বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম

বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম

প্রাণীদেহে প্রধানত নাইট্রোজেন বিপাক জনিত রেচন পদার্থ সৃষ্টি হয় । সে কারণে অ্যামোনিয়া , ইউরিয়া ও ইউরিক অ্যাসিড রেচন বস্তু হিসেবে দেহ থেকে নির্গত হয় । অবশ্য মাকড়সাসেপিয়া গুয়ানিন রেচন বস্তু হিসেবে নির্গত করে । বৃক্ক প্রাণীদের উন্নত রেচন অঙ্গ । মানবদেহে অবস্থিত বৃক্ক অত্যন্ত সুগঠিত এবং উন্নততম । নিম্ন শ্রেণি থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে উন্নতমানের বৃক্কের আবির্ভাব ঘটেছে । 

অ্যামিবা :

অ্যামিবা সহ এককোশী প্রাণীদের কোনো রেচন অঙ্গ নেই । সংকোচন-প্রসারণশীল গহ্বরের মাধ্যমে এরা রেচন কার্য সম্পন্ন করে । 

হাইড্রা : 

বহুকোশী এই প্রাণীর কোনো রেচন অঙ্গ নেই । দেহের মধ্যে জল নালিপথে চলাচলের মাধ্যমে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রেচন বস্তু বাইরে মুক্ত করে ।

ফিতাকৃমি :  

ফ্লেমকোশ নামক রেচন অঙ্গের মাধ্যমে রেচন পদার্থ দেহের বাইরে নির্গত করে । 

কেঁচো :  

কেঁচোর রচন অঙ্গ নেফ্রিডিয়া দেহ থেকে রেচন বস্তু বাইরে বের করে দেয় । 

চিংড়ি :  

সবুজ গ্রন্থি এদের রেচন অঙ্গ । রেচন থলি , এন্ডস্যাক , ল্যাবাইরি , মূত্রথলি ও রেচন ছিদ্র সমন্বয়ে এই অঙ্গ গঠিত । রেচন থলি থেকে রেচন ছিদ্রের মাধ্যমে রেচনবস্তু মূত্র বাইরে নির্গত হয় । 

আরশোলা :  

এদের রেচন অঙ্গ ম্যালপিজিয়ান নালিকা রেচন বস্তু শোষণ করে পৌষ্টিক নালিতে নির্গমন করে । রেচন বস্তু মলের সঙ্গে দেহ থেকে বের হয়ে যায় ।

অক্টোপাস :  

অক্টোপাসের রেচন অঙ্গের নাম বৃক্ক । ব্রাঙ্কিয়াল শিরা ও রেনাল শিরার প্রাচীর গ্রন্থিময় কলা দ্বারা আবৃত হয়ে রেনাল স্যাক -এর মধ্যে অবস্থান করে । গ্রন্থি কোশগুলির মাধ্যমে রেচন বস্তু রক্ত থেকে শোষিত হয়ে রেনাল স্যাক -এ মুক্ত হয় । রেনাল স্যাক থেকে রেনাল ছিদ্রের মাধ্যমে রেচন বস্তু দেহের বাইরে বেরিয়ে যায় । মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বৃক্কই প্রধান রেচন অঙ্গ । মাছ ব্যাং , সাপ , পায়রা এবং গিনিপিগ -এর বৃক্কের গঠন কার্যপদ্ধতির মধ্যে ধারাবাহিকতা রেচন প্রক্রিয়াকে সুসংহত ও উন্নত মাত্রা প্রদান করেছে । সঙ্গত কারণে মাছের প্রোনেফ্রস প্রকৃতির বৃক্ক থেকে ব্যাং ও ঐ জাতীয় কিছু উভচর প্রাণীদের মধ্যে মেসোনেফ্রস বৃক্কের আবির্ভাব এবং কালক্রমে সরীসৃপ , পক্ষী ও স্তন্যপায়ীদের মধ্যে মেটানেফ্রস বৃক্কের উপস্থিতি ঐ ধারাবাহিকতার প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বহন করছে । স্তন্যপায়ীদের মধ্যে মানুষের বৃক্কই উন্নত মানের ।

error: Content is protected !!