খাদ্য পিরামিড কাকে বলে

খাদ্য পিরামিড কাকে বলে 

ecologicalpyramid 170725181242 thumbnail 41
খাদ্য পিরামিড কাকে বলে

খাদ্যশৃঙ্খলের নীচ থেকে ওপরের পুষ্টিস্তরে জীবের সংখ্যা , জীবভর ও শক্তির পরিমাণকে ক্রম অনুযায়ী পরপর সাজালে যে পিরামিড তৈরি হয় , তাকে বাস্তুতান্ত্রিক পিরামিড বা খাদ্য পিরামিড বলে । পিরামিড থেকে বাস্তুতন্ত্রের জীবগােষ্ঠীর সংখ্যা , আয়তন ও উৎপাদন ক্ষমতা জানা যায় ।

সাধারণভাবে স্থলজ ও অগভীর জলের বাস্তুতন্ত্রের পিরামিড সাধারণত ঢালু আকারের হয় কারণ , এই পিরামিডের ভূমিতে অবস্থিত উৎপাদকের আকৃতি বৃহদাকার এবং জৈববস্তুর পরিমাণও অনেক বেশি । কিন্তু এই প্রবণতা সর্বত্র সমান নয় । 

যেমন — হ্রদ বা মুক্ত সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রে প্রাথমিক উৎপাদক হচ্ছে আণুবীক্ষণিক শ্যাওলা — যাদের জীবনচক্র খুব ক্ষণস্থায়ী এবং জৈব যৌগের পরিমাণও খুব কম । শুধু তাই নয় তারা খুব দ্রুত জুপ্ল্যাঙ্কটন কর্তৃক ভক্ষিত হয় । এর ফলে এই সকল বাস্তুতন্ত্রের জীবভরের পিরামিড ওল্টানাে হয় অর্থাৎ , ভূমি ক্ষুদ্র এবং ক্রমিক পর্যায়ে শীর্ষের দিকে বৃহত্তর ।  

খাদ্য পিরামিডের প্রকারভেদ

বাস্তুতান্ত্রিক পিরামিড বা খাদ্য পিরামিড তিন প্রকারের হয় । যেমন— ( ১ ) সংখ্যার পিরামিড ( Pyramid of Number ) , ( ২ ) জীবভরের পিরামিড ( Pyramid of Biomass ) এবং ( ৩ ) শক্তির পিরামিড ( Pyramid of Energy ) ।

সংখ্যার পিরামিড :

এই পিরামিড খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতি স্তরের একক জীবের সংখ্যা সূচিত করে । বিজ্ঞানী চার্লস এলটন ( Charles Elton , 1927 ) এই সংখ্যার পিরামিডের উপস্থাপনা করেন । তিনি দেখান যে খাদ্যশৃঙ্খলের প্রতি স্তরে জীবের সংখ্যার বিশেষ তারতম্য ঘটে । তার মতে খাদ্যশৃঙ্খলের ভূমিতে অবস্থিত প্রাণীর সংখ্যা অনেক বেশি ক্ৰমিক পর্যায়ে মাংসাশীর সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পায় এবং শীর্ষে মাত্র সামান্য মাংসাশী প্রাণী অবস্থান করে । যদিও এই পিরামিডের সাহায্যে জীবভর বা শক্তির প্রবহন সম্বন্ধে কিছু জানা যায় না । এটি শুধুমাত্র জীবের সংখ্যা জ্ঞাপক । হ্রদের বাস্তুতন্ত্র এই সংখ্যার পিরামিডের আদর্শ উদাহরণ ।

জীবভরের পিরামিড :

একটি বাস্তুতন্ত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাদ্যচক্রের বিভিন্ন পুষ্টিস্তরে অবস্থিত জীবের শুষ্ক ওজনের উপর ভিত্তি করে যে খাদ্য পিরামিড গড়ে উঠে, তাকে জীবভরের পিরামিড বলা হয় ।

যেকোনাে সময়ে খাদ্যশৃঙ্খলের সদস্যদের জীবভর , জীবভর পিরামিড গঠন করে । এই পিরামিড ভূমি থেকে শীর্ষের দিকে ক্রমপর্যায়ে প্রতি খাদ্যস্তরে জীবভরের হ্রাস প্রাপ্তি জ্ঞাপন করে । উদাহরণ স্বরূপ উৎপাদকের যে জীবভর শাকাশী কর্তৃক গৃহীত হয় তা সামগ্রিক শাকাশীর জীবভর অপেক্ষা বেশি । তেমনি প্রথম মাংসাশী বা গৌণ খাদকের জীবভর অপেক্ষা শাকাশীর জীবভর অনেক বেশি । এভাবে ক্রমপর্যায়ে শীর্ষের জীবভর সর্বাপেক্ষা কম ।

শক্তির পিরামিড :

বাস্তুতন্ত্রের একটি খাদ্যচক্রের প্রত্যেকটি পুষ্টিস্তরের শক্তি উৎপাদনের হারের বিন্যাস সমন্বিত ছককে শক্তির পিরামিড বলা হয় ।

যখন উৎপাদন শক্তি হিসাবে বিবেচিত হয় তখন এই পিরামিড প্রতি খাদ্যস্তরে শক্তির প্রবহন মাত্রাই শুধুমাত্র সূচিত করে তা নয় , প্রতি স্তরে শক্তি প্রবহনে জীব কী উল্লেখযােগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে তাও জ্ঞাপন করে । যে ভূমির উপর পিরামিডটি গঠিত হয় সেই ভূমিটি প্রতি একক সময়ে সেই স্তরে কী পরিমাণ শক্তি উৎপাদিত হচ্ছে তা নিরূপণ করে । অর্থাৎ খাদ্যশৃঙ্খলের মধ্য দিয়ে খাদ্যের প্রবহনের হারকে সূচিত করে । কোনাে কোনাে জীবের জীবভর অল্প হতে পারে কিন্তু যে সামগ্রিক শক্তি তারা উৎপন্ন করে এবং প্রতি স্তরে প্রবহন করে তা অধিক জীবভর যুক্ত জীব অপেক্ষা অনেক বেশি হয় । শক্তির পিরামিডও সর্বদা ঢালু ( sloping ) হয় কারণ প্রতি স্তরে যে পরিমাণ শক্তি আপতিত হয় তা অপেক্ষা অনেক কম প্রবাহিত হয় । 

যেমন — মুক্ত জলাশয়ের সম্প্রদায়গুলির মধ্যে উৎপাদকের আকৃতি খাদক অপেক্ষা অনেক ক্ষুদ্র হলেও যে পরিমাণ শক্তি তারা সঞ্চয় ও প্রবহন করে তা খাদক সম্প্রদায় অপেক্ষা অনেক বেশি । অন্যভাবে বলা যায় , উৎপাদকের জীবভর উৎপাদকের সংখ্যা হতে কখনও বেশি হয় না । 

error: Content is protected !!