যৌগিক পত্র কাকে বলে

যৌগিক পত্র কাকে বলে

Screenshot ২০২১০৬২০ ১৭১৭১৭
যৌগিক পত্র কাকে বলে

পাতার ফলক যদি গভীরভাবে খন্ডিত হয়ে মধ্যশিরাকে স্পর্শ করে আলাদা আলাদা খন্ডে বিভক্ত হয় তাদের যৌগিক পত্র বলে । 

প্রত্যেকটি খন্ডাশ দেখতে ছােটো পাতার মতাে হয় । আকৃতিতে ছােটো বলে এদের পত্রক ( Leaf let ) বলা হয় । একটি যৌগিক পত্রে কমপক্ষে দুটি বা তার অনেক বেশি পত্রক থাকে । মধ্যশিরাকে পত্ৰক-অক্ষ ( Rachis ) বলে । অক্ষে কাক্ষিক মুকুল থাকে । যৌগিকপত্রকে দু’ভাগে ভাগ করা যায় , যেমন 一 ( 1 ) পক্ষল যৌগিক পত্র ( Pinnate Compound leaf ) এবং ( 2 ) করতলাকার যৌগিক পত্র ( Palmate compound leaf )। 

পক্ষল যৌগিক পত্র  

পত্ৰক-অক্ষের দুপাশে পত্রকগুলি পাখির পালকের মতাে সাজানাে হলে , তাকে পক্ষল যৌগিক পত্র বলা হয় । পক্ষল যৌগিক পত্র বিভিন্ন প্রকার , যেমন ( i ) একপক্ষল ( Unipinnate ) , ( ii ) দ্বিপক্ষল ( Bipinnate ) , ( iii ) ত্রিপক্ষল ( Tripinnate ) , ( iv ) বহুযৌগিক ( Decompound ) ।

একপক্ষল যৌগিক পত্র : 

যে যৌগিক পত্রের ফলক একবার মাত্র খন্ডিত হয় , তাকে একপক্ষল যৌগিক পত্র বলে । এখানে পত্রাক্ষ মাত্র একটি এবং এর দু’পাশে পত্ৰকগুলি পাখির পালকের মতাে সাজানাে থাকে । একপক্ষল যৌগিক পত্রকে আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয় , যেমন- ( a ) সচূড় পক্ষল ( Imparipinnate ) , ( b ) অচূড় পক্ষল  ( Paripinnate ) ।

সচূড় পক্ষল যৌগিক পত্র : যৌগিক পত্রের শীর্ষে একটি পত্রক থাকলে তাকে সচূড় পক্ষল যৌগিক পত্র বলা হয় । উদাহরণ — গােলাপ ( Rosa centifolia ) , অপরাজিতা ( clitoria ternatea ) প্রভৃতি । 

অচূড় পক্ষল যৌগিক পত্র : অনেক সময় যৌগিক পত্রের শীর্ষে দুটি পত্রক অর্থাৎ এক জোড়া পত্রক থাকে । একে অচূড় পক্ষল যৌগিক পত্র বলে । উদাহরণ — তেঁতুল ( Tamarindus indica ) , কল্কাসুন্দা ( Cassia sophera ) প্রভৃতি । 

দ্বিপক্ষল যৌগিক পত্র :

যে যৌগিক পত্রের ফলকটি দুবার খন্ডিত হয় , ফলে পত্রক-অক্ষটির পাশ থেকে শাখা পত্ৰক-অক্ষ ( Secondary axis ) উৎপন্ন হয় তাকে দ্বিপক্ষল যৌগিক পত্র বলে । শাখা পত্রক-অক্ষের দু-পাশে ক্ষুদ্র পত্রকগুলি যুক্ত থাকে । উদাহরণ — লজ্জাবতী ( Mimosa pudica ) , বাবলা ( Acacia arabica ) প্রভৃতি । 

ত্রিপক্ষল যৌগিক পত্র :

এই ধরনের যৌগিক পত্রের ফলক তিনবার খন্ডিত হয় , ফলে পত্রক-অক্ষ থেকে শাখা পত্রক অক্ষ এবং শাখা পত্রক অক্ষ থেকে প্রশাখা পত্রক অক্ষ ( Tertiary axis ) উৎপন্ন হয় । প্রশাখা পত্রক-অক্ষের দুপাশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পত্ৰকগুলি সাজানাে থাকে । উদাহরণ — সজনে ( Moringa ) । 

বহু যৌগিক যৌগিক পত্র :

যে যৌগিক পত্রের ফলক তিনেরও বেশি বার খন্ডিত হয় অর্থাৎ পত্রক-অক্ষটি বহুবার খন্ডিত হয়ে পত্রক বহন করলে তাকে বহু যৌগিক যৌগিক পত্র বলে । উদাহরণ — গাজর ( Daucas carota ) , ধনে ( Coriandrum sativum ) , মৌরি ( Foeniculum vulgare ) ।

করতলাকার যৌগিক পত্র  

পত্ৰকগুলি বৃন্তের শীর্ষে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয়ে আঙুলের মতাে সাজানাে থাকলে তাকে করতলাকার যৌগিক পত্র বলে । করতলাকার যৌগিক পত্রের ক্ষেত্রে পত্রকের সংখ্যা অনুসারে এদের নামকরণ করা হয় । 

একফলক করতলাকার যৌগিক পত্র :

করতলাকার যৌগিক পত্রের বৃন্তের শীর্ষে একটিমাত্র পত্রক থাকলে তাকে একফলক করতলাকার যৌগিক পত্র বলে । উদাহরণ — লেবু ( Citrus ) , বাতাবি ( Citrus maxima ) , কমলা প্রভৃতি । 

দ্বিফলক করতলাকার যৌগিক পত্র : 

বৃন্তের শীর্ষে দুটি পত্রক একই বিন্দুতে মিলিত হলে , তাকে দ্বিফলক করতলাকার যৌগিক পত্র বলা হয় । উদাহরণ — হিঙ্গন ( Balanities aegyptica ) ।

ত্রিফলক করতলাকার যৌগিক পত্র : 

বৃন্তের শীর্ষে একটি বিন্দুতে তিনটি পত্ৰক মিলিত হলে তাকে ত্রিফলক করতলাকার যৌগিক পত্র বলে । উদাহরণ — আমরুল ( Oxalis corniculata ) , বেল ( aegle marmelos ) প্রভৃতি । 

চতুঃফলক করতলাকার যৌগিক পত্র :

বৃন্তের শীর্ষে একটি বিন্দুতে চারটি পত্রক মিলিত হলে তাকে চতুঃফলক করতলাকার যৌগিক পত্র বলা হয় । উদাহরণ — শুশনি ( Marsilea quadifolia ) । 

অঙ্গুলকার করতলাকার যৌগিক পত্র :

বৃন্তের শীর্ষে একটি বিন্দুতে চারটির বেশি পত্ৰক মিলিত হলে তাকে অঙ্গুলকার করতলাকার যৌগিক পত্র বলে । উদাহরণ — শিমুল ( Bombax ceiba ) , শ্বেত হুড়হুড়ে ( Gynandropsis pentaphylla ) প্রভৃতি ।

error: Content is protected !!