মৃত্তিকা সংরক্ষণ কাকে বলে

মৃত্তিকা সংরক্ষণ কাকে বলে

যে পদ্ধতিতে মৃত্তিকার ক্ষয় রােধ করে মৃত্তিকার উর্বরতা শক্তি ও কার্যকারিতা শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং মৃত্তিকা সম্পদকে মানুষের কল্যাণে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির সাহায্যে সুপরিকল্পিত ভাবে ব্যবহার করা হয় এবং অপব্যবহার ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা হয় , তাকে মৃত্তিকা সংরক্ষণ বা মাটি সংরক্ষণ বা ভূমি সংরক্ষণ বলা হয় । 

মৃত্তিকা সংরক্ষণের উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব

মৃত্তিকা সংরক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হল 一

( 1 ) দেশের বনজ সম্পদকে রক্ষা করার জন্য মৃত্তিকা সংরক্ষণ করা প্রয়ােজন । 

( 2 ) চাষ আবাদের জন্য মৃত্তিকার উর্বরা শক্তি বজায় রাখার প্রয়ােজনে মৃত্তিকা সংরক্ষণ করা প্রয়ােজন । 

( 3 ) স্থলজ জীবের বাসস্থান এবং যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মিত রাস্তাঘাট গুলােকে অটুট রাখার জন্য মৃত্তিকা সংরক্ষণ করা প্রয়ােজন । 

( 4 ) বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মৃত্তিকা সংরক্ষণ প্রয়ােজন । 

মৃত্তিকা সংরক্ষণের উপায় বা পদ্ধতি 

মৃত্তিকা সংরক্ষণের উপায়গুলিকে প্রধানত দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয় , যথা— ( I ) মাটি বা ভূমির উর্বরতা শক্তির পুনরুদ্ধার । ( II ) মাটির ক্ষয়রােধ । 

মাটি বা ভূমির উর্বরতা শক্তির পুনরুদ্ধার :

মাটির উর্বরতা শক্তির পুনরুদ্ধার প্রধানত নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলির মাধ্যমে করা হয় —

শস্যের আবর্তন : একই প্রকার ফসল একই জমিতে বারবার চাষ না করে বিভিন্ন প্রকার ফসল বছরের বিভিন্ন ঋতুতে পর্যায়ক্রমিক ভাবে ( Crop rotation ) চাষ করলে জমির উর্বরতা শক্তি সংরক্ষিত থাকে । যদি কোনাে জমিতে ধানচাষ বারবার করা হয় , তাহলে ওই জমিতে ওই উদ্ভিদের জন্য প্রয়ােজনীয় মৌলিক উপাদানের পরিমাণ কমে যায় । ধানচাষের পর ডালজাতীয় শস্যের চাষ করলে জমির উর্বরতা শক্তি সংরক্ষিত থাকে কারণ ডালজাতীয় শস্যের মূলে বসবাসকারী মিথােজীবী ব্যাকটিরিয়া রাইজোবিয়াম মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে । 

মাটিতে সার প্রয়ােগ : মাটি প্রতিবার কর্ষণের সময় উপযুক্ত পরিমাণে জৈব ( যেমন — গােবর ) বা অজৈব সার ( যেমন — ইউরিয়া ) প্রয়ােগ করলে জমির উর্বরতা শক্তি বজায় থাকে । 

শিম্বগােত্রীয় উদ্ভিদের চাষ : শিম্বগােত্রীয় উদ্ভিদের মূলে রাইজোবিয়াম নামক মিথােজীবী ব্যাকটিরিয়া থাকে , এই ব্যাকটিরিয়া বায়ুর নাইট্রোজেনকে নিজের দেহে আবদ্ধ করে , মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে , ফলে মাটি উর্বর হয় । 

মাটির ক্ষয় বা ভূমিক্ষয় রােধ করা : 

মাটির ক্ষয়রােধ প্রধানত নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলির মাধ্যমে করা হয়—

বৃক্ষরােপণ : বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে ( যথা — বৃষ্টির জল , বায়ুপ্রবাহ ) ভূমিক্ষয় যাতে না ঘটে , সেইজন্য নির্দিষ্ট প্রকারে উদ্ভিদ রােপণ করে বনাঞ্চল সৃষ্টি করা হয় । আবার মৃত্তিকাধারক উদ্ভিদ যথা — দূর্বা ঘাস , মুথা ঘাস প্রভৃতি লাগিয়ে ভূমিক্ষয় নিবারণ করা হয় । 

সােপান চাষ বা ধাপ চাষ : পার্বত্য ঢালু জমিতে সিড়ি বা সােপান আকারে ধাপ তৈরি করে চাষ করলে বৃষ্টির ফলে ঢালু জমির ক্ষয়রােধ করা সম্ভব হয় ।

বৃক্ষচ্ছেদ নিবারণ : অপ্রয়ােজনে গাছপালা কেটে ফেলা বন্ধ করা । কারণ উদ্ভিদের মূল মাটির কণাগুলিকে শক্তভাবে আবদ্ধ করে ভূমিক্ষয় রােধ করে ।

বাঁধ নির্মাণ : সঠিকভাবে নদ নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভূমিক্ষয় রােধ করা সম্ভব । 

এছাড়া বিজ্ঞানসম্মত ভাবে ভূমি কৰ্ষণ এবং সারিবদ্ধ চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে ভূমিক্ষয় রােধ করা যায় ।

error: Content is protected !!