সুন্দরী গাছের অভিযোজন

সুন্দরী গাছের অভিযোজন

IMG ২০২১০৭১২ ১০৪৫১২1
সুন্দরী গাছের অভিযোজন

লবণাক্ত মৃত্তিকায় বসবাসকারী সুন্দরীগাছ লবণাম্বু উদ্ভিদের উদাহরণ , এই ধরনের মাটিতে NaCI , MgSO4 , MgCI2 , প্রভৃতি লবণ অত্যধিক পরিমাণে থাকে । অতিরিক্ত লবণ দ্রবীভূত থাকায় এই মৃত্তিকার জলের অভিস্রবণ চাপ বেশি হয় , ফলে উদ্ভিদ সহজে এই লবণাক্ত জল শােষণ করতে পারে না , এছাড়াও এই জল শারীরবৃত্তীয় কাজেও বিশেষ উপযােগী নয় বলে , এই মৃত্তিকাকে শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা বলে । এই মৃত্তিকায় বসবাসের জন্য সুন্দরী গাছে যে অভিযােজনগত বৈশিষ্ট্যগুলি দেখা যায় , সেগুলি নিম্নে আলােচিত হল—

মূল : 

( i ) মৃত্তিকায় লবণের পরিমাণ বেশি থাকার জন্য প্রধান মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে না । 

( ii ) এই মৃত্তিকা প্রায় সবসময় জল দ্বারা প্লাবিত থাকায় এবং কর্দমাক্ত , রন্ধ্রবিহীন লবণাক্ত হওয়ায় মাটিতে বায়ুর পরিমাণ কম থাকে ফলে অক্সিজেনের অপ্রতুলতার কারণে মূলের শ্বসনে অসুবিধা হয় , এই প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য প্রধানমূল থেকে শাখামূল উৎপন্ন হয়ে মৃত্তিকা ভেদ করে বায়বীয় পরিবেশে খাড়াভাবে অবস্থান করে , এই প্রকার শাখামূলকে শ্বাসমূল বলে । শ্বাসমূলের অগ্রভাগে অবস্থিত ছিদ্রের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে গ্যাসীয় আদান প্রদান ঘটে । 

( iii ) এই উদ্ভিদ কর্দমাক্ত মৃত্তিকায় জন্মায় এবং এদের মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করে না , ফলে উদ্ভিদটি যাতে খাড়াভাবে মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে , সেজন্য কাণ্ডের একদম নিম্নাংশ থেকে চ্যাপটা তক্তার মতাে মূল বেরিয়ে মাটিতে সমকোণে প্রবেশ করে এই প্রকার মূলকে অধিমূল বা রূট বা ট্রেস বলে । 

( iv ) অধিমূল ছাড়াও উদ্ভিদকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা দেওয়ার জন্য কাণ্ড থেকে অস্থানিক মূল বেরিয়ে মাটিতে প্রবেশ করে , এই প্রকার অস্থানিক মূলকে ঠেসমূল বলে । 

কাণ্ড : 

( i ) সুন্দরী গাছের কাণ্ড খর্বকায় , গম্বুজাকৃতি এবং শাখা প্রশাখা যুক্ত হয় । 

( ii ) বাষ্পমােচনের হার কমানাের জন্য কাণ্ডের ত্বকে পুরু কিউটিকল বা মােমজাতীয় পদার্থের আস্তরণ থাকে । 

( iii ) সুগঠিত সংবহনকলা এবং যান্ত্রিককলা কাণ্ডে বর্তমান । 

( iv ) কাণ্ডের কোশ মিউসিলেজ যুক্ত হওয়ায় এবং কোশগুলিতে বায়ুগহ্বর না থাকায় কোশের জলধারণ ক্ষমতা বেশি হয় । 

পাতা : 

( i ) সুন্দরী গাছের পাতাগুলি পুরু , রসালাে , চামড়ার ন্যায় খসখসে এবং চকচক করে । 

( ii ) বাষ্পমােচনের হার কমানাের জন্য পাতার ওপর কিউটিকল বা মােমজাতীয় পদার্থের আস্তরণ থাকে । 

( iii ) পত্ররন্ধ্র শুধুমাত্র পাতার নিম্নপৃষ্ঠের ত্বকের গভীরে থাকে অর্থাৎ পত্ররন্ধ্র নিমজ্জিত ( Sunken ) প্রকৃতির ।

( iv ) পাতার আদিকলায় অর্থাৎ মেসােফিল কলায় মূলত প্যালিসেড প্যারেনকাইমা থাকে । প্যালিসেড প্যারেনকাইমা অত্যন্ত সুগঠিত এবং ঘনসন্নিবিষ্ট থাকায় পাতায় কোশান্তর রন্ধ্রের উপস্থিতি খুব কম ।

error: Content is protected !!