রজন কাকে বলে

রজন কাকে বলে

কোনো কোনো উদ্ভিদের অঙ্গ আঘাতের ফলে বা প্রাকৃতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যে নাইট্রোজেন বিহীন , জলে অদ্রাব্য হলুদ বর্ণের শক্ত রেচন পদার্থ নিঃসৃত করে তাকে রজন বলে ।  

রজনের উদাহরণ : চাঁচ – গালা , ধুনা , তারপিন তেল , হিং , টারপেনটাইন , কানাডা বালসাম প্রভৃতি । 

রজনের উৎস

পাইন , আফিং , শাল প্রভৃতি উদ্ভিদ । 

রজনের প্রকৃতি

( i ) হালকা হলুদ বর্ণের শক্ত , ভঙ্গুর , অনুদ্বায়ী পদার্থ । ( ii ) জলে অদ্রাব্য কিন্তু ইথারে ও কোহলে দ্রাব্য । ( ii ) বানতেল থেকে তৈরি হয় এবং রজন নালীতে জমা থাকে ।

রজন এর প্রকারভেদ

শক্ত রজন :

উৎস : পাইন উদ্ভিদ 

উদাহরণ : চাঁচ – গালা , টারপেনটাইন 

অর্থকরী গুরুত্ব  : i. চাঁচ ও গালা কাঠে রং বা পালিশ করতে লাগে ।

ii. টারপেনটাইন বার্নিশ শিল্পে , সাবান ও ফিনাইল প্রস্তুতে লাগে ।

ওলিও রজন :

উৎস : পাইন , অ্যাবস উদ্ভিদ 

উদাহরণ : তাৰ্পিন তেল , কানাডা বালসাম 

অর্থকরী গুরুত্ব  : i. তাৰ্পিন তেল ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় । 

ii. কানাডা বালসাম আঠা হিসেবে ব্যবহৃত হয় ।

গদ রজন :

উৎস : শাল , হিং উদ্ভিদ 

উদাহরণ : ধুনা , হিং । 

অর্থকরী গুরুত্ব  : i. ধুনা পূজা – পার্বনে ব্যবহৃত হয় । 

ii. হিং মিষ্টান্ন , পায়েস তৈরিতে মশলা রূপে ব্যবহৃত হয় ।

রজনের অর্থকরী গুরুত্ব

i. কাঠের রং ও বার্নিশ শিল্পে চাঁচ – গালা , তার্পিন ব্যবহৃত হয় । 

ii. পূজা – পার্বনে ধুনা ব্যবহৃত হয় । 

iii. পায়েস , মিষ্টান্ন ও সুগন্ধি মশলা তৈরিতে হিং ব্যবহৃত হয় । 

iv. প্রসাধন শিল্পে , চর্ম-শিল্পে , ঔষধ , কালি , ধূপ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম প্রস্তুতে রজন অপরিহার্য । 

v. অয়েল ক্লথ , লিনোনিয়াম , রবার , প্লাস্টিক প্রভৃতি প্রস্তুতে রজন ব্যবহৃত হয় । 

vi. কানাডা বালসাম আঠা হিসেবে বিশেষ করে পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত হয় । 

vii. বাদ্যযন্ত্রের ছড়ে ( বেহালা , এসরাজ ) টারপেনটাইন ব্যবহৃত হয় । 

রজন নালি 

রজননালিতে রজন জমা থাকে । রজননালি রজন উৎপাদনকারী গাছের কাণ্ড , শাখা ও পাতায় থাকে । 

শালগাছের ছাল থেকে নিঃসৃত গঁদ রজন থেকে ধুনা হয় ।

error: Content is protected !!