জনন কাকে বলে

জনন কাকে বলে

জনিতৃ জীব যে পদ্ধতিতে নিজের দেহ বা দেহাংশ থেকে নিজের সত্তা ও আকৃতি বিশিষ্ট অপত্য জীব সৃষ্টি করে নিজের প্রজাতির স্থায়িত্ব বজায় রাখে তাকে জনন বলে । 

জননের প্রকারভেদ

জীবজগতে প্রধানত চার প্রকার জনন পদ্ধতি লক্ষ করা যায় । যথা : ( i ) অঙ্গজ জনন । ( ii ) অযৌন জনন ( iii ) যৌন জনন ( iv ) অপুংজনি । 

অঙ্গজ জনন :

যে জনন পদ্ধতিতে দেহের কোনাে অঙ্গ বা দেহের অংশ জনিতৃ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপত্য জীব সৃষ্টি করে , তাকে অঙ্গজ জনন বলে ।

উদাহরণ : পেঁয়াজ , পাথরকুচি , চুপড়ি আলু , কচুরিপানা প্রভৃতি উদ্ভিদ । 

অযৌন জনন : 

যে জনন পদ্ধতিতে দুটি জননকোশ বা গ্যামেটের মিলন ছাড়াই একটি মাত্র জনিতৃ জীব থেকে কোশ বিভাজনের মাধ্যমে বা বিশেষ পদ্ধতিতে রেণু উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন জীব সৃষ্টি হয় , তাকে অযৌন জনন বলে । 

উদাহরণ : অ্যামিবা , স্পঞ্জ , মিউকর । 

যৌন জনন : 

যে জনন প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্ন প্রকৃতির নিউক্লিয়াস যুক্ত জনন কোশের মিলনের ফলে জিনগত পুনঃসংযুক্তির মাধ্যমে নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত অপত্য সৃষ্টি হয় , তাকে যৌন জনন বলে । 

উদাহরণ : উন্নত শ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণী । 

অপুংজনি : 

বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে যে জনন প্রক্রিয়ায় অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে জীব সৃষ্টি হয় , তাকে অপুংজনি বলে । 

উদাহরণ : মৌমাছি , পিঁপড়ে , বােলতা ।

জননের গুরুত্ব

জননের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা গুলি হল一

( i ) প্রত্যেক জীবের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী তাই জননের দ্বারা জীব অপত্য সৃষ্টির মাধ্যমে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখে । 

( ii ) জননের মাধ্যমেই জীব নিজ প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধি করে জীবজগতে নিজের দায়িত্ব সুদৃঢ় করে । 

( iii ) জীবজগতের ভারসাম্য জননের মাধ্যমেই বজায় থাকে । 

( iv ) যৌন জননের ফলে অপত্যের মধ্যে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটায় প্রজাতির মধ্যে ভেদ বা প্রকরণের সৃষ্টি হয় যা অভিব্যক্তিতে সহায়তা করে । 

( v ) জীবদেহে পরিব্যক্তি যৌন জননের দ্বারা ঘটে , এই পরিব্যক্তিও জীবের অভিব্যক্তিতে সহায়তা করে । 

error: Content is protected !!