জীবমন্ডলের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য

জীবমন্ডলের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য 

জলভাগ ও স্থলভাগে জীবগােষ্ঠীর আবাসস্থলকে জীবমণ্ডল বলা হয় । পৃথিবীতে পৃথক পৃথক জীবমণ্ডল থাকলেও  তাদের  প্রকৃতি বা ধর্ম এক ও অভিন্ন হয় ।

সুনির্দিষ্ট সীমারেখাহীন 

ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 300 মিটার উচ্চতা এবং সমুদ্রের প্রায় 200 মিটার গভীরতা পর্যন্ত জীবের কেন্দ্রীভবন সবচেয়ে বেশি হয় ।এছাড়া মাটির গভীরে প্রায় 10 মিটার পর্যন্ত জীবের বিস্তৃতি রয়েছে । সুতরাং  শিলামণ্ডল , বারিমণ্ডল বা বায়ুমণ্ডলের মতাে জীবমণ্ডলের কোনাে সুনির্দিষ্ট সীমারেখা নেই ।

বাস্তুতন্ত্রের বৃহত্তম একক 

জীবমন্ডলকে একটি বৃহত্তম বাস্তুতন্ত্র ধরা হয় । কারণ এর মধ্যে অসংখ্য ছোটো , বড়ো বাস্তুতন্ত্র  সক্রিয়ভাবে অবস্থান করে । সাধারণত একটি প্রধান বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে অনেকগুলি উপ বা ছোটো ছোটো বাস্তুতন্ত্র থাকে । মনে করা হয় ঠিক যেন , বাস্তুতন্ত্রের মধ্যেই বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে ( Ecosystems occur within ecosystem ) । এই ধারণা অনুযায়ী জীবমন্ডল হলো একটি সর্ববৃহৎ বাস্তুতন্ত্র ।

উপাদানগত বৈচিত্র্য 

জড় ও সজীব উপাদানে জীবমণ্ডলের পরিকাঠামােগুলো গঠিত । উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ যেমন নিজেদের লক্ষ লক্ষ জিনগত ও প্রজাতিগত বৈচিত্র্য দিয়ে এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলেছে , তেমনি জড় উপাদানের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া ঘটিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে ।

উন্মুক্ত প্রণালী বা ব্যবস্থার অন্তর্গত 

অর্জিত শক্তি বিভিন্ন পুষ্টিস্তরে সুনির্দিষ্ট কাজ করার পর জীবমণ্ডলের অন্তর্গত বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্রের ভিতরে আবদ্ধ না থেকে বেরিয়ে যায় । তাই জীবমন্ডল হল একটি উন্মুক্ত প্রণালী বা ব্যবস্থার অন্তর্গত ।

পদার্থের চক্রাকার আবর্তন ও পরিবহন 

জীবমণ্ডলে সজীব জড় উপাদানগুলির মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক যুক্ত মিথস্ক্রিয়ার ফলে চক্রাকার পথে বিভিন্ন রাসায়নিক পুষ্টি মৌল বা পরিপোষক গুলো শিলামন্ডল , বায়ুমণ্ডল , বারিমন্ডলীয় পরিবেশ থেকে জীবদেহে আসে এবং পুষ্টি সাধন ঘটাতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের দেহে অবস্থান করে পুনরায় পরিবেশে ফিরে যায় ।

শক্তির ধারক 

সৌরশক্তি না থাকলে জীবজগতের অস্তিত্ব থাকত না । জীবমণ্ডল সবুজ উদ্ভিদের মাধ্যমে সৌরশক্তিকে সঞ্চয় করে শক্তির ধারকরূপে কাজ করে ।

শ্রেষ্ঠত্ব 

পৃথিবীর সামগ্রিক আয়তনের বিচারে জীবমণ্ডলের অবস্থান নগণ্য হলেও জীবমণ্ডল সকল আলােচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে । শিল্পায়ন বা নগরায়ণ থেকে শুরু করে  যে-কোনাে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণের প্রথমে ভাবতে হয় জীবকুলের সুরক্ষা ও সংরক্ষণের কথা  । কারণ জীবকুলের অস্তিত্ব বিলােপের অর্থই হল মৃত পৃথিবী । সুতরাং জীবমণ্ডলের গুরুত্ব অপরিসীম এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব অনস্বীকার্য ।

error: Content is protected !!