কান্ডের প্রকারভেদ

কান্ডের প্রকারভেদ  

বীজের ভ্রূণাক্ষের ভ্রূণমুকুল থেকে সব কান্ডের উৎপত্তি হলেও যে কান্ড স্বাভাবিক কাজে নিয়ােজিত থাকে তাকে তাদের সাধারণ কান্ড বলে । কান্ড সাধারণত শক্ত ও দৃঢ় হয় । এর ফলে উদ্ভিদ মাটিতে ঋজুভাবে দাঁড়াতে পারে । আবার অনেকগুলি উদ্ভিদের কান্ড দুর্বল বলে মাটিতে ঋজুভাবে দাঁড়াতে পারে না । তাই কান্ডকে দুভাগে বিভক্ত করা হয় , যেমন— সবল কান্ড ( Strong Stems ) ও দুর্বল কান্ড ( Weak Stems ) ।

সবল কান্ড

বেশির ভাগ বীরুৎ , গুল্ম ও বৃক্ষ সবল কান্ড বিশিষ্ট হয় । শাখাবিন্যাসের প্রকৃতির উপর সবল কান্ড বিশিষ্ট উদ্ভিদের গঠন ও আকার সম্পূর্ণ নির্ভর করে । নীচে সবল কান্ডের বিভিন্ন প্রকার গঠন ও আকার আলােচনা করা হল । 

অশাখ কান্ড :

এইপ্রকার উদ্ভিদের কান্ড লম্বা ও শাখাবিহীন । উদাহরণ — নারকেল ( Cocos nucifera ) ।

পিরামিডাকার কান্ড :

এইপ্রকার উদ্ভিদের কান্ডটি অনির্দিষ্টভাবে দীর্ঘায়িত হয় এবং এর পার্শ্বদেশী শাখাগুলি অগ্রোন্মুখভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্ভিদকে পিরামিডের মতাে দেখতে হয় । উদাহরণ— দেবদারু ( Polyalthia longifolia ) ।

গম্বুজাকার কান্ড :

এইপ্রকার উদ্ভিদের কান্ড থেকে নিয়ত শাখাবিন্যাস পদ্ধতিতে বহু শাখাপ্রশাখা উৎপন্ন হওয়ায় সমগ্র উদ্ভিদটিকে গম্বুজের মতাে দেখতে হয় । উদাহরণ — বট ( Ficus benghalensis ) । 

তৃণ কান্ড :

কিছু একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের পর্ব নিরেট এবং পর্বমধ্যগুলি ফাঁপা হয় । এরূপ কান্ডকে তৃণ কান্ড বলে । উদাহরণ — বাঁশ ( Bambusa arundinacea ) । 

ভৌম পুষ্পদন্ড :

রজনিগন্ধা ( Polianthes tuberosa ) , পেঁয়াজ ( Allium cepa ) প্রভৃতি উদ্ভিদের প্রকৃত কান্ডটি মাটির নীচে অবস্থান করে এবং পাতাগুলি মাটির ওপরে থাকে । বিশেষ ঋতুতে মাটির নীচের কান্ড থেকে একটি অশাখ বিটপ অংশ পাতাগুলির মধ্যভাগ থেকে মাটির ওপরে উঠে এলে ফুল ধারণ করে । এরকম বিটপকে ভৌম পুষ্পদন্ড বলে ।

দুর্বল কান্ড 

যেসব কান্ড নরম এবং মাটির ওপর খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না , তাদের দুর্বল কান্ড বলে । দুর্বল কান্ডের উদ্ভিদ তিন প্রকারের হয় , যথা— i. ব্রততী ( Creepers ) , ii. অনুগামিক ( Trailers ) , iii. রােহিণী ( Climbers ) । 

ব্রততী :

যেসব দুর্বল কান্ড যুক্ত উদ্ভিদ মাটির ওপর অনুভূমিকভাবে শায়িত অবস্থায় বৃদ্ধি পায় এবং যাদের কান্ডের পর্ব থেকে অস্থানিক মূল নির্গত হয় তাদের ব্রততী বলা হয় । উদাহরণ — দূর্বাঘাস ( Cynodon dactylon ) , কুমড়াে ( Cucurbita maxima ) ইত্যাদি । 

অনুগামিক :

যেসব দুর্বল কান্ড যুক্ত উদ্ভিদ মাটিতে অনুভূমিকভাবে শায়িত অবস্থায় বৃদ্ধি পায় এবং যাদের কান্ডের পর্ব থেকে অস্থানিক মূল সৃষ্টি হয় না , তাদের অনুগামিক বলে । অনুগামিক দু -প্রকারের হয় , যথা— i. শয়ান বা শায়িত ( Procumbent ) ও ii. ঊর্ধ্বাগ্র ( Decumbent ) ।

শয়ান বা শায়িত : অনুগামিক উদ্ভিদের কান্ডের অগ্রভাগটি যখন শায়িত অবস্থায় থাকে , তখন তাকে শয়ান বলে । উদাহরণ — পুঁই ( Basella rubra ) । 

ঊর্ধ্বাগ্র : অনুগামিক উদ্ভিদের কান্ডের অগ্রভাগটি যখন মাটির সামান্য ওপরে উঠে থাকে , তখন তাকে ঊর্ধ্বাগ্র বলে । উদাহরণ — বাসন্তী ( Lindenbergia urticaefolia ) । 

লতানাে :

এই ধরনের কান্ড সম্পূর্ণভাবে ভূমি স্পর্শ করে অবস্থান করে এবং অনুভূমিকভাবে বৃদ্ধি পায় । কান্ডের পর্ব থেকে অস্থানিক মূল সৃষ্টি হয়ে মাটিতে প্রবেশ করে । যেমন — দূর্বা ( Cynodon dactylon ) । 

রোহিণী :

যেসব দুর্বল কান্ডের উদ্ভিদেরা কোনাে অবলম্বনকে কান্ড বা মূল বা আকর্ষের সাহায্যে জড়িয়ে ওপরে ওঠে ও বৃদ্ধি পায় , তাদের রােহিণী বলে ।

রােহিণীদের নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যায় , যথা— i. বল্লি ( Stem climbers )  ii. আকর্ষ রােহিণী ( Tendril climbers ) iii. মূল রােহিণী ( Rootclimbers ) iv. অঙ্কুশ রােহিণী ( Hook climbers ) এবং v. কণ্টক রােহিণী ( Thorn climbers ) ।

error: Content is protected !!