মূত্র কী

মূত্র কী

( i ) মূত্র হল ফিকে হলুদ বর্ণ বিশিষ্ট , স্বচ্ছ , গন্ধযুক্ত রেচন পদার্থ মিশ্রিত এক প্রকার তরল ।

( ii ) নেফ্রনের মধ্যে উৎপন্ন হয়ে গবিনীর মাধ্যমে মূত্রাশয়ে সঞ্চিত হয় । 

( iii ) মূত্র ত্যাগের বেগে মূত্রাশয়ের পেশি সংকুচিত ও স্ফিংটার পেশি প্রসারিত হলে মূত্র নালির মাধ্যমে দেহের বাহিরে নির্গত হয় । 

মূত্রের উপাদান  

( i ) স্বাভাবিক উপাদান হিসাবে মূত্রে সাধারণত সোডিয়াম ক্লোরাইড , পটাশিয়াম ক্লোরাইড , সালফেট , ফসফেট , ম্যাগনেসিয়াম , ক্যালশিয়াম , আয়রন প্রভৃতি অজৈব পদার্থ থাকে 

( ii ) ইউরিয়া , অ্যামোনিয়া , ইউরিক অ্যাসিড , ক্রিয়েটিনিন , হিপপিউরিক অ্যাসিড , কিটোন বডি , অ্যাসিটোন প্রভৃতি জৈব পদার্থ থাকে । 

( iii ) বিপাকজাত ত্রুটির কারণে কখনো কখনো মূত্রে কিছু অস্বাভাবিক উপাদান যথা প্রোটিন ( অ্যালবুমিন , গ্লোবিউলিন , বেনসজোনস্ প্রোটিন ) , শর্করা ( গ্লুকোজ , ফ্রুকটোজ , গ্যালাকটোজ , ল্যাকটোজ ) , কিটোন বডি , রক্ত , পিগমেন্ট ( বিলিরুবিন ) দেখা যায় । 

মূত্রের পরিমাণ 

একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষ সারাদিনে ( 24 ঘণ্টায় ) 1.0-1.5 লিটার মূত্র ত্যাগ করে ।

মূত্র উৎপাদন 

লাডউইগ , বাউম্যান , স্টার্লিং প্রভৃতি বিজ্ঞানীগণ মূত্র উৎপাদন প্রণালী সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন । বিজ্ঞানী কুসনীর মতটি সর্বাধুনিক । এই মত অনুযায়ী মূত্র উৎপাদনের পর্যায়গুলি হল— ( i ) পরিস্রাবণ , ( ii ) পুনর্বিশোষণ ও ( iii ) ক্ষরণ । 

পরিস্রাবণ :

গ্লোমেরুলাসে আগত অন্তর্মুখী ধমনিকার ব্যাস বড়ো ও গ্লোমেরুলাস থেকে নির্গত বহির্বাহী ধমনিকার ব্যাস ছোটো হওয়ায় গ্লোমেরুলাসের মধ্য দিয়ে রক্ত উচ্চচাপে প্রবাহিত হয় । গ্লোমেরুলার রক্তচাপ ও বিপরীতমুখী অন্যান্য চাপ – এর পার্থক্য বৃক্কীয় ধমনি থেকে জল , লবণ , শর্করা , ইউরিয়া , ইউরিক অ্যাসিড প্রভৃতিকে পরিস্রাবিত করে বাওম্যানস ক্যাপসুল বিবরে গ্লোমেরুলাসের পরিস্রাবক তরল হিসেবে জমা করে । 

পুনর্বিশােষণ :

পরিস্রাবিত তরল বৃক্কীয় নালি পথে যাওয়ার সময় নালিগাত্ৰস্থ কোশ ঐ তরল থেকে সম্ভাব্য পরিমাণ জলের সঙ্গে শর্করা , লবণ , অ্যামিনো অ্যাসিড ও কিছুটা ইউরিয়া , ইউরিক অ্যাসিড প্রভৃতি শোষণ করে দেহে ফিরিয়ে দেয় । 

ক্ষরণ :

বিজাতীয় বস্তু ( হিপপিউরিক অ্যাসিড , ক্রিয়েটিনিন , স্টেরয়েড প্রভৃতি ) ও বিভিন্ন মৌলের আয়ন ক্ষরিত হয়ে নালিকাস্থিত তরলে মিশ্রিত হয় । এই তরলই প্রকৃত পক্ষে মূত্র । মূত্র সংগ্রাহী নালিকার মাধ্যমে গবিণীতে প্রবেশ করে ও পরিশেষে মূত্রথলিতে সঞ্চিত হয়  ।

error: Content is protected !!