অভিযোজন কাকে বলে

অভিযোজন কাকে বলে

কোনাে জীব যে আংশিক কিংবা সামগ্রিক গঠনগত , আচরণগত এবং শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের দ্বারা নির্দিষ্ট কোনাে প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে উপযােগী করে তুলে বেঁচে থাকতে এবং বংশবৃদ্ধি করতে পারে , তাকে অভিযােজন বলে ।

অভিযোজনের উদ্দেশ্য কি

অভিযোজনের উদ্দেশ্যগুলি হল —

( i ) নিজ প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে উপযােগী করে তােলা । 

( ii ) সহজেই পরিবেশের প্রতিকূলতা অতিক্রম করা এবং বিপদে আত্মরক্ষা করা । 

( iii ) নিজের প্রজাতির অস্তিত্ব বজায় রেখে বাস্তুতন্ত্রের বা ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষা করা । 

( iv ) অভিযােজনের ফলে উৎপন্ন অনুকূল পরিবর্তন বা বৈশিষ্ট্য বংশ পরম্পরায় বাহিত হয়ে অভিব্যক্তি বা বিবর্তনের পথ সুগম করা । 

মুখ্য অভিযোজন কাকে বলে

অভিব্যক্তির মাধ্যমে জীব যে পরিবেশে উদ্ভূত ও বিকশিত হয় , ওই জীবের সেই পরিবেশেই অভিযােজন ঘটলে , তাকে মুখ্য বা প্রাথমিক অভিযােজন বলে । যেমন — মাছের উদ্ভব এবং বিকাশ জলেই বলে , ওই পরিবেশে বাস করার জন্য মাকু আকৃতির দেহ , ফুলকা , জোড় বিজোড় পাখনা প্রাথমিক বা মুখ্য অভিযােজন । 

গৌণ অভিযোজন কাকে বলে

কোনাে নির্দিষ্ট পরিবেশে কোনাে জীবের উদ্ভব এবং বিকাশ হয়েছে কিন্তু বিশেষ কারণে ওই জীবকে অন্য পরিবেশে যেতে হলে , সেই পরিবেশে নিজেকে উপযােগী করার জন্য ওই জীবের দেহে যে অভিযােজন দেখা যায় , তাকে গৌণ অভিযােজন বলে । যেমন— মাগুর , কই , শিঙি প্রভৃতি জিয়ােল মাছের অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র । 

অপসারী অভিযোজন কাকে বলে

একই গােষ্ঠীভুক্ত জীব আলাদা আলাদা পরিবেশে বাস করলে ওই জীবেদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অভিযােজন দেখা যায় , এই অভিযােজনকে অপসারী অভিযোজন বলে । যেমন— তিমি এবং মানুষ উভয়ই স্তন্যপায়ী কিন্তু তিমির ক্ষেত্রে জলচর এবং মানুষের ক্ষেত্রে থলচর অভিযােজন দেখা যায় । 

অভিসারী অভিযোজন কাকে বলে

ভিন্ন ভিন্ন গােষ্ঠীভুক্ত জীব একই পরিবেশে বাস করলে ওই জীবেদের মধ্যে একই অভিযােজন দেখা যায় , এই অভিযােজনকে অভিসারী অভিযােজন বলে । যেমন –তিমি এবং মাছ ভিন্ন গােষ্ঠীভুক্ত হলেও একই পরিবেশে অর্থাৎ জলে বাস করার জন্য উভয়ের মধ্যে একই প্রকার অভিযােজন দেখা যায় ।

দ্বি অভিযোজন কাকে বলে

দুটি ভিন্ন পরিবেশে বাস করার জন্য কোনাে জীবের দেহে ওই দুটি পরিবেশের উপযােগী অভিযােজন দেখা গেলে , তাকে দ্বি অভিযােজন বলে ।

error: Content is protected !!