কোশ চক্র ও কোশ চক্রের পর্যায়

কোশ চক্র ও কোশ চক্রের পর্যায়

কোশ চক্র ও কোশ চক্রের পর্যায়

কোশের জীবনকালে একটি কোশ বিভাজনের পরে পরবর্তী কোশ বিভাজন পর্যন্ত কোশের মধ্যে যে সব পরিবর্তন ও ঘটনাবলী চক্রাকারে পরিলক্ষিত হয় তাদের এককথায় কোশ চক্র ( Cell Cycle ) বলে । 

বিভিন্ন জীবে ও বিভিন্ন কোশে কোশ চক্রের সময় ভিন্ন হয় । মানুষের ক্ষেত্রে এর স্থায়িত্বকাল 24 ঘণ্টা । এর মধ্যে 23 ঘণ্টা সময় লাগে ইন্টারফেজে , বাকি 1 ঘণ্টা সময় শুধু বিভাজনে লাগে । 

কোষ চক্রের বিভিন্ন দশা 

1953 খিস্টাব্দে হাওয়ার্ড ও পে‌ল্ক ( Howard and Pelc ) কোশচক্রকে প্রধান চারটি ভাগে বিভক্ত করেন । এগুলি হল – G1, S , G2 , ও M ( মাইটোসিস ) দশা । এর মধ্যে G1 , S ও G2 , ইন্টারফেজ দশার অন্তর্গত । 

ইন্টারফেজ বা অভিভাজন পর্যায় :

G1 দশা : এই দশায় বিভিন্ন প্রকার RNA ( rRNA , tRNA , mRNA ) , রাইবোজোম এবং প্রোটিনের দ্রুত সংশ্লেষ ঘটে এবং কোশের আয়তন বৃদ্ধি পায় । 

S দশা : এই দশায় হিস্টোন প্রোটিন সংশ্লেষ এবং DNA -র সংশ্লেষ অর্থাৎ প্রতিলিপি গঠন হয় । ফলে একটি ক্রোমাটিড দুটো ক্রোমাটিডে পরিণত হয় । 

G2 দশা : এই দশায় প্রোটিন সংশ্লেষ , RNA সংশ্লেষ , প্রাণীকোশে সেন্ট্রোজোমের স্পিন্ডিল তৈরির সরঞ্জাম , মাইটোকনড্রিয়া প্রভৃতি গঠিত হয় ফলে কোশের আয়তনও বৃদ্ধি পায় । 

মাইটোটিক ফেজ বা কোষ বিভাজন পর্যায় :

M দশা বা নিউক্লিয়াসের বিভাজন দশা : এই সময় নিউক্লিয়াসের বিভাজন চারটি দশা , যথা — প্রফেজ , মেটাফেজ , অ্যানাফেজ এবং টেলােফেজের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় । 

D দশা বা সাইটোপ্লাজমের বিভাজন : এই সময় উদ্ভিদ কোশের ক্ষেত্রে কোশের সাইটোপ্লাজম কোশপাত গঠনের মাধ্যমে এবং প্রাণীকোশের ক্ষেত্রে কোশের সাইটোপ্লাজম ক্লিভেজ বা ফারোয়িং পদ্ধতিতে দুই ভাগে বিভক্ত হয় , ফলে মাতৃকোশ থেকে অপত্য কোশের সৃষ্টি হয় ।

error: Content is protected !!