লেখ্য , দুটি শর্তের উপর স্নায়ুতন্ত্রের কাজ নির্ভর করে , যথা— 

( 1 ) উদ্দীপক ( Stimulus ) এবং ( 2 ) উত্তেজিতা ( irritability ) ।

উদ্দীপক : 

দেহের বাইরে বা ভিতরের অবস্থাগত যে পদার্থ জীবদেহে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে , তাদের উদ্দীপক বলে । 

উদাহরণ : আলো , উষ্ণতা , ক্ষুধা , বেদনা প্রভৃতি ।

উত্তেজিতা‌ : 

দেহের বাইরে বা ভিতরের উদ্দীপকের প্রভাবে জীবদেহে যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় তাকে উত্তেজিতা বলে । উত্তেজিতা গ্রাহক , বাহক এবং কারক -এর উপর নির্ভরশীল ।

গ্রাহক : যে সকল কোশ বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে প্রাণীদেহে উদ্দীপনা গৃহীত হয় তাদের গ্রাহক বলে । উদাহরণ : জিহ্বার স্বাদ গ্রাহক কোশ , চক্ষুর আলোক সংবেদন কোশ প্রভৃতি । কর্ণ , নাসিকা প্রভৃতি গ্রাহক অঙ্গ । 

বাহক : গ্রাহকের মাধ্যমে গৃহীত উদ্দীপনা দেহের নির্দিষ্ট স্থানে যে বহন করে তাকে বাহক বলে । উদাহরণ : স্নায়ুকোশ বা নিউরোন । 

কারক : যে অঙ্গের মাধ্যমে প্রাণীদেহ উদ্দীপনায় সাড়া প্রদান করে তাকে কারক বলে । উদাহরণ : বিভিন্ন প্রকার পেশি ও গ্রন্থি ।

স্নায়ুতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য 

( i ) স্নায়ুকলায় গঠিত । 

( ii ) নিউরোন এর একক । 

( iii ) উত্তেজনায় উদ্দীপ্ত হয় । 

( iv ) দেহের নির্দিষ্ট স্থানে উদ্দীপনা পৌঁছে দেয় । 

( v ) নানা অঙ্গের ক্রিয়া-কর্মের সমন্বয় রক্ষা করে ।

স্নায়ুতন্ত্রের উপাদান 

গঠনগত উপাদান : স্নায়ুকোশ বা নিউরোন এবং নিউরোগ্লিয়া কোশ ও এদের সমন্বয়ে গঠিত স্নায়ু , স্নায়ুগ্রন্থি , স্নায়ুসন্নিধি , মস্তিষ্ক , সুষুম্নাকাণ্ড , করোটি স্নায়ু এবং সুষুম্না স্নায়ু ।

কার্যগত উপাদান : গ্রাহক , বাহক ও কারক এবং এদের সমন্বয়ক প্রতিফলন ।

স্নায়ুতন্ত্রের কাজ 

( i ) পরিস্থিতি অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন তন্ত্রের কার্য নিয়ন্ত্রণ করা । 

( ii ) দেহস্থ অঙ্গসমূহের কার্যকারিতার সমন্বয় সাধন করা । 

( iii ) গ্রাহকের মাধ্যমে উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়া । 

( iv ) স্নায়বিক উদ্দীপনা কারকে প্রেরণ করা । 

( v ) গ্রন্থির রস নিঃসরণে ও পেশীর সংকোচনে সাহায্য করা ।

error: Content is protected !!