উদ্ভিদের মূল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

উদ্ভিদের মূল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রধান মূল : 

ভ্রূণমূল থেকে উৎপন্ন শাখা প্রশাখা যুক্ত স্থায়ী মূলকে প্রধান মূল বা স্থানিক মূল বলে । উদাহরণ – অশ্বত্থ, বট ,  জাম , আম ইত্যাদি ।

গুচ্ছ মূল : 

মৌলিক মূল নষ্ট হয়ে গিয়ে বীজপত্রাবকান্ড থেকে যে অসংখ্য সরু সরু সূতোর মতাে মূল গুচ্ছাকারে উৎপন্ন হয় তাদের গুচ্ছ মূল বলে । উদাহরণ – ধান , গম , ভুট্টা প্রভৃতি ।

অস্থানিক মূল : 

ভ্রূণমূল ছাড়া উদ্ভিদের অন্য কোনাে অঙ্গ ( কান্ড , পাতা ) থেকে যে মূল সৃষ্টি হয় তাকে অস্থানিক মূল বলে । উদাহরণ –  কেয়া ও বটের কান্ড থাকে এবং পাথরকুচি গাছের পাতা থেকে অস্থানিক মূল সৃষ্টি হয় ।

শাঙ্কবাকার মূল : 

প্রধান মূল যখন খাদ্য সঞ্চয় করে শঙ্কুর আকার ধারণ করে তখন তাকে শাঙ্কবাকার মূল বলে । উদাহরণ – গাজর ।

শালগমাকার মূল : 

প্রধান মূল যখন পরিবর্তিত হয়ে শালগমের আকার ধারণ করে তখন তাকে শালগমাকার মূল বলে । উদাহরণ – শালগম ও বীট ।

মূলাকার মূল : 

প্রধান মূল যখন পরিবর্তিত হয়ে মুলাের আকার ধারণ করে তখন তাকে মূলাকার মূল বলে । উদাহরণ – মুলো ।

স্তম্ভ মূল : 

কান্ডের শাখা প্রশাখা থেকে যে মূল উৎপন্ন হয়ে মাটিতে প্রবেশ করে স্তম্ভকার ধারণ করে তাকে স্তম্ভ মূল বলে । উদাহরণ – বটগাছ ।

ঠেস মূল : 

কান্ডের গােড়ার পর্ব থেকে যে মূল উৎপন্ন হয়ে তির্যকভাবে মাটিতে প্রবেশ করে তাদের ঠেস মূল বলে । উদাহরণ – কেয়া , ভুট্টা , আখ প্রভৃতি ।

আরােহী মূল : 

রােহিনী শ্রেণির উদ্ভিদদের পর্ব থেকে যে অস্থানিক মূল উৎপন্ন হয়ে কোনাে আশ্রয়দাতাকে জড়িয়ে আরােহণে সাহায্য করে তাকে আরােহী মূল বলে । উদাহরণ – পান , গজপিপুল প্রভৃতি ।

সংকোচী মূল : 

ভূনিম্নস্থ কান্ড থেকে নির্গত যে সব অস্থানিক মূল জল সঞ্চয় করে স্ফীত হয় এবং জল ত্যাগ করে সংকুচিত হয় , তাদের সংকোচী মূল বলে । উদাহরণ – কলাবতী , মানকচু ।

কণ্টক মূল : 

কিছু উদ্ভিদের গােড়া থেকে উৎপন্ন যে মূল কণ্টকের আকার ধারণ করে তাকে কণ্টক মূল বলে । উদাহরণ – নারকেল , তাল প্রভৃতি ।

অধিমূল : 

কান্ডের গােড়া থেকে যে অস্থানিক মূল উৎপন্ন হয়ে চ্যাপ্টা হয়ে তার আকার ধারণ করে তাকে অধিমূল বলে । উদাহরণ – শিমুল গাছ ।

শ্বাসমূল : 

লবণাম্বু উদ্ভিদের কিছু শাখা – প্রশাখা মূল অভিকর্ষের বিপরীতে মাটির উপরে উঠে আসে এবং বায়ু থেকে অক্সিজেন শােষণ করে , এরূপ মূলকে শ্বাস মূল বলে । উদাহরণ – সুন্দরী , গরাণ প্রভৃতি ।

পরাশ্রয়ী মূল : 

পরাশ্রয়ী উদ্ভিদের কিছু অস্থানিক মূল বায়ুতে ঝুলে থাকে এবং বায়ু থেকে জলীয় বাষ্প শােষণ করে , এদের পরাশ্রয়ী মূল বলে । উদাহরণ – রাস্না , অর্কিড ।

আত্তীকরণ মূল : 

যে সব অস্থানিক মূল ক্লোরােফিল যুক্ত , সালােকসংশ্লেষে সহায়ক এবং কান্ডের পর্ব থেকে উৎপন্ন হয় তাদের আত্তীকরণ মূল বলে । উদাহরণ – গুলঞ্চ ও পানিফল ।

চোষক মূল : 

যে সব অস্থানিক মূল আশ্রয়দাতার ভিতরে প্রবেশ করে পুষ্টিরস -শােষণ করে তাদের চোষক মূল বলে । উদাহরণ – স্বর্ণলতা ।

অর্বুদ মূল : 

যে সব অস্থানিক মূলের অগ্রভাগ খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে অর্বুদের আকার ধারণ করে তাদের অর্বুদ মূল বলে । উদাহরণ – আম , আদা ।

মালাকাকার মূল : 

যে সব অস্থানিক মূল খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে মালার আকার ধারণ করে তাকে মালাকাকার মূল বলে । উদাহরণ – কাকরোল , চুপড়ি আলু ।

বলয়ী মূল : 

খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে যে সব অস্থানিক মূল বলয় বা আংটির আকার ধারণ করে তাদের বলয়ী মূল বলে । উদাহরণ – ইপিকাক ।

error: Content is protected !!