পুষ্পবিন্যাস কাকে বলে

পুষ্পবিন্যাস কাকে বলে

পুষ্পবিন্যাস কাকে বলে

কান্ডের শীর্ষমুকুল বা কাক্ষিক মুকুল থেকে উৎপন্ন শাখা বা শাখাতন্ত্রের ওপর পুষ্প বা পুষ্প সমূহের বিন্যাস পদ্ধতিকে পুষ্পবিন্যাস বা পুষ্পমঞ্জরি বলে । 

যে বিশেষ শাখার ওপর পুষ্প সজ্জিত থাকে , তাকে পুষ্পদন্ড বা মঞ্জরিদন্ড বলে । অনেক সময় মঞ্জরিদন্ড লম্বা না হয়ে চ্যাপটা থালার মতাে বা পেয়ালার মতাে হয় , একে পুষ্পধার বলে । অনেক গাছে মঞ্জরিদন্ডে ফুলগুলি ক্ষুদ্র পাতার মতাে অংশের কক্ষে জন্মায় , একে মঞ্জুরিপত্র  বলে । কোনাে উদ্ভিদে মঞ্জরিপত্র ও ফুলের বৃতির মাঝখানে ক্ষুদ্র পাতার মতাে বা শল্কের মতাে অঙ্গ গঠিত হয় , এদের মঞ্জরি পত্রিকা বলে । 

পুষ্পবিন্যাসের প্রকারভেদ

পুষ্পবিন্যাস প্রধানত তিন প্রকারের । যথা — i. নিয়ত বা সাইমােজ পুষ্পবিন্যাস , ii. অনিয়ত বা রেসিমােজ পুষ্পবিন্যাস এবং iii. বিশেষ বা স্পেশাল পুষ্পবিন্যাস ।

নিয়ত পুষ্পবিন্যাস :

যে পুষ্পবিন্যাসে পুষ্পদন্ডটি সীমিত বৃদ্ধি সম্পন্ন , পুষ্পদন্ডের শীর্ষে ফুল উৎপন্ন হয় এবং ফুলগুলি পুষ্পদন্ডের ওপর নিম্নোন্মুখভাবে বা অপকেন্দ্রিকভাবে ফোটে , তাকে নিয়ত বা সাইমােজ পুষ্পবিন্যাস বলে । উদাহরণ — জবা , বেল , আকন্দ ইত্যাদির পুষ্পমঞ্জরি ।

অনিয়ত পুষ্পবিন্যাস:

যে পুষ্পবিন্যাসে পুষ্পদন্ডটি অনির্দিষ্টভাবে বর্ধিত হয় এবং পুষ্পদন্ডের শীর্ষে কখনও ফুল সৃষ্টি হয় না এবং ফুলগুলি অগ্রোন্মুখভাবে বা অভিকেন্দ্রিকভাবে ফোটে , তাকে অনিয়ত বা রেসিমােজ পুষ্পবিন্যাস বলে । উদাহরণ — সরষে , রজনিগন্ধা , আম ইত্যাদির পুষ্পমঞ্জরি ।

বিশেষ পুষ্পবিন্যাস :

কতকগুলি উদ্ভিদের বিশেষ আকৃতি বিশিষ্ট পুষ্পবিন্যাস বর্তমান । এটি নিম্নলিখিত প্রকারের হয়—

1. হাইপ্যানথােডিয়াম উদাহরণ — ডুমুর , বট 

2. সায়াথিয়াম উদাহরণ — রাংচিতা , লালপাতা 

3. ভার্টিসিলেস্টার উদাহরণ — রক্তদ্রোণ , তুলসী

error: Content is protected !!