মিয়োসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে

মিয়োসিস কোষ বিভাজন কাকে বলে

যে কোশ বিভাজন প্রক্রিয়ায় যৌন জননকারী জীবের একটি ডিপ্লয়েড জনন মাতৃকোশ থেকে চারটি হ্যাপ্লয়েড কোশের সৃষ্টি হয় তাকে মিয়োসিস কোষ বিভাজন ( Meiosis ) বলে । 

1897 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী বোভেরী ( Boveri ) অ্যাসকারিস নামক গোলকৃমির জনন অঙ্গে এই ধরনের কোশবিভাজন লক্ষ করেন । 1905 খ্রিস্টাব্দে জে. বি. ফার্মার ( J. B. Farmer ) এবং মুরে ( Moore ) এই বিশেষ প্রকার কোশবিভাজন পদ্ধতিকে মিয়োসিস নামে অভিহিত করেন । 

মিয়োসিস কোষ বিভাজন কোথায় ঘটে 

i. অপুষ্পক উদ্ভিদের রেণুস্থলী মধ্যস্থ রেণু মাতৃকোশ । 

ii. সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগধানী মধ্যস্থ পরাগরেণু মাতৃকোশ ও ডিম্বক মধ্যস্থ ডিম্বাণু মাতৃকোশ । 

iii. প্রাণীদের শুক্রাশয়ে প্রাইমারি স্পারমাটোসাইট ( Primary Spermatocyte ) এবং ডিম্বাশয়ে প্রাইমারি ঊসাইট ( Oocyte ) । 

মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন বলে কেন

মিয়োসিস পদ্ধতিতে একটি ডিপ্লয়েড ( 2n ) জনন মাতৃকোশ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লায়েড ( n ) অপত্য কোশ সৃষ্টি হয় । ঐ অপত্য কোশের প্রত্যেকটিতে ক্রোমোজোম , সংখ্যা মাতৃকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয় । তাই মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন ( Reduction Division ) বলা হয় । মিয়োসিস পদ্ধতি দুটি পর্যায়ে বিভক্ত , যথা – প্রথম মিয়োটিক বিভাজন ও দ্বিতীয় মিয়োটিক বিভাজন । 

প্রথম মিয়োটিক বিভাজনকে হ্রাসবিভাজন বলার কারণ :

প্রথম মিয়োটিক বিভাজনের ফলে যে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয় তাদের প্রত্যেকটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক । তাই প্রথম মিয়োটিক বিভাজনকে হ্রাস বিভাজন বলে । 

দ্বিতীয় মিয়োটিক বিভাজনকে সমবিভাজন বলার কারণ :

দ্বিতীয় মিয়োটিক বিভাজনের ফলে সৃষ্ট প্রতিটি কোশে ক্রোমোজোমের সংখ্যা তার মাতৃকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান হয় ; তাই একে সম বিভাজন ( Equational Division ) বলে । 

মিয়োসিস কোশ বিভাজনের বৈশিষ্ট্য

মিয়োসিস কোশ বিভাজনে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি দেখা যায়— 

( i ) যৌন জননকারী জীবের ডিপ্লয়েড জনন মাতৃকোশে এবং অযৌন জননকারী জীবের ক্ষেত্রে ডিপ্লয়েড রেণু মাতৃকোশে মিয়োসিস বিভাজন হয় । 

( ii ) একটি ডিপ্লয়েড ( 2n ) কোশ থেকে চারটি হ্যাপ্লয়েড ( n ) অপত্য কোশ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় । 

( iii ) এই প্রক্রিয়ায় ডিপ্লয়েড ( 2n ) মাতৃকোশের নিউক্লিয়াসের পর পর দুবার বিভাজন ঘটে এবং ক্রোমোজোমের একবার বিভাজন ঘটায় চারটি অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট অর্থাৎ হ্যাপ্লয়েড ( n ) অপত্য কোশের সৃষ্টি হয় । 

( iv ) ডিপ্লয়েড ( 2n ) মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস প্রথমবারে বিভাজিত হয় কিন্তু ক্রোমোজোমের বিভাজন ঘটে না সমবণ্টন ঘটে ফলে অপত্য কোশদুটিতে n সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে । এরপর অপত্যকোশ দুটির দ্বিতীয় বারের বিভাজন মাইটোসিস পদ্ধতিতে হয় । ফলে উৎপন্ন চারটি কোশে n সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে । মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় প্রথমবারের বিভাজনকে হ্রাস বিভাজন এবং দ্বিতীয় বারের বিভাজনকে সদৃশ বিভাজন বলে ।

মিয়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব বা তাৎপর্য  

( i ) প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের ফলে জনন কোশ বা গ্যামেটে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক বা হ্যাপ্লয়েড ( n ) হয়ে যায় । যৌন জননকারী জীবের ক্ষেত্রে দুটি বিপরীত হ্যাপ্লয়েড গ্যামেটের মিলনে ডিপ্লয়েড ( 27 ) জাইগোট সৃষ্টি হয় ফলে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে ।

( ii ) অভিব্যক্তিতে সহায়তা করা : মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় ক্রসিংওভারের ফলে ক্রোমোজোমের জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে জীবের প্রকরণ হয় । এই প্রকরণ জীবের অভিযোজনের মাধ্যমে অভিব্যক্তিতে প্রভূত সহায়তা করে । 

ক্রসিংওভার কায়জমা : প্রথম মিয়োটিক প্রফেজের প্যাকিটিন উপদশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমের দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে ক্রোমোজোমীয় অংশের বিনিময় ঘটে । এই বিনিময়ের পদ্ধতিকে ক্রসিং ওভার বলে । ক্রসিংওভারের স্থানগুলি অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ইংরেজি ‘ x’ এর ন্যায় দেখায় । যে বিন্দুতে ক্রোমাটিডগুলি ‘ X ’ চিহ্ন গঠন করে পরস্পরকে অতিক্রম করে তাকে কায়াজমা বলে ।

এন্ডোনিউক্লিয়েজ ও লাইগেজ নামক দুটি এনজাইম ক্রসিংওভারের সময় যথাক্রমে ক্রোমোজোমকে ভাঙতে ও জুড়তে সাহায্য করে । 

error: Content is protected !!