গ্রীন হাউস গ্যাস কাকে বলে

গ্রীন হাউস গ্যাস কাকে বলে

বায়ুমন্ডলের যে সকল গ্যাস ইনফ্রারেড বিকিরণগুলি থেকে শক্তি শোষণ ও নির্গত করে সেই সকল গ্যাসকে গ্রীন হাউস গ্যাস বলা হয় ।

পরিবেশ দূষণের ফলে তৈরি অতিমাত্রিক কার্বন ডাই-অক্সাইড , জলীয় বাষ্প , মিথেন , নাইট্রাস অক্সাইড , ক্লোরােফ্লুরােকার্বন বা ক্রেয়ন গ্যাস , এবং ওজোন গ্রীন হাউস গ্যাস হিসাবে কাজ করে । তবে এদের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রভাব সর্বাপেক্ষা অধিক ।

গ্রীন হাউস গ্যাসের উৎস

গ্যাসের নামউৎস
কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2)1. জীবাশ্ম জ্বালানির দহন
2. অরণ্য বিনাশ
মিথেন (CH₄ )1. প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লা খনি
2. পশুদের মৃত দেহ এবং বর্জ্য বস্তুর পচন থেকে ।
ক্লোরোফ্লোরোকার্বন ( CFC )1. এরোসল স্প্রে ( aerosol spray )
2. প্লাস্টিক ফোম ( plastic foam )
3. রেফ্রিজারেশনের কাজে
নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O)1. অজৈব সার
2. জীবাশ্ম জ্বালানির দহন

গ্রীন হাউস গ্যাসের কাজ 

কার্বন ডাই অক্সাইড :

গ্রীন হাউস গ্যাসের মধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইডের ভূমিকা শতকরা 50 ভাগের অধিক । জীবাশ্ম জ্বালানির দহন এবং অরণ্য সঙ্কোচনের ফলে বাতাসে CO2 – এর পরিমাণ উদ্বেগজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে । বর্তমানে প্রতিবছর 0.5 শতাংশ হারে এর ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে । বাতাসের CO2 প্রধানত সালােকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় । এছাড়া সমুদ্রের জলে প্রচুর পরিমাণে CO2 দ্রবীভূত থাকে । বর্তমানে সমুদ্রে দূষণের আধিক্যের ফলে সেখানকার জলে কমমাত্রায় CO2 দ্রবীভূত হতে পারছে । পরিণামে বাতাসে CO2 – এর পরিমাণ অধিকমাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে । এতে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে । 

মিথেন :

বায়ুমণ্ডলে CO2 – এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মিথেনের ( CH₄ ) স্বাভাবিক বিনাশ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে । ফলে বায়ুতে এর পরিমাণ অত্যধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে । মিথেন CO2 – এর তুলনায় 28 গুণ অধিক সক্রিয় গ্রীন হাউস গ্যাস হওয়ায় এই গ্যাস পৃথিবীর 18 শতাংশ তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী । 

ক্লোরােফ্লুরােকার্বন :

এই গ্যাস CO2 – এর তুলনায় 1000 গুণ বেশি সক্রিয় । এর পরিমাণ প্রতি বছর শতকরা 5-6 ভাগ বৃদ্ধি পাচ্ছে । এই গ্যাসের যৌগগুলির মধ্যে CFC11 এবং CFC12 বেশি সক্রিয় । 

নাইট্রাস অক্সাইড :

এই গ্যাস CO2 – এর তুলনায় 270 গুণ বেশি সক্রিয় । গ্রীন হাউস প্রভাব তৈরিতে এর ভূমিকা শতকরা 6 ভাগ । 

error: Content is protected !!