একটি আদর্শ ক্রোমোজোমের গঠন

একটি আদর্শ ক্রোমোজোমের গঠন

1

নিউক্লিয়াসের মধ্যস্থিত নিউক্লিও প্রােটিন দ্বারা গঠিত স্ব প্রজননক্ষম যে সূত্রাকার অংশ জীবের বংশগতির বৈশিষ্ট্যাবলি বহন করে এবং প্রজাতির পরিব্যক্তি , প্রকরণ ও বিবর্তনে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে , তাকে ক্রোমোজোম বলে । 

একটি ক্রোমোজোম কোশ বিভাজনের বিভিন্ন দশায় বিভিন্ন আকৃতির হয় , সাধারণত কোশ বিভাজনের মেটাফেজ এবং অ্যানাফেজ দশায় ক্রোমোজোমের অঙ্গসংস্থান সুস্পষ্ট হয় । মেটাফেজ দশায় দৃশ্যমান একটি আদর্শ ক্রোমোজোমে নিম্নলিখিত অংশগুলি থাকে—

মুখ্য খাঁজ বা প্রাথমিক খাঁজ

ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার সংলগ্ন যে স্বচ্ছ অরঞ্জিত অংশে খাঁজ সৃষ্টি হয় এবং যেখানে কোশ বিভাজনের মেটাফেজ ও অ্যানাফেজ দশায় ক্রোমোজোম বাহু ভাঁজ হয় , তাকে মুখ্য খাঁজ বা প্রাথমিক খাঁজ বলে । 

সেন্ট্রোমিয়ার :

ক্রোমোজোমের মুখ্য খাঁজের যে ঘন অংশটি ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিড দ্বয়কে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং কোশ বিভাজনের সময় বেমতন্তুর সঙ্গে যুক্ত হয় , তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে । 

কাইনেটোকোর :

যে প্লেট বা চাকতি সদৃশ অংশ সেন্ট্রোমিয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকে , তাকে কাইনেটোকোর বলে । 

ক্রোমাটিড 

কোশ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমের দৈর্ঘ্য বরাবর দুটি সমআকৃতি ও সমপ্রকৃতির কুণ্ডলীকৃত তন্তু দেখা যায় , এদের প্রত্যেকটিকে ক্রোমাটিড বলে । সেন্ট্রোমিয়ার অংশে ক্রোমাটিডদ্বয় যুক্ত থাকে । প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেকটি ক্রোমাটিড হল এক একটি অপত্য ক্রোমোজোম । প্রতিটি ক্রোমাটিডের দৈর্ঘ্য বরাবর যে দুটো সূক্ষ্ম সুতোর মতো তন্তু সর্পিলাকারে বিন্যস্ত থাকে , তাদের ক্রোমোনিমাবলে ( একবচনে – ক্রোমোনিমাটা ) । 

ক্রোমোমিয়ার :

ক্রোমোনিমার দৈর্ঘ্য বরাবর একসারিতে সজ্জিত ক্রোমাটিন দানাগুলিকে ক্রোমোমিয়ার বলে । প্রকৃতপক্ষে ক্রোমোমিয়ারের সৃষ্টি হয় নিউক্লিও প্রােটিন পদার্থ ঘনীভূত হয়ে । পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ক্রোমোমিয়ারের মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত হালকা অংশকে আন্তঃ ক্রোমোমিয়ার বলা হয় । 

গৌণ খাঁজ

মুখ্য খাঁজ ছাড়া অন্য কোনো সংকোচন ক্রোমোজোমে থাকলে তাকে গৌণ খাঁজ বলে । ক্রোমোজোমে বাহু কোনো সময়ই এই অংশে ভাঁজ হয় না । ক্রোমোজোমের এই অংশে নিউক্লিওলাস সংগঠিত হয় বলে একেনিউক্লিওলার অর্গানাইজিং রিজিওন বলে । সাধারণত গৌণ খাঁজ ক্রোমোজোম বাহুর প্রান্তের  কাছাকাছি থাকে । 

স্যাটেলাইট বডি

গৌণ খাঁজের পরবর্তী প্রান্তীয় ক্ষুদ্র ক্রোমোজোমীয় অংশকে স্যাটেলাইট বলে । এই স্যাটেলাইট অংশ ক্রোমাটিন তন্তু দ্বারা ক্রোমোজোমের সঙ্গে যুক্ত থাকে । যে ক্রোমোজোমে স্যাটেলাইট থাকে , তাকে sat ক্রোমোজোম বলে । 

টেলোমিয়ার :

ক্রোমোজোমের বিশেষ বৈশিষ্ট্যযুক্ত প্রান্তদ্বয়কে টেলোমিয়ার বলে । ক্রোমোজোমের দুটো প্রান্তভাগেই নির্দিষ্ট মেরুত্ব থাকায় অন্য কোনো ক্রোমোজোম বা ক্রোমোজোম খণ্ড এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না । এই অংশে উপস্থিত রিপিটিটিভ DNA নির্দিষ্ট মেরুত্বের জন্য দায়ী ।

error: Content is protected !!